ব্রেকিং নিউজ
Home | ব্রেকিং নিউজ | লোহাগাড়ায় রাতের আঁধারে টিলা কেটে মাটি পাচার, প্রকৃতি ধ্বংস করে প্লট বাণিজ্যির তোড়জোড়

লোহাগাড়ায় রাতের আঁধারে টিলা কেটে মাটি পাচার, প্রকৃতি ধ্বংস করে প্লট বাণিজ্যির তোড়জোড়

এলনিউজ২৪ডটকম: লোহাগাড়ায় রাতের আঁধার টিলা কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের বাগান পাড়া এলাকায় প্লট বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে এই টিলা কাটা হচ্ছে। এতে শুধু প্রাকৃতিক পরিবেশই নয়, জীববৈচিত্র্য ও পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার প্রায় ১২ জনের একটি প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে টিলা কেটে মাটি বিক্রি করছে। ধাপে ধাপে টিলা সমতল করে পরবর্তীতে প্লট আকারে বিক্রির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এই কর্মকান্ডের প্রতিবাদে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করলেও উল্টো প্রভাবশালী চক্রের রোষানলের শিকার হতে হয়েছে। টিলা কেটে মাটি পরিবহনের কারণে এলাকার অবকাঠামোও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ঐতিহাসিক সীরত মাহফিলে আগত দেশ-বিদেশের আলেম-ওলামা ও অতিথিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে নির্মিত সড়কটি ভারী মাটিবাহী ট্রাক ও এস্কেভেটর চলাচলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি সংস্কার করা কয়েকটি স্থানীয় সড়কও দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া চুনতি শামসু হাজী পাড়ার একটি ছোট খালের উপর নির্মিত কালভার্টটিও অতিরিক্ত মাটি ও বালুবাহী যানবাহন চলাচলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংঘবদ্ধ চক্রটি ব্যক্তিস্বার্থে টিলা ধ্বংস করে পরিবেশ ও জনস্বার্থের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে টিলা কাটা বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও কালভার্ট সংস্কার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

গত বুধবার (১০ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, নির্বিচারে টিলা কাটার স্থানের দক্ষিণে চুনতি সরকারি মহিলা কলেজ ও উত্তরে ঐতিহাসিক সীরত ময়দান। দুই একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতার টিলার অধিকাংশ অংশ ইতোমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। এসব মাটি ট্রাকযোগে ইটভাটাসহ বিভিন্নস্থানে পাচার করা হয়েছে। টিলার মাটি সাথে কাটা হয়েছে গাছও। স্থানীয়দের অভিযোগ, টিলা কাটা চক্রের সদস্যরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। টিলার মালিকের সাথে মাটি কাটা চক্রের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চুক্তি হয়েছে। মাটি কাটা শেষে সেখান প্লট বাণিজ্য করার প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে বলে জানান তারা।

পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, এভাবে টিলা কেটে ফেলার ফলে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। টিলা ধ্বংসের কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া টিলার গাছপালা ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও ক্ষুদ্র প্রাণীর অস্তিত্বও সংকটাপন্ন হয়ে পড়বে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. তালিব আল মুহতাদী জানান, স্থানীয় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে টিলা কেটে মাটি বিক্রি করে আসছে। পরিবেশের তোয়াক্কা না করে তারা নির্বিচারে টিলাটি ধ্বংস করছে। এছাড়া রাতের বেলায় মাটিবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়ছে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ জানান, টিলা কেটে মাটি বিক্রির কোনো ধরণের সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে কেউ টিলা বা পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিবেশ ধ্বংসের সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!