Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | উখিয়া থানার ক্যাশিয়ারের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট জনগন

উখিয়া থানার ক্যাশিয়ারের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট জনগন

image_printপ্রিন্ট করুন

K H Manik Ukhiya Pic 21-02-2018 (2)

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া : কক্সবাজারের উখিয়া থানার ক্যাশিয়ার নামধারী কনষ্টেবল আমিনের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট নিরীহ ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। এই পুলিশ কনষ্টেবল সীমান্ত এলাকার চিহ্নিত মাদক ও চোরকারবারীদের কাছ থেকেও হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সে নিজেকে উখিয়া থানা পুলিশের ক্যাশিয়ার দাবী করে দিন-রাত চোরকারবারী ও মাদক সিন্ডিকেটের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে অবৈধ লেনদেন করে যাচ্ছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজসে অবৈধ পন্থায় কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ারও গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে। এই পুলিশ কনষ্টেবলকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে খোদ পুলিশের পক্ষ থেকেও নানা কথা উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশ হেডকোয়াটার্সে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ সভায় নতুন আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন, জনগণের মধ্যে একটি ধারণা রয়েছে, পুলিশের কোন কোন সদস্য মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সংশ্লিষ্ট। এতে পুলিশের ইমেজ চরম ভাবে নষ্ট হচ্ছে। এই ইমেজ পুন:উদ্ধারে পুলিশকে সব ধরণের মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। আর যারা মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাদের এই পদ থেকে সরে আসতে কঠোর বার্তা দেন। তিনি এও বলেন, কোন ব্যক্তির দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না। এদিকে পুলিশের চাকুরী বিধি উপেক্ষা করে দীর্ঘ ২ বছরের অধিক সময় ক্যাশিয়ার আমিন উখিয়া থানায় বহাল তবিয়তে থাকায় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিতর্কিত কনষ্টেবল যত্রতত্র পুলিশের নাম ব্যবহার করে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও মাদক সিন্ডিকেটের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে।
উখিয়া থানায় “ওসি আসে, ওসি যায়” কিন্তু ক্যাশিয়ার আমিনের বদলী হয় না। আমিন দীর্ঘদিন উখিয়া থানায় চাকুরী করার সুবাদে অপরাধ জগতের সব পথ-ঘাট ও চোরাকারবারিদের সাথে জানা শোনা থাকায় সহজে চাঁদা আদায় করা তার জন্য সহজ। অভিযোগ উঠেছে, ক্যাশিয়ার নামধারী এই আমিন পুলিশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে যেনতেন ভাবে বড় বড় নিষিদ্ধ ইয়াবা কারবারির কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। নিজেকে উখিয়া থানার ওসির আস্থাভাজন দাবী করে যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছে তিনি। দম্ভোক্তির স্বরে তার সাথে পুলিশ সুপারের সুসম্পর্ক রয়েছে বলে যাকে তাকে হুমকি দিয়ে কোণ্ঠাসা করতে চায় আমিন। উখিয়া সদরের বেশ কয়েকজন ইয়াবা ব্যবসায়ীর সাথে তার দহরম মহরম সম্পর্ক থাকায় তাকে মোটা অংকের টাকা কামায় করতে বেগ পেতে হয় না। উখিয়া থানায় চাকুরি করে বর্তমানে তিনি কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছে বলে বিভিন্ন সুত্রে খবর পাওয়া গেছে। এমনকি তার গ্রামের বাড়িতে বিলাস বহুল বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে। তার সাথে উখিয়া থানার কমপক্ষে ১শ জন অবৈধ চোরাকারবারী ও ২শ জন মাদক সিন্ডিকেট সদস্যের সাথে তার সাপ্তাহিক, মাসিক অবৈধ লেনদেন হয়। কেউ তাকে চুক্তি অনুযায়ী টাকা দিতে বিলম্ব হলে তাদের মালামাল আটক করে থানায় সোপর্দ করে। এছাড়াও এই ক্যাশিয়ার পুলিশের মান ইজ্জত ভুলুণ্ঠিত করে এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। পুলিশ প্রশাসনে কি তার এই সব দেখার কেউ নেই, এমন প্রশ্ন নানা শ্রেণির মানুষের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উখিয়ার বিভিন্ন মুদির দোকান, জ্বালানী তেলের দোকান, পরিবহণ সেক্টর, অবৈধ স’মিল, বালির মহাল, জুয়ার আসর, ইট ভাটা থেকে শুরু করে প্রতিনিয়ত হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে উখিয়ার নিরীহ ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। তার ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে হুমকি ধমকি দিয়ে জেল হাজতে পাঠানোর ভয়-ভীতি দেখায়। উখিয়ার সচেতন মহল এই চাঁদাবাজ কনষ্টেবল আমিনকে দ্রুত প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য পুলিশ মহা পরিদর্শকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল খায়ের বলেন, কনষ্টেবল ক্যাশিয়ার আমিনের ব্যাপারে কোন অভিযোগ থাকলে তাঁকে জানানোর পরামর্শ দেন। আমিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!