Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | সাজা হলে কোথায় হবে খালেদার কারাবাস?

সাজা হলে কোথায় হবে খালেদার কারাবাস?

image_printপ্রিন্ট করুন

Khaleda-Zia-572x510

নিউজ ডেক্স : পুরান ঢাকা থেকে স’ানান্তর হয়ে গত বছরের জুলাইয়ে কেরাণিগঞ্জে চলে গেছে কেন্দ্রীয় কারাগার। এরপর নাজিমউদ্দিন রোডে সুবিশাল এলাকাটি হয়ে ওঠে অন্য এলাকার মতোই স্বাভাবিক। একটু পরপর বেজে ওঠেনি পুলিশের গাড়ির সাইরেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি কোনো বহরও ছিলো না। দুদিন ধরে সেখানকার ছবি বদলে গেছে কিছুটা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনাগোনাও বেড়েছে।

আরও খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, পুরনো কারাগারটির ভেতরে চলছে ধোয়ামোছার কাজ। আগে যে নারী সেল ছিলো, সেটিকেই উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। একজন ডেপুটি জেলার নিয়োগের খবরও চাউর হলো গতকাল। সবকিছু মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, প্রস’তব্য সেলটিতেই হতে পারে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস। তবে এর জন্য তার সাজা হতে হবে। আর, সেটি হবে কি-না তা জানা যাবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে কাল ঘোষণা হবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা দুর্নীতি মামলার রায়। এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ও হতে পারে।

তবে কারাগারের সেল প্রস’তের মানেই মামলার রায় আসামির বিপক্ষে যাওয়ার আগাম আলামত নয়। এটি নিছক প্রশাসনিক প্রস’তি। বিশেষ করে ভিআইপি আসামিদের মামলার রায়কে সামনে রেখে কারা কর্তৃপক্ষের এ ধরনের প্রস’তি স্বাভাবিকই। আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত ঘোষণা, দণ্ড দেওয়া এবং কারাগারে পাঠানোর রায় এলে খালেদা জিয়াকে কোথায় রাখা হবে, সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি বা ইঙ্গিত গতরাত পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

তবে বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য মিলেছে। কেউ বলছেন, পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে কারাগারের সেই সেলটিতে রাখা হবে বিএনপি নেত্রীকে। আবার কেউ বলছেন, খালেদা জিয়ার জন্য প্রস’ত করা হচ্ছে গাজীপুরের কাশিমপুরে মহিলা কারাগারের একটি ভিআইপি সেল। সেখানেও নাকি জোর প্রস’তি চলছে।

তবে বেশিরভাগ সূত্রের খবর, কারাদণ্ডের রায় এলে খালেদা জিয়াকে কোনো কারাগারেই রাখা হবে না। উল্টো বিশেষ কোনো বাড়িকেই ‘সাবজেল’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। সাবজেলের সর্বশেষ দেখা মিলেছিলো সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে। সেই সময় খালেদা জিয়ার পাশাপাশি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে সাবজেলে বন্দি রাখা হয়েছিলো। এবারও খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে সাবজেলের ব্যাপার সামনে এলে প্রশাসনের ‘পছন্দের’ এক নম্বরে আছে গুলশানে খালেদা জিয়ার বাড়িটিই। সেখানেই অন্তরীণ করা হতে পারে খালেদাকে।

কারা কর্তৃপক্ষের উর্ধ্বতন একটি সূত্র জানিয়েছে, আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ব্যবস’া গ্রহণ করবে। এজন্য সামগ্রিক প্রস’তি নিয়ে রাখা হয়েছে। যদি গুলশানে খালেদা জিয়ার বাড়িকেই সাবজেল বানানো হয়, সেক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষ ওই বাড়িতে ডেপুটি জেলার নিযুক্ত করবে। প্রশাসনিক নিরাপত্তার পাশাপাশি কারারক্ষীসহ কারাগারের আনুষঙ্গিক সবকিছুই সরবরাহ করা হবে ওখানে।

আবার, ভিআইপি বন্দির জন্যে সম্ভাব্য সব প্রস’তি বৃথাও যেতে পারে; যদি আসামির তরফ থেকে ভিন্ন কিছু চিন্তা করা হয়। কোনো আসামি চাইলে কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে নিজ খরচায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকতে পারেন। শোনা যাচ্ছে, দণ্ডিত হলে খালেদা জিয়া রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি থাকার আবেদন করতে পারেন। খালেদার আইনজীবীরা যদি সেরকম কিছু আবেদন করেন, তার জন্যেও প্রস’ত কারা কর্তৃপক্ষ। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেই কারারক্ষী নিয়োগ করা হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় খালেদা জিয়া প্রধান আসামি। তার বড় ছেলে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মোট আসামি ছয়জন। মামলার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

মামলাটিকে ‘চক্রান্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসা বিএনপি নেতাদের ধারণা, এ মামলার রায় আসামিদের বিপক্ষে যাবে। তারা মনে করেন যে, খালেদা জিয়াকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাখতেই ‘তড়িঘড়ি’ করে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।

তবে আসামীপক্ষের আইনজীবী আবদুর রেজাক খান জানিয়েছেন, রায় বিপক্ষে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন করা হবে। পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে মামলার সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করে উচ্চ আদালতে আপিলের আবেদন করার প্রস’তি রয়েছে তাদের।

আসামিপক্ষের প্রস’তি যা-ই থাকুক, এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ড হলে খালেদা জিয়াকে একদিনের জন্যে হলেও কারাবাসে যেতে হবে বলে আইনজ্ঞদের মত। অবশ্য আদালত চাইলে ভিন্ন কিছুও হতে পারে। কিন’ সম্ভাব্য সব পরিসি’তি তাৎক্ষণিকভাবে সামাল দিতে সামগ্রিক প্রস’তি নিয়ে রেখেছে কারা কর্তৃপক্ষ। -সুপ্রভাত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!