Home | ব্রেকিং নিউজ | লোহাগাড়ায় ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কিশোরী ও যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

লোহাগাড়ায় ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কিশোরী ও যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

এলনিউজ২৪ডটকম: লোহাগাড়ায় প্রায় ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জান্নাতুল ফেরদৌস (১৭) নামে এক কিশোরী ও আবু হেলাল (৪০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর ইউনিয়নের একটি ভাড়া বাসা থেকে কিশোরী এবং পরদিন রোববার দুপুর দেড়টার দিকে চুনতি ইউনিয়নের নিজ বসতঘর থেকে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, জান্নাতুল ফেরদৌস রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকার বাসিন্দা বাবুলের মেয়ে। কয়েক বছর আগে বাবুলের সঙ্গে তাঁর মা মাহমুদা আক্তার বিউটির বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে বিউটি খাগড়াছড়ির বাসিন্দা বিশাল মাহমুদকে বিয়ে করেন। তাঁরা লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রশিদের পাড়ায় একটি ভবনের চতুর্থ তলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। জান্নাতুলও তাঁদের সঙ্গে থাকতেন।

অন্যদিকে, আবু হেলাল উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগান পাড়ার মো. ইব্রাহিমের ছেলে। তিনি চুনতি হাকিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন। তিনি তিন সন্তানের জনক।

কিশোরীর মা মাহমুদা আক্তার বিউটি জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নাশতা করেন জান্নাতুল। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি টেলিভিশন দেখছিলেন। একপর্যায়ে মেয়ের কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পেয়ে খোঁজ নিতে যান। এ সময় মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন।

বিউটির দাবি, তাঁর মেয়ের সঙ্গে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁদের মধ্যে মান-অভিমান থেকে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তসাপেক্ষ।

আবু হেলালের ভাই মো. ইলিয়াছ জানান, কয়েক দিন আগে হেলালের স্ত্রী বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। ঘটনার দিন দুপুরে ভাইকে খাবার খেতে ডাকতে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরে খোঁজ করেন। পরে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

ইলিয়াছের ভাষ্য, আবু হেলাল মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। স্ত্রী কয়েক দিন বাড়িতে না থাকায় তিনি নিয়মিত ওষুধ সেবন করেছেন কি না, তা নিয়ে পরিবারের সন্দেহ রয়েছে। তবে ওষুধ সেবনে অনিয়মের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে আবু হেলালের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উভয় ঘটনার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!