Home | উন্মুক্ত পাতা | একটু ভাবুন : কোরবানিতে বেশি দামে গরু কিনবেন?

একটু ভাবুন : কোরবানিতে বেশি দামে গরু কিনবেন?

image_printপ্রিন্ট করুন

মোহাম্মদ আবদুল মালেক : ঈদুল আজহা আমাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান। আল্লাহর নামে পশু জবাই দিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সঁপে দেওয়া। আল্লাহর নামে যখন কোরবানি দেব তখন স্বভাবতই প্রশ্ন আসে, কত সুন্দর ও নিখুঁত পশু কোরবানি দেওয়া যায়।

ধর্মের বিধান অনুয়ায়ী, একটা গরুতে সাতজন ও একটি ছাগলে একজনের কোরবানি দেওয়া যায়। কথা হলো, যে পশুটা আমি কোরবানি করতে যাচ্ছি তা অবশ্যই সুন্দর এবং নিখুঁত হতে হবে। কারণ এটা আল্লাহর উদ্দেশে নিবেদিত।

একটি পশু ত্রিশ-চল্লিশ হাজার টাকা থেকে বিশ-ত্রিশ লাখ টাকায় পাওয়া যায়। ক্ষেত্রবিশেষে অনেকে আরো বেশি দামে কিনেন। আপনি একটি সুন্দর, ভালো পশু এক বা দুই লাখ টাকায়ও পেতে পারেন। আমি যে কথাটা বলতে চাই তা হলো, আপনি যত টাকা দিয়েই পশু কিনেন না কেন, তা দিয়ে ভালো কোরবানি হবে।

কয়েক দিন আগে আজাদীতে ‘সম্রাট’ নামে একটি গরুর ছবি ছাপা হয়েছে। এর দাম হাঁকা হয়েছে ৭ লাখ টাকা। এর আগে টেলিভিশনে একটি গরু দেখানো হয়েছে, যার দাম হাঁকা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। আমি নিশ্চিত, এই গরুর ক্রেতা আছে এবং তা বিক্রিও হবে। তা না হলে বর্তমানে এমন কোনো নির্বোধ লোক নেই যে এই কোভিড সময়ে এই পশু মোটাতাজাকরণে এত টাকা বিনিয়োগ করবে। কয়েক দিন আগে অক্সিজেন এলাকার চার বন্ধু মিলে গাড়িতে করে বেনাপোল গিয়েছিল গরু কিনতে। সেখানে সস্তায় গরু কিনে চট্টগ্রামে এনে বিক্রি করবে। কারণ চট্টগ্রামবাসী কোরবানির পশুতে একটু বেশি টাকা খরচ করে। কিন্তু বিধি বাম। গরু নিয়ে তাদের যে স্বপ্নের শুরু হয়েছিল দুর্ঘটনায় তা নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। আমাদের মনে রাখতে হবে, সকলের সব স্বপ্ন পূরণ হয় না।

যারা দেড়-দুই লাখ টাকা কিংবা তারও বেশি দামে গরু কিনবেন তাদের উদ্দেশ্যে এই লেখা। আপনি যদি ৫, ৭, ১০ বা ২০ লাখ টাকায় গরু কেনার বাজেট করে থাকেন, একটু চিন্তা করে দেখুন, ১ বা ২ লাখ টাকা দিয়ে একটা সুন্দর, সুস্থ, নিখুঁত গরু কিনে আল্লাহর নামে কোরবানি করে বাকি টাকাটা ক্যানসার হাসপাতাল বা এতিমখানায় দান হিসাবে দেওয়া যায় কিনা। আবার আপনার পাড়া বা মহল্লায়, কোন প্রতিবেশী ছাত্র-ছাত্রী যদি টাকার অভাবে লেখাপড়া করতে না পারে আপনি এই টাকা দিয়ে তাদের লেখাপড়ার পথও সুগম করতে পারেন। আর আপনার বাজেট যদি আরো বড় হয়, তাহলে কোনো প্রাইভেট টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটকে যন্ত্রপাতি কিনে দিয়ে সাহায্য করতে পারেন। যা হবে সদকায়ে জারিয়া। ওই এতিমখানা, ইনিস্টিটিউট যতদিন থাকবে ততদিন তার সওয়াব পাবেন।

বর্তমানে শহরে আপনি এমন কোনো ঘর পাবেন না যে ঘরে টেলিভিশন, ফ্রিজ, মাইক্রোওভেন, ইলেকট্রিক হিটার নেই। এখন ছোট-বড় সকলের কাছেই আছে মোবাইল সেট। এসব যন্ত্রপাতি ঠিক করার জন্য দক্ষ জনবলের প্রয়োজন। আপনার দেওয়া সাহায্যে যদি টেকনিক্যাল স্কুল থেকে দক্ষ শিক্ষার্থী বের হয়, তাহলে তারা হবে সেল্ফ এমপ্লয়েড। এতে একেকটি পরিবারে উপার্জনের পথ বেরিয়ে আসবে। একে একে অনেক পরিবার হবে স্বনির্ভর।

আশা করি, যারা বেশি বাজেটের কোরবানির কথা চিন্তা করেছেন তারা একটু ভেবে দেখবেন। একটি পশু কোরবানি দিয়ে শেষ করবেন নাকি সদকায়ে জারিয়ার ব্যবস্থা করবেন?

লেখক : সম্পাদক, দৈনিক আজাদী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!