ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | সাতকানিয়ায় ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র সরকারি চাউল কালো বাজারে বিক্রি, আটক ১

সাতকানিয়ায় ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র সরকারি চাউল কালো বাজারে বিক্রি, আটক ১

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : সাতকানিয়ায় ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র সরকারি চাউল কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। হত-দরিদ্র পরিবারে প্রতি কেজি ১০ টাকা মূল্যে বিক্রির ৭ বস্তা চাউল কাঠের গুদাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আবদুর রশিদ নামের একজনকে আটক করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আজ বুধবার (২১ এপ্রিল) সকালে উপজেলার চরতি ইউনিয়নের দুরদুরি এলাকার একটি কাঠের গুদাম থেকে এসব চাউল উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, চরতি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দুরদুরির শামসুল আলমের পুত্র আবদুর রশিদ তার মুদির দোকানে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সরকারি চাউল বিক্রি করছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম এ বিষয়ে সত্যতা যাচাই করেন। তালিকাভুক্ত ডিলার না হয়েও আবদুর রশিদের দোকানে ১০ টাকা মূল্যের সরকারি চাউল বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে দায়িত্ব দেন।

এদিকে, সাতকানিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তপন কুমার বড়ুয়া আজ সকালে দুরদুরি এলাকায় গিয়ে আবদুর রশিদের কাঠের গুদাম থেকে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ৭ বস্তা চাউল উদ্ধার করেন। একই সাথে দোকানদার আবদুর রশিদকে আটক করে নিয়ে আসেন। পরে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চরতি ইউনিয়নে নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার আবদুল মোমেন জানান, আবদুর রশিদ নামের একজনের কাছ থেকে কিছু চাউল উদ্ধার করেছে বলে শুনেছি। এগুলো আমার চাউল নয়। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় দেয়া চাউল অনেক উপকার ভোগী খোলা বাজারে বিক্রি করে দেয়। শুনেছি রশিদ তাদের কাছ থেকে এসব চাউল কিনে নিয়েছে।

উপকারভোগীর চাউল বাইরে কেন বিক্রি করছে এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল মোমেন বলেন, “অনেকে টাকার প্রয়োজন হলে বিক্রি করে দেয়। আবার কোনো কোনো সময় চাউলের মান খারাপ হলেও বিক্রি করে। এখানে আমাদের কিছু করার নাই।”

সাতকানিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তপন কুমার বড়ুয়া জানান, হত-দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রতি কেজি ১০ টাকা মূল্যে চাউল বিক্রি করা হয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলারের মাধ্যমে এসব চাউল বিক্রি করা হয়। চরতি ইউনিয়নে মোট ৫০০ পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় চাউল পায়। আবদুর রশিদের কাঠের গুদাম থেকে উদ্ধারকৃত চাউলগুলো সরকারি চাউল। কিন্তু ডিলার তাকে বিক্রি করেছে নাকি উপকারভোগীদের কাছ থেকে নিয়েছে সেটা তদন্ত করে বের করতে হবে। আবদুর রশিদ সরকারি চাউলের বস্তা পাল্টিয়ে আলাদা বস্তায় করে নিজের কাঠের গুদামে এসব চাউল রেখেছে। সেখান থেকে আমরা উদ্ধার করেছি।

তপন কুমার বড়ুয়া আরো জানান, আটককৃত আবদুর রশিদ প্রথমে উপকারভোগীদের কাছ থেকে এসব চাউল কিনেছে বলে জানায়। পরবর্তীতে আবার ডিলারের কাছ থেকে নিয়েছে বলেও তথ্য দিয়েছে। এখন ডিলারের কাছে কত বস্তা চাউল আছে তা আমরা দেখে এসেছি। এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। যদি ডিলার এসব চাউল বিক্রি করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, চরতির দুরদুরিতে আবদুর রশিদ নামের একজনের কাঠের গুদাম থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাউল উদ্ধারের ঘটনায় ভোক্তা অধিকার আইনে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডিলার জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আজাদী অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!