ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে সেনাবাহিনী

জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে সেনাবাহিনী

নিউজ ডেক্স: সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য খ্যাত দুর্গম ও ভয়ঙ্কর জঙ্গল সলিমপুরে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। আলীনগর থেকে একটি সড়ক ভাটিয়ারি-বড়দীঘি লিংক রোডে এবং অপর সড়কটি জলিল টেক্সটাইল হয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে যুক্ত হবে।

সড়ক নেটওয়ার্কের কাজ শেষ হলে জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহজে চলাচল করতে পারবে। পাশাপাশি মহাসড়কের যানবাহন জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প সড়ক হিসেবে এগুলো ব্যবহার করতে পারবে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার উত্তরে নির্মাণাধীন সড়কে সেনাবাহিনীর ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল আল মাসুদ জঙ্গল সলিমপুরের সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরির বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেন। 
এর আগে গত ২ জুন সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামছুল আলম সড়কগুলো পরিদর্শন করেন। মূলত এরপর থেকেই সেনাবাহিনীর সড়ক নির্মাণের আধুনিক সরঞ্জাম পাঠানো হয় জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে।

লে. কর্নেল কামরুল আল মাসুদ বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে বসবাসরত যারা আছেন তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরাপদ করতে সেনাবাহিনী ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।

এই কাজ শেষ হতে ছয় মাস সময় লাগবে। প্রকল্পে বেশ কিছু কালভার্ট এবং তিনটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাহাড়ধস রোধে ড্রেনেজ সিস্টেম, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণসহ আরও কিছু প্রকৌশলগত শক্তিশালী কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।এলাকার সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিজস্ব নিরাপত্তা বলয় তৈরির মাধ্যমে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সড়ক নির্মাণের কাজে হাত দিয়েছে। পাশাপাশি র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবির নিরাপত্তা বলয়ও রয়েছে। এই সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহজে মুভ করতে পারবে।

আলী নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের মোড় থেকে একটি সড়ক সেনাবাহিনীর ক্যাফে টুয়েন্টিফোর সংলগ্ন তিন নম্বর বাজারে শেষ হয়েছে। অগ্রাধিকার দিয়ে এই সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। এই সড়কে পাহাড় কেটে আগেই পলাতক ইয়াসিন বাহিনী পালিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে রেখেছিল। অপর একটি সড়ক জলিল টেক্সটাইল হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সংযুক্ত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অভাবের কারণে এই দুর্গম এলাকায় জায়গা কিনে বসতি স্থাপন করেছি। চিকন একটি রাস্তা ছিল। যে কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিকভাবে পিছিয়ে ছিল এ জনপদ। সরকার সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সড়ক নির্মাণ করে দিচ্ছে। এতে আমাদের আসা যাওয়ার যে কষ্ট ছিল সেটি আর থাকবে না।

সড়ক নির্মাণযজ্ঞ দেখে খুশি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও। তারা জানায়, বৃষ্টি হলে আগে স্কুলে যেতে পারত না। কাদা, পাহাড়ি পানির স্রোত ছিল বাধা। রাস্তা নির্মাণ হলে প্রতিদিন স্কুলে আসতে পারবে।

৩ হাজার ১০০ একরের জঙ্গল সলিমপুর কয়েক দশকে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়। পাহাড়ি খাসজমি দখল করে অবৈধ বসতি স্থাপন শুরু করে তারা। দখল বজায় রাখতে সশস্ত্র বাহিনীও গড়ে তোলে তারা। পরে ‘ছিন্নমূল পুনর্বাসন’ প্রকল্পের নামে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে প্লট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ভূমি বাণিজ্য গড়ে তোলে সেখানে। গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯ মার্চ সেখানে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নেন এ অভিযানে। পরে যৌথবাহিনীর স্থায়ী ক্যাম্প বসানো হয়। গত ২৪ মে গভীর রাতে জঙ্গল সলিমপুরের একটি ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। একটি ক্যাম্পের দেয়াল বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় তারা।পুলিশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে সড়কও কেটে ফেলে।

সর্বশেষ গত ৩১ মে জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,এই আলীনগর-জঙ্গল সলিমপুর, এই জায়গাটা আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসীদের এলাকা থাকবে না, অভয়ারণ্য থাকবে না। এর আশেপাশে দুইটা পাহাড় টিলা শ্রেণি আছে-একটা হচ্ছে বেতুয়া আরেকটা চা-বাগান। এই এরিয়াতেও সন্ত্রাসীদের আনাগোনা আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সেখান থেকেও তাদের উচ্ছেদ করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান, এলজিইডি প্রকৌশলী সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!