Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | মেহেদির রঙ না মুছতেই সলিল সমাধি, খোঁজ মেলেনি নববধূর

মেহেদির রঙ না মুছতেই সলিল সমাধি, খোঁজ মেলেনি নববধূর

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : হাত থেকে মেহেদির রঙ না মুছতেই সলিল সমাধি হয়েছে রাজশাহীর নববধূ সুইটি খাতুন পূর্ণিমার (২০)। হাজার স্বপ্ন চোখে তলিয়ে গেছেন পদ্মার কালো জলের অতলে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর শ্রীরামপুর এলাকার পদ্মায় নদীতে নৌকা ডুবে নিখোঁজ হন ওই নববধূ।

রোববার (৮ মার্চ) দ্বিতীয় দিনের মতো নববধূসহ তিনজনের মরদেহের সন্ধানে পদ্মায় নেমেছেন ডুবুবিরা। তবে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কোনো মরদেহের সন্ধান মেলেনি।

এদিকে নববধূর মরদেহের আশায় পদ্মাপাড়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন বর আসাদুজ্জামান রুমন (২৬)। একই নৌকার সহযাত্রী ছিলেন নতুন এই যুগল। নিখোঁজ স্বজনদের মরদেহের আশায় পদ্মাপাড়ে অপেক্ষা করছেন স্বজনরাও। ভিড় জমিয়েছেন বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা।

বিয়ের দ্বিতীয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা সেরে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে ফেরার পথে নৌকাডুবিতে তলিয়ে যান পূর্ণিমা। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফেরেন বর রুমন। জীবিত উঠে আসেন নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩২ জন। -জাগো নিউজ

এ দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হন কনে পূর্ণিমাসহ ৯ জন। দুর্ঘটনার পর থেকে শনিবার (৭ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত একে একে পদ্মা থেকে উঠে আসে ছয়জনের মরদেহ। তবে খোঁজ মেলেনি কনে পূর্ণিমা, তার খালা আঁখি (২৫) ও ফুফাতো বোনের মেয়ে রুবাইয়ার (১০)।

এ পর্যন্ত যাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন- কনের চাচা শামীম (৪০), চাচি মনি বেগম (৩৫), তাদের মেয়ে রশ্মি (১০), কনের দুলাভাই রতন আলী (২৮), ভাগনি মরিয়ম (৮) এবং খালাতো ভাই এখলাস (২৮)।

রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদু রউফ জানান, শনিবার ডুবে যাওয়া একটি নৌকা পাওয়া গেছে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ পাওয়া গেছে অন্য নৌকাটিও। তবে সেখানে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ তিনজনের মরদেহের সন্ধানে অভিযান চালছে।

অনুসন্ধান ও উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের ফোকাল পয়েন্ট সালাহউদ্দিন আল ওয়াদুদ বলেন, নৌকা দুটিতে ৪১ জন আরোহী ছিলেন। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৩২ জনকে। মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ছয়জনের। এখনও নিখোঁজ কনেসহ তিনজন। তাদের উদ্ধারে তৎপরতা চলছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পদ্মার ওপারের পবা উপজেলার চরখিদিরপুর এলাকার ইনসার আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান রুমনের সঙ্গে একই উপজেলার ডাঙেরহাট এলাকার শাহীন আলীর মেয়ে সুইটি খাতুন পূর্ণিমার বিয়ে হয়। শুক্রবার (৬ মার্চ) বরের বাড়ি থেকে দুটি নৌকায় বর-কনেকে নিয়ে আসছিল কনেপক্ষ। সন্ধ্যা ৭টার দিকে নৌকা দুটি রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর ডিসির বাংলো এলাকায় পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!