Home | শীর্ষ সংবাদ | শুধুই গল্প

শুধুই গল্প

584

ফিরোজা সামাদ : বেশ কিছুক্ষন আনমনা হয়ে বসে থাকার পর ঘড়িতে ন’টা বাজার আওয়াজে ঘোর কাটলো রানু’র।বাইরের রাধাচূড়া গাছটা ফুলে ফুলে হলুদ হয়ে আছে। গাছের নিচেও কে যেনো বিছিয়ে রেখেছে হলুদ রঙের গালিচা।দুটো শালিক পাখি ঘুরে বেরাচ্ছে ওই হলুদ গালিচার উপর আর খুঁটে খুঁটে কি যেনো খাচ্ছে। কি সুখের জীবন ওদের তাই না? রানুর ইচ্ছে করে পরজন্ম যদি থাকে তাহলে ও যেনো পাখি হয়েই জন্মায়। বাঁধন বিহীন জীবনে বাঁধন ছাড়া হয়ে যেখানে সেখানে ইচ্ছে উড়ে যেতে পারবে।ওড়ার কোনো সীমারেখা থাকবে না ওর !

দিনতিনেক আগে হঠাৎ করে ফেসবুকে একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পায় রানু।নামটা ভীষণ চেনা, শায়ন্ত। কিন্তু ; সেই ছোটোবেলার শায়ন্তের সাথে তো কোনো মিল নেই এই ফেসবুকের ভদ্রলোকের!

সেই ছটফটে বেপরোয়া দামাল ছেলেটা কি করে এমন দায়িত্ববান পুরুষ হয়ে গেল? কিছুতেই মেলাতে পারছিলো না রানু । শেষমেশ গ্রহন করল বন্ধুত্ব। সুদুর ইউরোপ থেকে আসা মুখছবির বন্ধুত্ব !

আজ সকালে ইনবক্সে নক করে শায়ন্ত। কাঁপা কাঁপা হাতে হ্যালো লেখে রানু। কিন্তু; ওর হাত কাঁপছে কেনো ? সেদিন কি সত্যিই কোনো অনুভূতিরা দাগ কাটেনি রানুর মনে! যেদিন শায়ন্ত ওর চোখে চোখ রেখে বলেছিলো ভীষন ভালোবাসি তোকে রানু! হাতে একটা নীল খাম ছিলো ওর যেটা আর শেষ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি রানুকে। শায়ন্তর অনুভূতিরা বন্দী রয়ে গিয়েছিলো ওই নীল খামে।

সেদিন এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে ঘরে ফিরে গিয়েছিলো রানু । শায়ন্তকে হ্যা না কিছুই বলতে পারেনি সেদিন। হয়তো বলার চেষ্টাও করেনি। ফিরে যাওয়ার সময় রানুর কানে এসেছিলো শায়ন্তর বলা কথা,”অপেক্ষায় থাকবো রানু শুধু তোর অপেক্ষায়! ” চৌদ্দ বছরের দুটি কিশোর কিশোরীর মন এরপর জড়িয়ে পরে যে যার নিজের জীবনে।

কেটে গেছে দীর্ঘ কুড়িটা বছর। এর মাঝে রানু কোনোদিন কোনো খোঁজ করেনি শায়ন্ত নামের সেই ছেলেটির। পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে থা করে রানু আজ ঘোর সংসারী। নিজের হাতে গোছানো তার সংসার। পরিপাটি সুসজ্জিত। রানুর শরীরেও যেনো সুখের প্রলেপ মাখানো।

তাও কেনো আজ এতো বছর পরে শায়ন্তকে হ্যালো লিখতে রানুর হাত কেঁপে উঠলো? উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেনি রানু। কারণ, সবকিছুর উত্তর খুঁজতে নেই । কিছু উত্তর অজানা থাকাই ভালো।

আজ অনেক কথা বলে ওরা দুজন।পুরোনো কথা,তাও কেমন যেনো নতুন লাগে রানুর কাছে।সেদিনের অনুভূতিরা গুটি পোকা থেকে প্রজাপতি হতে পারেনি রানুর জন্যই । তবে, নীল খামের ভেতরের অনুভূতিগুলো দম বন্ধ হয়ে মরে যায়নি এখোনো । শায়ন্ত আজও আগলে রেখেছে অনুভূতি গুলোকে। রানুর আজ ভীষনভাবে ফিরে পেতে ইচ্ছে করছে অনুভূতিগুলোকে।জানতে ইচ্ছে করছে নীল খামের ভেতর বন্দী কথাগুলোর কথা ।হাত বোলাতে ইচ্ছে করছে অক্ষর গুলোর উপর।

biman-ad

হঠাৎ মেসেজ ঢোকার শব্দ।রমোবাইল খুলতেই দেখা দিলো সেই নীল খাম। ছবি হয়ে ফুটে উঠল মোবাইল স্ক্রিনে। পুরোনো হয়ে গেছে অনেক, কুড়ি বছেরর পুরোনো।ঔজ্বল্য হারিয়েছে চকচকে নীল রঙ। তারপর দেখা দিলো অনুভূতিরা।রাই এর না নেওয়া প্রথম প্রেম পত্র। সুদুর ইউরোপ থেকে আসা শায়ন্তর অনুভূতি গুলো আনমনে ছুঁয়ে গেলো রানুকে। কুড়ি বছর আগের দুটি কিশোর মন আজ একাকার হয়ে গেলো অজান্তে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!