
নিউজ ডেক্স: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে মো. গোলজার হোসেনের নামের এক ব্যক্তির জানাজা ও দাফন কার্যক্রম আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। পরে পরিবারের সদস্যরা দাবি করা টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে।
মৃত ব্যক্তি উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের গোপেরবাগ এলাকার বাসিন্দা ও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ঈদুল আজহার দিন দুপুরে তিনি মারা যান।
জানা গেছে, গতকাল (২৯ মে) শুক্রবার সকাল আটটার দিকে গোলজার হোসেনের জানাজার জন্য তার মরদেহ মশুরাকান্দা ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়। এ সময় উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধান মৃতের কাছে পূর্বের ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা পাওনার দাবি তুলে জানাজা ও দাফনে বাধা দেন। পাওয়া পরিশোধ না করার আগে জানাজা সম্পন্ন হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মৃতের স্বজনরা পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর জানাজা সম্পন্ন করার সুযোগ দেয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা হজরত মিয়া জানান, জানাজায় কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। যে ঘটনা ঘটেছে, সেটা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ব্যাপার। এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বক্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে মৃত ব্যক্তির ভাগিনা সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনার সমাধান হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সায়েম প্রধান সবার কাছে ক্ষমাও চেয়েছে।
মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যের মধ্যকার ভাতিজা সাইফুল ইসলামের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় এবং সুমন নামক আরেক ভাগিনার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা সত্ত্বেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
জানাজা আটকানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধান বলেন, গোলজার হোসেনের সঙ্গে আমার ব্যবসায়ী লেনদেন ছিল। তার কাছে আমি মুরগি ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা পাওনা ছিলাম। ওই টাকার জন্য বহুবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও টাকা পাইনি। মূলত টাকার জন্য জানাজা আটকিয়েছি বিষয়টি তেমন না। একটা সমাধানের জন্যই ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে মৃতের পরিবারের সদস্যরা রোববার টাকা ফেরত দেবে বলে জানান। ওইটার সমাধান হয়েছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমাদেরকে কেউ অবগত করেনি। যদি আমাদেরকে জানানো হতো তাহলে অবশ্যই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো।