ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | লোহাগাড়ার গর্বিত সন্তান মুক্তিযোদ্ধা হাজী গোলাম কাদের

লোহাগাড়ার গর্বিত সন্তান মুক্তিযোদ্ধা হাজী গোলাম কাদের

image_printপ্রিন্ট করুন

49

নিউজ ডেক্স : মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম বীর মরহুম হাজী গোলাম কাদের। লোহাগাড়ার এক কৃতি সন্তান। ১৯০৫ সালে জন্ম। ২০০৩ সালে ১৭ জুন মারা গেছেন। আলোকময় এ বীরকে আমরা ভুলে যেতে পারি না কিংবা ভুলে যেতে দিতে পারি না। তার অমূল্য জীবনের প্রতিটি অক্ষর, প্রতি পদচিহ্ন ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ। যতদিন দেশে থাকবে, পতাকা থাকবে ততদিন তাকে জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করবে, লোহাগাড়ার মানুষজনেরা এমনটিই বলছেন। এ বীর ১৯৬৮ সনে লোহাগাড়া ইউপি মেম্বার, স্বাধীনতা পরবর্তী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৭১ সনে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সংগঠক, যোদ্ধা ছিলেন। তার বাড়ি লোহাগাড়া উপজেলার দর্জিপাড়ায়। তিনি থানা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন। লোহাগাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। তার জীবদ্দশায় বহু সাংস্কৃতিক, সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। থানা ওয়ারী দ্বিতীয় পর্বের বাছাইকৃত মুক্তিযোদ্ধা তালিকার জাতীয় তালিকার ১৯১ পৃষ্টা থানা সাতকানিয়া (৩) ৪নং মুক্তিবার্তার ০২০২০১০০৭৫ ও বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত সংখ্যা ২০০৬ সালে ২২ জুন প্রকাশিত ৫৮৩৯ পৃষ্টার ৩৬৭৩ নং ক্রমিকে এ বীরের নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে। যেটি তার পরিবার পরিজনরা জানেনই না। নাম লিপিবদ্ধ ও সনদ পাইয়ে দেয়ার নামে অনেকে তাদেরকে বিভ্রান্ত করে বলে জানা যায়। পরিবারের সদস্যরা শুধু একটি সাময়িক সনদপত্রের অভাবে অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। নিজেরা যে একজন গর্বিত বীরের উত্তরাধিকারী সেটিও এ যাবৎ পরিচয় দিতে পারেননি। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক সময় লোহাগাড়া এসেছিলেন। সাতকানিয়া কাচারী মাঠে ছয় দফা প্রচারের মিটিং করেছিলেন। তখন উকিল জিয়াবুল হক সাতকানিয়ার নাম করা উকিল। তার ভূমিকা ছিল অনন্য; অসাধারণ। তিনি আমিরাবাদের কৃতি সন্তান ছিলেন। তার নামের সাথে বঙ্গবন্ধুর মধুর পরশ পাওয়া অনেকের নাম বৃহত্তর সাতকানিয়ায় রয়েছে। তার মধ্যে আলহাজ্ব গোলাম কাদের একজন। বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবে তিনি, অধ্যাপক নাজিম উদ্দিন, সোলতান আহমদ কন্ট্রাকটর, আলতাফ মিয়া চৌধুরী (বড়হাতিয়া), ডাক্তার মোহাম্মদ এমরান, শমশুল হক চৌধুরীসহ অনেকের নাম স্বরণ করা যায়। যারা ৭০ এর নির্বাচনে তদানীন্তন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আবু সালেহ’র সহচর হিসাবে জয়বাংলা শ্লোগানকে বুকে ধারণ করে বাঙ্গালীর অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করেছিলেন।

হাজী গোলাম কাদেরকে বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হয়। তিনি একাধারে সফল ব্যবসায়ী। অন্যদিকে দক্ষ সংগঠক। বঙ্গবন্ধু যখন জাতিকে সংগঠিত করে স্বাধিকার সংগ্রামের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতার দিগন্তে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন হাজী সাহেব ছিলেন তরুণ। ইউপি মেম্বার হিসাবে জাতিরজনকের পক্ষে কাজ করা চাট্টিখানি কথা নয়। তখন মুসলিমলীগের দোর্দন্ড প্রতাপ। মুসলিমলীগের চেলাচামুন্ডার জন্য বৃহত্তর সাতকানিয়ায় আওয়ামীলীগের আদর্শ প্রচার করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। তিনি কঠিনের পক্ষালম্বন করেছিলেন। ছয় দফা আন্দোলন, গণ অভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধে কর্মী, সংগঠক ও নেতার ভূমিকা পালন করেছিলেন। এজন্য তাকে কম মূল্য দিতে হয়নি। তাকে নাফরমান, ভারতীয় দালাল ইত্যাকার বিভিন্ন বিশেষনে অভিহিত করা হয়েছিল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তার সাথে অনেককে দেখা যেত। জয় বাংলা শ্লোগান নিয়ে তিনি এলাকার মানুষজনকে সংগঠিত করে আওয়ামীলীগের নৌকার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেন। তদানীন্তন এমসিএ আবু ছালেহ’র একজন বিশ্বস্থ সহচর হিসাবে দিনরাত কাজ করেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় রসদ যোগাড়ে এ বীরের ভূমিকা অত্যন্ত উজ্জল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যিনি স্বপ্ন দেখে গেছেন একটি আলো ঝলমল সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। স্বাধীনতা পরবর্তী বিধ্বস্থ বাংলাদেশ। সালেহ সাহেবকে দেখা যেত লোভ লালসার উর্ধে উঠে দেশকে পুনগঠনের মিছিলের অন্যতম সারথী হিসাবে। তিনি অনেকের মত হাজী গোলাম কাদেরকে বিশ্বাস করতেন। ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু আওয়ামীলীগের টিকেটে চট্টগ্রাম- ১৪ নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচন করেন। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন। মূলতঃ তারই নেতৃত্বে নির্বাচন পরিচালিত হচ্ছিল। মরহুম সফিয়র রহমান সওদাগর তখন আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি বাবুলের সাথে কর্মকান্ড সমন্বয় করতেন। তখন হাজী গোলাম কাদের বদিউর রহমান মাকেটে দোকান করতেন। সেখানে আবু ছালেহ সহ প্রবীণ বাঘা বাঘা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ আসতেন। যারা তাদের মত জয় বাংলার পক্ষে ভোট ভিক্ষা করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হানিফার চরের ক্যাম্পের কথা কি ভোলা যায় ? শফি সওদাগর, হাজী গোলাম কাদেরসহ অনেকের ভূমিকা ছিল ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম প্রেরণার চেরাগ। যে চেরাগের আলোতে পথ চলেছেন অনেকে। আজ সে সব কথা বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাচ্ছে। আবু ছালেহ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কিংবদন্তি। তিনি বেঁচে আছেন। হাজী সাহেব নেই। নতুন প্রজন্মের অনেকে ছালেহ ভাইকে চিনে না। যারা চিনাবেন তারা রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছেন। অথবা অন্ধকারে। চলুন অন্ধকারের অর্গল ভাঙ্গতে ব্রতী হই। হাজী গোলাম কাদেরের পথই ইতিহাসের সঠিক পথ। এ পথে যত তাড়াতাড়ি চলা যায় ততই সমৃদ্ধ হবে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব গাথা। জাতির সঠিক ইতিহাস। চলুন শুরু করি আজই। এক্ষুনি।

লেখক : মোঃ জামাল উদ্দিন, দৈনিক আজাদী, লোহাগাড়া প্রতিনিধি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!