ব্রেকিং নিউজ
Home | ব্রেকিং নিউজ | লোহাগাড়া মডেল মসজিদে ইমাম নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা, মুসল্লিদের ক্ষোভ

লোহাগাড়া মডেল মসজিদে ইমাম নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা, মুসল্লিদের ক্ষোভ

এলনিউজ২৪ডটকম: লোহাগাড়া উপজেলা মডেল মসজিদে ইমাম নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মের কারণে মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। মসজিদটি উদ্বোধনের চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কোনো স্থায়ী ইমাম নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে মুসল্লিরা ধর্মীয়সেবা ব্যাহত হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। দ্রুত ইমাম নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা যায়, ২০২১ সালের ২৩ মে মাসে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মতে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে তিন পদে জনবল নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়। একই মাসের ৩১ মে মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিম পদে উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলনে কক্ষে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৮ জন ইমাম, ২০ জন মুয়াজ্জিন ও ৬ জন খাদিম পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরীক্ষায় ইমাম পদে মো. আবদুল গফুর প্রথম, মোহাম্মদ শহীদুল হক দ্বিতীয় ও মো. সেলিম উদ্দিন তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এরমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী সরকারি এবং এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। একই সালের ১০ জুন লোহাগাড়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নামাজ আদায় করা শুরু হয়। এরপর থেকে ইমাম নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী মো. আবদুল গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে বহাল তবিয়তে থেকে মডেল মসজিদে নিয়োগ বিহীন ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া পরীক্ষার পর ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর মুয়াজ্জিন পদে ১ জন ও খাদিম পদে ২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা নিয়মিত বেতনভাতা ভোগ করছেন। নিয়োগপত্রে উল্লেখ রয়েছে পাশাপাশি সরকারি অনুদানপুষ্ট অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারবেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মুসল্লি জানান, মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে প্রশাসনিক টালবাহানা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অত্যন্ত দু:খজনক। উপজেলা মডেল মসজিদের সুন্দর পরিবেশ ফিরে আনতে একজন ইমাম নিয়োগ দেওয়া খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। নিয়োগকৃত ইমাম থাকলে সবকিছু জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাবে। মডেল মসজিদ উদ্বোধনের এতো বছর পেরিয়ে গেলেও ইমাম নিয়োগ না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করবেন এবং মসজিদে সুষ্ঠু ধর্মীয় পরিবেশ নিশ্চিত করবেন এমনটি আশা করছেন মুসল্লিরা।

ইমাম নিয়োগ পরীক্ষায় মেধাক্রমে উত্তীর্ণ মাওলানা মুফতি সেলিম উদ্দিন জানান, লোহাগাড়া উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত সকল নিয়মকানুন মেনে ইমাম পদে উত্তীর্ণ হই। তৎকালীন উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সুপারভাইজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিয়োগের ব্যাপারে ফোন করেছিলেন। এছাড়া চূড়ান্তভাবে একটি নির্দিষ্ট তারিখে চাকরিতে যোগদান করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন এমপি আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভীর মৌখিক চাপে তাকে বাদ দিয়ে বর্তমান ইমামকে নিয়োগপত্র বিহীন অবৈধভাবে ইমাম ও খতিবের স্থানে বহাল রাখেন। এই ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায্য অধিকার দাবি করছেন।

লোহাগাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মু. আবু বকর রফিক জানান, উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ইমাম নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মহোদয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন। আশা করছি উপজেলা মডেল মসজিদে দ্রুত ইমাম নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

লোহাগাড়া মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতি কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ইমাম নিয়োগের ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অবহিত করা হয়েছে। তাদের দেওয়া সিদ্ধান্ত মতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক সরকার সরওয়ার আলম জানান, পদাধিকার বলে উপজেলা মডেল মসজিদের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। মডেল মসজিদের দেখভাল তিনিই করেন। এছাড়া লোহাগাড়া উপজেলা মডেল মসজিদে ইমাম নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন ব্যাপারে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!