
এলনিউজ২৪ডটকম: লোহাগাড়ায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে বোরো ধান সংগ্রহে নানা অনিয়ম ও কৃষক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে গেলেও জায়গা না থাকার অজুহাতে অনেক কৃষককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক বাজারের পাইকারদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করছেন।
কৃষকদের দাবি, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার অদক্ষতা, সমন্বয়হীনতা ও শ্রমিকদের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত চাষিদের পরিবর্তে ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন প্রকৃত কৃষকরা।

উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে লোহাগাড়ায় প্রতি মণ ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা। এ বছর উপজেলায় মোট ৪০৪ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১৮ মে সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয় এবং আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক কৃষক ছোট-বড় ট্রাকে করে ধান নিয়ে গুদামে এলেও ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পাননি। গুদামের বাইরে ধানের বস্তা স্তুপ করে রাখা হয়েছে। অনেক কৃষক ধান গাড়িতে রেখেই ফিরে গেছেন। গুদামের সামনে বিপুল পরিমাণ ধান মজুদ থাকায় সাধারণ কৃষকদের ধান জমা দেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। এছাড়া কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকৃত কৃষকের কৃষি কার্ড ব্যবহার করে অন্যদের ধান সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চুনতি ইউনিয়নের সুফিনগর এলাকার কৃষক শাহাদত হোসেন শেকু জানান, তিনি ও আলমগীর নামে আরেক কৃষক ২০ একর জমিতে বোরো চাষ করেন। উৎপাদন ভালো হলেও ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঈদুল আজহার আগে খাদ্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ঈদের পরে যেতে বলেন। পরে গেলে জানানো হয় ধান ক্রয়ের কোটা শেষ। এতে মনে হচ্ছে ছুটির সময় প্রভাবশালীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।
কলাউজান এলাকার কৃষক আবদুল আজিজ ও আমিন শরিফ জানান, এক সপ্তাহ ধরে খাদ্য গুদামে যাওয়া-আসা করছি। কিন্তু গুদামে জায়গা নেই বলে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারবো কিনা, তা নিয়েও শঙ্কায় আছি।
লোহাগাড়া উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিক উদ্দিন জানান, গুদামে প্রায় ১১শ টন সরকারি চাল মজুদ থাকায় জায়গা সংকট রয়েছে। তাই ধান সংগ্রহ কিছুটা ধীরগতিতে করতে হচ্ছে। এই বছর ১৩৫ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের পরিকল্পনা থাকলেও কৃষি অফিস প্রায় ১ হাজার ৪শ কৃষকের তালিকা পাঠিয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আগ্রহী কৃষকের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম জানান, সরকারিভাবে ধান সংগ্রহে কৃষক হয়রানি হওয়া খুবই দু:খজনক। ধান বিক্রি করতে এসে কোনো কৃষক যাতে হয়রানির স্বীকার না হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সেভাবে উদ্যোগ নেয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান ক্রয়ে কোনো ধরণের অনিয়ম বা কৃষক হয়রানি কাম্য নয়। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner