Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | স্বজন হারানোর কান্না এখনো শোনা যায়

স্বজন হারানোর কান্না এখনো শোনা যায়

image_printপ্রিন্ট করুন

234329K_18-04-29-49

নিউজ ডেক্স : ভয়াল ২৯ এপ্রিল আজ। ১৯৯১ সালের এই দিনে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকায় লাখো মানুষ প্রাণ হারান। শুধু চকরিয়া-পেকুয়া উপকূলীয় এলাকায় অন্তত ২৫ হাজার মানুষ মারা যান। লণ্ডভণ্ড হয়ে একাকার হয়ে পড়ে উপকূল। প্রাণহানি ছাড়াও লাখ লাখ গবাদিপশুর মৃত্যু এবং হাজার কোটি টাকার সম্পদহানি হয় মুহূর্তেই। সেই দিনের স্মৃতি মনে করে স্বজন হারানোর বেদনায় এখনো ডুকরে কেঁদে ওঠেন উপকূলের বাসিন্দারা।

চকরিয়ার বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুল হান্নান (৮০) বলেন, ‘১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত সবই ঠিকঠাক ছিল। রাত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস তীব্রগতিতে আঘাত হানতে শুরু করে। সেই আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে একাকার হয়ে যায় পুরো উপকূল। বিরাণভূমিতে পরিণত হয় জনপদ। এখানে-ওখানে শুধুই লাশ আর লাশ!’

চকরিয়ার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা বলেন, ‘ইউনিয়নের চৌয়ারফাঁড়ি থেকে সোলতান মিয়ার খামার পর্যন্ত উপকূলের ১৪ চেইন বেড়িবাঁধ এখনো অরক্ষিত। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে পুরো এলাকায় মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেবে।’

বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল বশর বলেন, ‘ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু অংশের কাজ এখনো বাকি রয়েছে।’

অপরদিকে পেকুয়া উপজেলার পেকুয়া সদর, মগনামা, উজানটিয়া ও রাজাখালী ইউনিয়নের অরক্ষিত বেড়িবাঁধগুলো সংস্কার করা হয়েছে। তবে কিছু অংশে এখনো সমস্যা রয়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেছেন।

চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও  উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম বলেন, ‘চকরিয়া ও পেকুয়ার উপকূলীয় এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন বেশ উন্নত। ১৯৯১ সালের মতো মহাপ্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানলে তেমন ক্ষতি হবে না এ এলাকায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পেকুয়ার মগনামার বেড়িবাঁধে সিসি ব্লক বসানোর কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ায় অনেকটা নিরাপদ পেকুয়ার উপকূল। তাছাড়া অসংখ্য সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে।’

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, ‘চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় এলাকার বেশির ভাগ ইউনিয়নের অরক্ষিত বেড়িবাঁধগুলোর বেশির ভাগই সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। তাই এসব বেড়িবাঁধ নিয়ে উপকূলের মানুষ অনেকটা শঙ্কামুক্ত।’

সূত্র : কালেরকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!