Home | ব্রেকিং নিউজ | লোহাগাড়ায় আমন ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

লোহাগাড়ায় আমন ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

image_printপ্রিন্ট করুন

579

এলনিউজ২৪ডটকম : লোহাগাড়ায় চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ মৌসুমে লক্ষমাত্রার অধিক জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ বছর ফলন অধিক ভাল হওয়ায় স্থানীয় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। কিন্তু বাজারে ধানের দর কেমন হবে তা নিয়ে চিন্তিত কৃষকেরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় অনেক কৃষক তাদের জমির পাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন। আরো কিছুদিন পর পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে।

জানা যায়, উপজেলার ৯ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের চাষ হয়েছে। তন্মধ্যে রাবারড্যাম সন্নিহিত এলাকার কৃষকেরা পানি সেচ কাজে বেশী সুবিধা পেয়েছেন। কেউ কেউ স্যালোমেশিন ও গভীর নলকূপের পানি দিয়ে চাষাবাদ করেছেন। যে কারণে চাষাবাদ কাজে কৃষকেরা সেচ কাজে পানি সঙ্কটের সম্মুখীন হয়নি বলে জানান বিভিন্ন এলাকার আমন চাষীরা।

কলাউজান ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার কৃষক আবদুল হামিদ জানান, তিনি প্রায় ৮০ শতক জমিতে এবার বিআর- ৪৯ এর ধান চাষ করেছেন। তবে, সম্পূর্ণ বৃষ্টির পানির উপর নির্ভরশীল হয়ে তিনি ধান চাষ করেন। সময়মতো বৃষ্টির পানি পাওয়ায় তিনি ভাল ফলন পাবেন বলে জানান। তিনি আরো জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তিনি আমন ধান চাষে সফল হয়েছেন।

লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুল ইসলাম জানান, এবার আমন মৌসুমে উপজেলায় ১০ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩১ হাজার ৩৮৬ মেট্রিক টন। উপজেলায় কৃষকের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার।

তিনি আরো জানান, স্থানীয় কৃষি অফিস পুরো উপজেলাকে ২৭টি ব্লকে বিভক্ত করে তথ্য-প্রযুক্তি মতে চাষাবাদ করতে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধিকরণে উৎসাহিত করেন। জনবলের অভাবে ২৭টি ব্লকে ২০ জন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজ করে যাচ্ছেন। এমনকি তিনি নিজেও কৃষকদের খোঁজ-খবর নিতে দাপ্তরিক কার্যক্রমের ফাঁকে এলাকা পরিদর্শন করেন প্রতিদিন। তাঁর মতে এলাকার অধিকাংশ কৃষক আমন চাষে পানি সেচ সমস্যার সম্মুখীন। অধিকাংশ খালে পানি শুকিয়ে যায়। পর্যাপ্ত পরিমাণ গভীর নলকূপ না থাকা । ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক গভীরে চলে যাওয়ায় নলকূপ দিয়ে পানি উত্তোলন খুবই দুঃসাধ্য। যে কারণে আমন চাষে কৃষকেরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। পানি সেচ সঙ্কট দূর হলে উপজেলায় আমনসহ বিভিন্ন ফসলাদির উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিকরণে ক্ষেতের পানি সেচ সঙ্কট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ কামনা করেছেন এলাকার কৃষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!