Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই মিয়ানমারে এখনই ফিরতে রাজি হিন্দু রোহিঙ্গারা

নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই মিয়ানমারে এখনই ফিরতে রাজি হিন্দু রোহিঙ্গারা

image_printপ্রিন্ট করুন

BG-222220170831213613

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া : মিয়ানমার সেনাদের নির্মম নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল হিন্দু রোহিঙ্গারাও।পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে বর্তমানে হিন্দু রোহিঙ্গা এখনই মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি। পাশাপাশি তারা সরকারি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছেন। হিন্দু রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। মিয়ানমারের মংডু চিকনছড়ির বাসিন্দা কালু (৮০) বলেন, ‘জন্মগতভাবে আমরা মিয়ানমারের বাসিন্দা। অতীতে কখনও আমাদের মাতুভূমি ছাড়তে হয়নি। কিন্তু গত বছরের আগষ্টের শেষের দিকে মিয়ানমান সেনাদের নির্যাতনের ভয়ে এক ধরনের জিম্মি দশায় ছিলাম। পাঁচ দিন ধরে বাড়িঘর থেকে বের হতে পারিনি। এরপর অন্যদের মতো আমরাও পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছি। বর্তমানে আমাদের জন্য নতুন ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। এখানে আমরা খাদ্য ও চিকিৎসাসহ সার্বিক মানবিক সহায়তা পাচ্ছি। তারপরও নিজ দেশ মাতৃভূমি ছেড়ে এখানে ভালো লাগছে না। জন্মভূমি ছেড়ে ভিন দেশে থাকা আমাদের ভালো লাগছে না। তাই এই মুহূর্তে দেশে ফিরে যেতে মন চাইলেও যেতে পারছিনা।আইনি সহায়তা ফেলে আমরা নিজ দেশে ফিরে যেতে রাজি। একই কথা জানালেন রাখাইন রাজ্যের রিয়াজউদ্দিন পাড়ার বাসিন্দা মধু বান শীল (৭০) ও তার স্ত্রী বিজয় বালার (৬০)। বৃদ্ধ এই দম্পতি বলেন, ‘মিয়ানমারে ফিরতে মনটা ছটফট করছে। এখানে আমাদের ভালো লাগছে না। কিন্তু, আইনি জটিলতার কারণে যেতে পারছি না।’ শুধু তারা নয়, এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় উখিয়ার ওই ক্যাম্পে অবস্থানকারী রাখাইন রাজ্যের চিকনছড়ি হিন্দুপাড়ার নীতিশ রুদ্রের ছেলে বিমল রুদ্র (৪০), কালু রুদ্রের ছেলে রুবালা রুদ্র (৩৫), নিরঞ্জন রুদ্রের ছেলে সুমন্ত রুদ্র (২৭), রাখাইনের বাইল্যা খালী হিন্দুপাড়া এলাকার হিন্দু দম্পত্তি সুনীল রুদ্র (৩০) ও মিনা বালা রুদ্রসহ (২৫) অনেকের। তারা জানান, গত বছরের ২৪ আগস্টের পর থেকে মুসলিম রোহিঙ্গাদের সঙ্গে হিন্দুরাও সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। কুতুপালং ক্যাম্পের উত্তর পাশে হিন্দুপাড়াতে একটি জরাজীর্ণ মুরগির ফার্মের ঘরে এতদিন ছিলেন তারা । তিন মাস থাকার পর এখন বনভূমির জায়গাতে নতুন ঠিকানা হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এরপরও এই দেশে ভালো লাগছে না। কারণ, মাতৃভূমি ছেড়ে আসা কত যে কষ্টের তা কেউ বুঝতে চায় না। তারা দ্রুত দেশে ফিরে যেতে চান। ইতোমধ্যে অনেকেই পালিয়ে দেশে চলে যাওয়ায় বিষয়টি আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে বলেও জানান তারা। হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সমন্বয়ক বাবুল শর্মা জানান, হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারীদের সার্বিক নিরাপত্তা, খাদ্য ও বাসস্থানসহ কোনও কিছুর অভাব নাই। এরপরও সবার অজান্তে এই ক্যাম্প থেকে ছয়টি পরিবারের ২৭ জন হিন্দু রোহিঙ্গা মিয়ানমারে পালিয়ে গেছে। একই কথা বলেন উখিয়ার কুতুপালং পশ্চিম হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেখাশোনার দায়িত্ব পালনকারী সুজন শর্মা। তিনি জানান, ক্যাম্পে অবস্থান নেওয়া হিন্দু রোহিঙ্গা নারী রেখা ধর, রাজকুমারী, প্রমিলা ধর, অনিথা ধর, রিনা ধরসহ ছয় পরিবারের ২৭ হিন্দু রোহিঙ্গা মিয়ানামারে চলে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কী কারণে তারা ফেরত গেছে, তা তিনি জানাতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে হিন্দুদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা রয়েছে। আমরা সেভাবেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’ উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট রাতে মিয়ানমারে সহিংস ঘটনায় মুসলিমদের পাশাপাশি হিন্দু ১৬৫টি পরিবারের ৫২৩ জন পালিয়ে আশ্রয় নেয় উখিয়ার কুতুপালং গ্রামে। মিয়ানামারের রাখাইনে চিকনছড়ি গ্রামে গণহত্যার অজুহাতে এসব হিন্দু রোহিঙ্গারা সীমান্ত ফাঁড়ি দিয়ে চলে আসে। এরপর তাদের জন্য খোলা হয় লঙ্গরখানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!