ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | কর্ণফুলীতে দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম

কর্ণফুলীতে দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বন্ধ রয়েছে ১ বছর ৬ মাস ৯ দিন হয়ে গেল। মাঝখানে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম বন্দর নিজেদের কিছু স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা ছাড়া আর হাত দেয়া হয়নি উচ্ছেদে। এর মধ্যে গত ৮ মার্চ থেকে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর উচ্ছেদ অভিযান শুরু নিয়ে আলোচনায়ও চিড় ধরে। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ করা ১০ একর জায়গায় আবারো অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে।

কর্ণফুলী উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু নিয়ে আইনি লড়াইকারী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ জানান, করোনা শুরু হওয়ার এক মাস আগে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেদের জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সর্বশেষ সময় নিয়েছিল হাই কোর্ট থেকে। করোনার কারণে আদালত বন্ধ থাকায় তা আর অগ্রসর হয়নি। কিন্তু এর আগের যে আদেশগুলো আছে তা দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরো বলেন, উচ্ছেদ ঠেকাতে করা মামলা আপিল বিভাগ থেকে আমি দুইবার ক্লিয়ার করে দিয়েছি। এ অবস্থায় প্রশাসন চাইলে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতে পারে। যদি ব্যত্যয় হয় তাহলে সময় সুযোগ বুঝে আবার আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব। এদিকে কর্ণফুলী নদীর তীরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতে সরব হয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম। একইসাথে কর্ণফুলীর তীরে নতুন করে বরফকল স্থাপনের প্রতিবাদ করা হয় ফোরামের মানববন্ধন থেকে। সদরঘাট, মাঝিরঘাট কেন্দ্রিক ৫ দিনের উচ্ছেদ অভিযানে ১০ একর জায়গা উদ্ধার হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে অভিযান থমকে থাকায় কর্ণফুলীর তীরে নতুন স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কর্ণফুলীর তীরে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে অভিযান দল বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে।

তথ্য অনুযায়ী, হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ আদেশ আসার ৯০২ দিন পর ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলী তীরে অবৈধ স্থাপনায় হাত পড়েছিল জেলা প্রশাসনের। সদরঘাট এলাকা থেকেই এ অভিযান শুরু হয়েছিল। টানা ৫ দিন অভিযান চালিয়ে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানের মাধ্যমে নদীর জায়গা দখল করে গড়ে তোলা ২৩০টি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ৪ যুগেরও বেশি সময় ধরে কর্ণফুলীর তীরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদে প্রথম পর্যায়ে টানা অভিযান চলে পতেঙ্গা সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিলুর রহমান ও ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে।

২০১০ সালের ১৮ জুলাই পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ কর্ণফুলী নদী দখল, মাটি ভরাট ও নদীতে সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে নদীর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দিতে বলেন।

আদালতের নির্দেশের পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর কর্ণফুলীর দুই তীরে সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করে। নগরের নেভাল অ্যাকাডেমি সংলগ্ন নদীর মোহনা থেকে মোহরা এলাকা পর্যন্ত অংশে ২০১৫ সালে জরিপের কাজ শেষ করা হয়। জরিপে নদীর দুই তীরে প্রায় আড়াই হাজার অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসন। প্রতিবেদনটি ২০১৫ সালের ৯ নভেম্বর উচ্চ আদালতে দাখিল করা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ কর্ণফুলীর দুই তীরে গড়ে ওঠা স্থাপনা সরাতে ৯০ দিনের সময় বেঁধে দেন। ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ চেয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সর্বশেষ অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের আশ্বাসে উল্লেখিত উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছিল জেলা প্রশাসন। এরপর প্রথম পর্যায়ের উচ্ছেদের পর ভূমিমন্ত্রী কর্ণফুলীর উত্তর পাড়ে পরিদর্শনেও যান। এসময় তিনি কর্ণফুলীর পাড়কে সজ্জিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন।

এদিকে কর্ণফুলী নদী দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে নতুন করে বরফ কলসহ বিভিন্ন স্থাপনা করার প্রতিবাদে গতকাল রোববার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন করেছে পাঁচটি সংগঠন। বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা আছে। আদালতের নির্দেশে ২২৮৫টি স্থাপনার অবৈধ দখলদারের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নতুন করে কর্ণফুলী দখল করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামে লিখিত অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম।

বক্তারা আরো বলেন, কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর নিচে ও চাক্তাই রাজাখালী এলাকায় দুই তৃতীয়াংশ নদী অবৈধভাবে দখল করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। এসব এলাকায় কর্ণফুলী নদী খালে রূপান্তরিত হয়েছে বলেও তথ্য দেন তারা। বক্তারা অচিরেই এইসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনকে এক মাসের আল্টিমেটাম দেন।
মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অধ্যাপক নোমান সিদ্দিকির সভাপতিত্বে মানববন্ধন পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমেদ, ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সোহেল মো. ফখরুদ্দিন ও অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারী অন্য সংগঠনগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন, গ্রিন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল।

এদিকে, কর্ণফুলীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরুর বিষয়ে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হিসেবে দায়িত্ব নেয়া এস এম জাকারিয়া জানান, কর্ণফুলী উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে সর্বশেষ আপডেট কী আছে তা দেখে বলতে হবে। দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!