Home | লোহাগাড়ার সংবাদ | লোহাগাড়ায় অস্তিত্ব সংকটে ছড়া ও খাল

লোহাগাড়ায় অস্তিত্ব সংকটে ছড়া ও খাল

image_printপ্রিন্ট করুন
170
নিউজ ডেক্স : লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত ১৩টি খাল অস্তিত্ব সংকটে। পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় এসব খাল বছরের বেশিরভাগ সময়ই শুষ্ক থাকে। তাছাড়া বালু ও মাটি জমে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ। পানির অভাবে উপজেলার আমন ও বোরোসহ অন্যান্য ফসলের চাষাবাদে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। তাছাড়া এসব খাল ও ছড়ার তীরবর্তী ৩৫ গ্রামের ৪০ হাজার পরিবারের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে।
জানা গেছে, ডলু, টংকা, হাঙ্গর, চাম্বি, হাতিয়ার, জামছড়ি, রাতার, কুলপাগলি, থমথমিয়া, সুখছড়ি, ধুইল্লা, সরই, বোয়ালিয়া খালসহ বিভিন্ন ছড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত। এসবের অধিকাংশই এখন পানিশূন্য নিচু জমির আকার ধারণ করেছে। ডলু, টংকা ও হাঙ্গর উপজেলার প্রধান খাল হলেও খাল তিনটি দখলে-দূষণে বিলীন হতে চলেছে। একসময় এসব খাল-ছড়া লোহাগাড়ার সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। উপজেলার শত শত জেলে পরিবার খালগুলোতে নিয়মিত মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো। খালগুলোতে পানি ধারণক্ষমতা না থাকায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে খালের পাড় ভেঙে শত-শত ঘর-বাড়ি ডুবে যায়। অথচ এক সময় ডলু-টংকা-হাঙ্গর খালসহ অন্যান্য খাল দিয়ে বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলের গাছ-বাঁশ ও মালামাল এবং বাঁশের ভেলায় পণ্য বোঝাই হয়ে বিভিন্ন স্থানে যেতো।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ডলু ও টংকা ছাড়া উপজেলার অন্যান্য খালের অস্তিত্ব বিলীন প্রায়। খালের অধিকাংশ স্থান ভরাট হয়ে শুকিয়ে গেছে। মাটি ও বালুতে ভরাট হয়ে এসব খালের কোনো কোনো অংশ পাড়ের সাথে মিশে গেছে। আবার অনেক স্থানে পানি না আসায় শুষ্ক নিচু ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আর এ সুযোগে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা খাল দখল করে নিয়েছে। অন্যদিকে, খালে জেগে উঠা বালু দিয়ে চলছে অবৈধ ব্যবসা। এতে করে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় চাষিরা জানান, খালের সামান্য পানি দিয়ে বীজতলা ও বোরো-রবি আবাদ করা গেলেও পরে সেচ সমস্যার কারণে বোরো-রবি চাষ কঠিন হয়ে পড়ে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র মতে, উপজেলায় মোট চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ১১ হাজার ৫শ’ হেক্টর। এর মধ্যে সেচকৃত জমি ৫ হাজার ১৫০ হেক্টর। আর এ বছর বোরো চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টরে। সবজি চাষ হয় ১ হাজার ৫ শত হেক্টরে। সেচবিহীন জমি ৩ হাজার ১ শত হেক্টর। পতিত জমি রয়েছে ৩ হাজার ৫৬ হেক্টর।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীম হোসেন জানান, লোহাগাড়ার খাল-ছড়াগুলোর দুই পাশ দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। কৃষক ও এলাকাবাসীর উপকারের জন্য খালগুলো পুনরুদ্ধার ও সংস্কার প্রয়োজন। খালগুলো সংস্কার হলে পানির ধারণক্ষমতা বাড়বে এবং লাভবান হবে কৃষকরা। আর শুষ্ক মৌসুমে বোরো চাষসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুব আলম উপজেলার খাল-ছড়াগুলো দখল সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান। -ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!