Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | দোহাজারীতে জায়গার বিরোধে মারামারিতে শিক্ষক নিহত

দোহাজারীতে জায়গার বিরোধে মারামারিতে শিক্ষক নিহত

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : চন্দনাইশের দোহাজারীতে জায়গার বিরোধকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনায় দোহাজারী জামিজুরী আহমদুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলহাজ্ব মো. বাহারুল আলম (৬৫) নিহত হয়েছেন। তিনি ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আহমদুর রহমান চেয়ারম্যানের ২য় পুত্র।

গতকাল বুধবার আসর নামাজের পর দোহাজারী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড উত্তর চাগাচর ফুলতলাস্থ ফজর আলী খান মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরো ৪ জন আহত হয়।

নিহতের ছোট ভাই আকতারুল আলম বাদি হয়ে ঘটনার দিন রাতেই ৫ জনের নাম উল্লেখ করে চন্দনাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ১নং আসামি ছৈয়দ মো. খোরশেদ আলমকে(৪০) গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে চালান দিয়েছে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন আসর নামাজের পর জায়গা-সম্পত্তির বিরোধ নিয়ে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের মৃত মাহাবুবুর রহমানের পুত্র ছৈয়দ মো. খোরশেদ আলমসহ অন্যান্যদের সাথে শিক্ষক বাহারুল আলমের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রুপ নেয়। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন শিক্ষক বাহারুল আলমকে কিল-ঘুষি মারলে তিনি ঘটনাস্থলে পড়ে অচেতন হয়ে পড়েন।

ঘটনার সময় আকতারুল আলমের দুই পুত্র প্রবাসী কাউসার আলম ও সায়েদ মো. রাব্বি (২১), মৃত আনোয়ারুল আলমের পুত্র আহমদুর রহমান রিপন (৩০), মৃত শামসুল আলমের পুত্র মো. জুনায়েদ (২৬) এবং মৃত মাহাবুবুর রহমানের পুত্র ছৈয়দ মো. খোরশেদ আলম (৪০) আহত হন। ঘটনার পরপর শিক্ষক বাহারুল আলমকে উদ্ধার করে দোহাজারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দোহাজারী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু তৈয়ব জানান, আসরের নামাজের পর বাহারুল আলম নামে ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে দু’পক্ষের মারামারির সময় মারা যাওয়ার ঘটনা শুনে তিনি পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। মরদেহের মুখের বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মো. হুমায়ুন কবির, চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দীন সরকার, ওসি (তদন্ত) মজনু মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

নিহতের ভাই আকতারুল আলম জানান, তার বড় ভাই বাহারুল আলম মসজিদ থেকে আসর নামাজ পড়ে বের হলে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে ছৈয়দ মো. খোরশেদ আলম জায়গা-সম্পত্তির বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বুকে ও মুখে জোরে ঘুষি মেরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তার ভাই বাহারুল আলম মারা যান। এ ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে খোরশেদ আলমকে ১নং আসামি করে ৫ জনের নাম দিয়ে চন্দনাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দীন সরকার জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং দোহাজারী হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আকতারুল আলম বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ইতিমধ্যে ওই মামলার ১নং আসামি খোরশেদকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বাদে মাগরিব দোহাজারী জামিজুরী আহমদুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা শেষে শিক্ষক বাহারুল আলমকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি স্ত্রী, ৪ কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে যান। আজাদী অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!