Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | ৫০ শয্যার আলাদা ডায়ালাইসিস সেন্টার হচ্ছে চমেক হাসপাতালে

৫০ শয্যার আলাদা ডায়ালাইসিস সেন্টার হচ্ছে চমেক হাসপাতালে

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : বৃহত্তর চট্টগ্রাম জুড়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা এবার গরিবের নাগালে আসছে। সরকারি ভাবেই ৫০ শয্যার আলাদা কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার হচ্ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। একই সাথে কক্সবাজার ও তিন পাবর্ত্য জেলা (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) সদর হাসপাতালেও স্থাপন হচ্ছে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার।

‘মেডিকেল কলেজসমূহে বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালসমূহে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নতুন করে এসব ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ২২টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ৪৪টি জেলা সদর হাসপাতালে এ সেন্টার স্থাপন হবে।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০২০ সালে সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। আর প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্থান নির্ধারণসহ অবকাঠামো মেরামত/পুনরায় সজ্জিতকরণের বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালসমূহে এরইমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সরকারিভাবে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর। এ সংক্রান্ত ফিরতি চিঠিও পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে স্থান নির্ধারণসহ অবকাঠামো মেরামত/পুনরায় সজ্জিতকরণের বিষয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বরাবর চিঠি দেন প্রকল্পটির পরিচালক ডা. মো. ইউনুস। প্রকল্প পরিচালকের স্বাক্ষরে চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল এ চিঠি দেয়া হয়। জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. ইউনুস গতকাল বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার গনপূর্ত অধিদপ্তর এ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি দেখভাল করবে। এ বিষয়ে আমরা গণপূর্ত অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। -আজাদী

তবে বেশ কয়টি হাসপাতালে স্থান নির্ধারণ সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হয়নি জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, কারণ ওসব হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনে আগে থেকেই স্থান মোটামুটি ঠিক করা আছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও স্থান মোটামুটি নির্ধারণ করা আছে। ১৫ তলা বিশিষ্ট নতুন ক্যান্সার ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হলে ওই ভবনের ৭ম-৯ম তলায় এ ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী রাহুল গুহ বলছেন- প্রাথমিক ভাবে বিদ্যমান সেন্টারে আরো শয্যা বাড়ানোর কথাও আছে। এ জন্য জায়গা দেখাতে আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।

চমেক হাসপাতালের কিডনি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী- বিভাগে বর্তমানে ৯টি ডায়ালাইসিস মেশিনে সেবা কার্যক্রম চালু আছে। এর বাইরে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি) এর আওতায় চমেক হাসপাতালের নিচ তলায় আলাদা একটি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করেছে ভারতের প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর মেডিকেইডস (প্রাঃ) লিমিটেড। ২০১৭ সালের ৪ মার্চ তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ৩১ শয্যার (মেশিনের) স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সেন্টারটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তবে গরীব রোগীদের সুবিধায় পিপিপি’র আওতায় এ সেন্টার স্থাপন করা হলেও একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার বাইরে সব রোগীকে বেসরকারি ভাবেই ডায়ালাইসিস সেবা নিতে হয় এখানে।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারি হাসপাতালে প্রতিবার ডায়ালাইসিসে খরচ পড়ে ৪ থেকে পাঁচশ টাকা। অন্যদিকে, বেসরকারি ও প্রাইভেট হাসপাতালে এ খরচ আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়- চমেক হাসপাতালের মাধ্যমে আসা রোগীদের প্রতি সেশনে ৪৮৬ টাকা ফি দিতে হয় স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সেন্টারে। তবে অন্যান্য রোগীদের প্রতি সেশনে ফি দিতে হয় ২ হাজার ৬৬৩ টাকা। বছরে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক সেশন ৪৮৬ টাকা ফি’র সুবিধায় দিয়ে থাকে এ সেন্টার। এর বাইরে সব রোগীকে বেসরকারি আদলে ২ হাজার ৬৬৩ টাকা হারে ফি দিতে হয়। হাসপাতালের কিডনি বিভাগে অপ্রতুল মেশিনের কারণে বেশির ভাগ রোগীকে এ সেন্টার থেকেই সেবা নিতে হচ্ছে।

সরকারি পর্যায়ে ৫০ শয্যার আলাদা ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের খবরটি অত্যন্ত ভালো একটি খবর মন্তব্য করে চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, আলাদা ভাবে এ সেন্টারটি হয়ে গেলে গরীব রোগীরাই এর সুবিধা পাবেন। ডায়ালাইসিস খরচটাই এক প্রকার গরীবের নাগালে চলে আসবে। কারণ, তখন সর্বোচ্চ পাঁচশ টাকায় সরকারি ভাবে এ ডায়ালাইসিস সেবা পাওয়া যাবে। যেখানে বেশিরভাগ রোগীকে প্রতি সেশনে এখন আড়াই হাজারের বেশি দিতে হচ্ছে।

তাছাড়া এটি হলে স্যান্ডরের সেন্টারের উপর আর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবেনা জানিয়ে হাসপাতাল পরিচালক বলেন, কেবল চট্টগ্রাম নয়, এটি বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিশাল সংখ্যক গরীব কিডনি রোগীদের জন্য আর্শিবাদ হয়ে আসবে বলে আমি মনে করি।

এদিকে, জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার হলে দূর-দূরান্ত থেকে কিডনি রোগীদের আর এখানে (চট্টগ্রামে) ছুটে আসতে হবেনা বলে মনে করেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টরা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের জন্য এটিও অনেক বড় পাওয়া বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

উল্লেখ্য, দেশে প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি রোগ নামক এই নীরব ঘাতকের ব্যাপকতা দিনদিন বেড়েই চলেছে। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষ বুঝতেই পারেন না তাঁদের কিডনি আক্রান্ত হতে বসেছে। রোগের জটিল পর্যায়ে (ক্রিটিক্যাল পর্যায়ে) পৌঁছলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন অধিকাংশ রোগী। তখন আর কিডনি প্রতিস্থাপন অথবা ডায়ালাইসিস ছাড়া উপায় থাকে না।

আগের তুলনায় কিডনি রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে বলে জানান চমেক হাসপাতালের কিডনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল হুদা। গত দশ বছরে রোগীর সংখ্যা অন্তত দ্বিগুণ হয়েছে জানিয়ে ডা. মো. নুরুল হুদা বলেন, সরকারি ভাবে ডায়ালাইসিস সুবিধা বাড়লে গরীব রোগীরা সুবিধা পাবেন। কারণ, সরকারি পর্যায়ে যেখানে সর্বোচ্চ পাঁচশ টাকা ডায়ালাইসিস করা যায়, সেখানে বেসরকারি পর্যায়ে এ সেবা নিতে আড়াই হাজার টাকার বেশি খরচ পড়ে। তাই সরকারি ভাবে ডায়ালাইসিস সুবিধা বাড়া মানে খরচটাও গরীব রোগীদের নাগালে আসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!