Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘ব্যবহারকারী বান্ধব’ করা হচ্ছে

চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘ব্যবহারকারী বান্ধব’ করা হচ্ছে

image_printপ্রিন্ট করুন
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নিউজ ডেক্স : চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ বলেছেন, ম্যানেজমেন্টে কিছু পরিবর্তন এনে চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতা বহু গুণে বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া চলছে। নতুন টার্মিনাল নির্মাণ, ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ, ক্যাপিটাল ড্রেজিং ইত্যাদি নানা বৃহৎ প্রকল্পের পাশাপাশি সিস্টেমে কিছুটা পরিবর্তন এনে সুফল ঘরে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের রপকল্প–২০২১ সামনে রেখে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে একটি ‘ব্যবহারকারী বান্ধব’ বন্দরে পরিণত করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (বন্দর দিবস) উপলক্ষে প্রচার মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বন্দরের শহীদ ফজলুর রহমান মুন্সী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনি এসব কথা বলেন। বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, খোলা পণ্য (কার্গো), কন্টেনার ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি সামাল দেওয়া চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রূপকল্প সামনে রেখে স্ট্র্যাটেজিক মাস্টারপ্ল্যানের ভিত্তিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে মোট ৩০১৪টি জাহাজে চট্টগ্রাম বন্দরে ৭ কোটি ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৫৮৪ টন কার্গো, ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯০৯ টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিং করেছিল। ২০১৭ সালে এসে মোট ৩৩৭০টি জাহাজে ৮ কোটি ৫২ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪৮ টন পণ্য এবং ২৬ লাখ ৬৭ হাজার টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। কার্গো এবং কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ের এই ধারাবাহিকতায় ২০৪৩ সালে দেশের মোট কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৪ মিলিয়ন টিইইউএস।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, কিন্তু ২০২৮ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর, বে টার্মিনাল, লালদিয়া টার্মিনাল, পতেঙ্গা টার্মিনালসহ চট্টগ্রাম বন্দরের সব সক্ষমতা ব্যবহার করে ৭ মিলিয়ন টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিং করা যাবে। বাকি ৭০ লাখ টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য নতুন পোর্ট লাগবে। আর এজন্যই পায়রা পোর্ট, মীরসরাই এবং সীতাকুণ্ডে পোর্ট করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার অগ্রসর হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের দিকনির্দেশনায় নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনালের (এনসিটি) জন্য হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে ৯টি রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৪টি স্ট্র্যাডল কেরিয়ার, ৫টি কন্টেনার মুভার, ১টি রেল মাউন্টেড গ্যান্ট্রি ক্রেন সংগ্রহ করে বন্দরের ইক্যুইপমেন্ট ফ্লিটে সংযুক্ত করেছি। ৩টি স্ট্র্যাডল কেরিয়ার শিপমেন্ট করা হয়েছে। শিগগির বন্দরে পৌঁছবে।

তিনি বলেন, ৬টি শিপ টু শোর গ্যান্ট্রি ক্রেন, ২টি আরটিজি, ১টি মোবাইল হারবার ক্রেন সংগ্রহের আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। ৪টি শিপ টু শোর গ্যান্ট্রি ক্রেন সংগ্রহের দরপত্র মূল্যায়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ৬টি আরটিজির এলসি খোলা প্রক্রিয়াধীন ও ৩টি আরটিজির দরপত্র মূল্যায়নাধীন আছে। ৩টি স্ট্র্যাডল কেরিয়ার সংগ্রহের জন্য শিগগির চুক্তি সম্পাদন হবে।

বন্দর চেয়ারম্যান জানান, বে টার্মিনালের প্রস্তাবিত ৯০৭ একর জায়গার মধ্যে ৮৩৯ একর খাস জমি রয়েছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি মাত্র ৬৮ একর। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সরকার অনুমোদন করেছে। জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আগামী ৩০ মের মধ্যে এই ভূমি বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, শুরুতে আমরা একটি ইয়ার্ড এবং ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করব। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে খালাসের পর রপ্তানি পণ্য বোঝাই কন্টেনার প্রাইমমুভারের সাহায্যে বে টার্মিনালের ইয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হবে। ওখানে কন্টেনার খুলে ট্রাকে পণ্য সরবরাহ করা হবে। ফলে বন্দরের অভ্যন্তরে বর্তমানে যে হাজার হাজার ট্রাক প্রতিদিন ঢুকছে, এদেরকে আর বন্দরের ইয়ার্ডে প্রবেশ করতে হবে না। বে টার্মিনালের ইয়ার্ড থেকেই তারা পণ্য নিয়ে চলে যাবে। আবার বন্দর থেকে এলসিএল কন্টেনারগুলো বাইরে নিয়ে যাওয়া হলে বন্দরের অভ্যন্তরে জায়গা বৃদ্ধি পাবে। জট কমে যাবে। কাজে গতিশীলতা আসবে। এভাবে বিভিন্ন সিস্টেমে কিছুটা পরিবর্তন এনে বন্দরের কাজের গতিশীলতা বাড়ানো এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কমডোর জুলফিকার আজিজ বলেন, ব্রিটিশ–ইন্ডিয়া সরকার ১৮৮৭ সালে পোর্ট কমিশনার্স অ্যাক্ট প্রণয়ন করে, যা ২৫ এপ্রিল ১৮৮৮ সালে কার্যকর হয়। তখন থেকে চট্টগ্রাম বন্দর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। তাই প্রতি বছর ২৫ এপ্রিল বন্দর দিবস উদযাপন করা হয়। ১৩১তম বন্দর দিবস উপলক্ষে এবারই প্রথম অবসরে যাওয়া বন্দরের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বন্দরের সদস্য কমডোর শাহিন রহমান, ক্যাপ্টেন খন্দকার আকতার হোসেন ও কামরুল আমিন, পরিচালক (প্রশাসন) সাদেকা বেগম, পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কর্নেল আবদুল গাফফার, পরিচালক (পরিবহন) গোলাম সারোয়ার, পরিচালক (বিদ্যুৎ) আশীষ চৌধুরী, বন্দর সচিব ওমর ফারুক, প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) নাজমুল হক, চিফ অডিট অফিসার রফিকুল আলম, উপ–ব্যবস্থাপক (ভূমি) মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!