
এলনিউজ২৪ডটকম: যে ফুল শুধু রঙ আর সুবাস ছড়িয়ে দেয়, তার বুকে কেন এমন আঘাত। পাপড়ির কোমলতা কি এতটাই অসহ্য হয়ে উঠে কারো কাছে। ফুল তো প্রতিবাদ করে না, তবু কেন সে নিপীড়নের শিকার। যে হাত ফুলে আঘাত করে, সে হাত কি কখনো ভালোবাসা বুঝতে পারে। ফুল বাঁচানো মানে সৌন্দর্য, কোমলতা আর মানবিকতাকে বাঁচিয়ে রাখা।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতের যে কোনো সময় লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চেঁদিরপুনি বড়–য়া পাড়া এলাকায় কে বা কারা এক কৃষকের সূর্যমুখী ফুলের বাগান নষ্ট করে দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হেমাঙ্গ বড়–য়া (৫৭) একই এলাকার জীবন হরি বড়–য়ার পুত্র।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হেমাঙ্গ বড়–য়া জানান, গত তিন বছর ধরে তিনি বাড়ির পাশের ১০ শতক জমিতে সূর্যমুখী ফুলের বাগান করে আসছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও পরীক্ষামূলকভাবে তেল উৎপাদনের লক্ষ্যে সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হন। বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও একই জায়গায় ফুলের চাষ করেন। ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে পথচারীরা প্রায়ই বাগানে এসে ছবি তুলতেন। মানুষ ফুল হাতে ছবি তুলছে এই দৃশ্য তার ভালো লাগত, তাই কাউকে কোনো দিন নিষেধ করেননি। তবে অনেকেই ছবি তোলার পাশাপাশি ফুল ছিঁড়ে নিয়ে যেতেন, এতে তার আর্থিক ক্ষতি হতো। তিনি আগতদের শুধু ছবি তুলতে অনুরোধ করতেন, যেন ফুল না ছেঁড়া হয়। কিন্তু দু:খজনকভাবে রাতের আঁধারে কে বা কারা তার জমির সব সুর্যমুখী ফুলের গাছ ভেঙে দিয়েছে। এতে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন বলে জানান।
লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম জানান, কৃষক হেমাঙ্গ বড়–য়াকে সূর্যমুখী চাষের জন্য সরকারি প্রণোদনার আওতায় সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। প্রতি বছরই তিনি নিয়মিতভাবে সূর্যমুখী চাষ করে আসছেন। সৌন্দর্যের পাশাপাশি কৃষকদের ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। রাতের আঁধারে কে বা কারা তার সূর্যমুখী ফুলের বাগান নষ্ট করে দেয়ার খবর পেয়ে একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এতে তার প্রায় অর্ধ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভবিষ্যতে হেমাঙ্গ বড়–য়াকে আরো বড় পরিসরে সূর্যমুখী চাষে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি প্রণোদনা পাওয়া গেলে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner