Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | দক্ষিণ চট্টগ্রামের লাখো যাত্রী ভোগান্তিতে, নতুন ব্রিজে ত্রি-হুইলার নৈরাজ্য!

দক্ষিণ চট্টগ্রামের লাখো যাত্রী ভোগান্তিতে, নতুন ব্রিজে ত্রি-হুইলার নৈরাজ্য!

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : গণপরিবহন নৈরাজ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামের নিত্যদিনের যাত্রীদের ভোগান্তির অন্ত নেই। সকালে নগরে প্রবেশ করে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে প্রথম ভোগান্তিটাই হচ্ছে ত্রি-হুইলারে আসন নেওয়া। ভুক্তভোগীরা জানান, নগরীর শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত যেতে ভোগান্তির শেষ নেই তাদের। একই অবস্থা হয় ফিরতি পথেও। নতুন ব্রিজে প্রায় তিন শতাধিক থ্রি-হুইলারের (মাহেন্দ্র) নৈরাজ্যে তটস্থ দক্ষিণ চট্টগ্রামের লাখো যাত্রী।

অভিযোগ রয়েছে, নতুন ব্রিজকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির নামধারী শ্রমিক সিন্ডিকেট এ নৈরাজ্যের নেতৃত্ব দেন। এর পেছনে যোগসাজসের অভিযোগ রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধেও। সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন ব্রিজ থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত বিআরটিএ অনুমোদিত রুট হলেও অটোটেম্পোগুলো চলাচল করে নিউ মার্কেট পর্যন্ত। এই রুটে ১৫৪টির মত অটোটেম্পোর পারমিট রয়েছে। তবে গাড়ি চলে দুইশর অধিক। মাহেন্দ্র নামের এসব গাড়িতে চালকসহ ৬ জনের পারমিট থাকলেও যাত্রী নেওয়া হয় ১০ জন। আবার এই রুটে টাইগারপাস পর্যন্ত ১০ টাকা এবং নিউ মার্কেট ৮ টাকা ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও নিউ মার্কেট পর্যন্ত নেওয়া হয় ১০ টাকা। এর মধ্যে চাক্তাই মোড় থেকে কোনো যাত্রী উঠলে তাদের কাছ থেকে পুরো ভাড়া আদায় করা হয়। অন্যদিকে কোনো প্রকার বৈধ রুট না থাকলেও নতুন ব্রিজ থেকে মইজ্জ্যারটেক পর্যন্ত প্রায় একশ অটোটেম্পো চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করে চলে এসব টেম্পো। নতুন ব্রিজ এলাকায় অনেকটা জঞ্জাল তৈরি করে রাখা টেম্পোগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাফিক কোনো ব্যবস্থা নেয় না। আবার এই রুটগুলোতে চলাচলকারী মাহেন্দ্র টেম্পোর বেশিরভাগ চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। তবে কখনো বিআরটিএ কিংবা সিটি কর্পোরেশন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে এসব মাহেন্দ্রকে দেখা যায় না।

চট্টগ্রাম অটোরিকশা অটোটেম্পো শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম খোকন বলেন, পুলিশকে মাসোহারার মাধ্যমে এই রুটে দুইশ মাহেন্দ্র চলে। এই রুটে নিয়মিত যাত্রীর সংখ্যা বেশি। এতে গাড়ির চাহিদা থাকে। ভাড়াও বেশি আদায় হয়। এসব মাহেন্দ্র লাইনে ঢোকার জন্য প্রথমে ২০-৩০ হাজার টাকা করে নেয়া হয়। তাছাড়া মইজ্জ্যারটেক পর্যন্ত একশর মত মাহেন্দ্র চলে। এগুলোর কোনো রুট পারমিট নেই। পুলিশকে ম্যানেজ করেই চলে এসব গাড়ি।

তিনি আরো বলেন, আগে নতুন ব্রিজে পুলিশের নামে টাকা নেওয়া হত। কিন্তু পুলিশের আইজির ঘোষণার পর বেশ কিছুদিন ধরে রাস্তায় কোন চাঁদা নেয়া হয় না। কিন্তু নিউ মার্কেটে প্রত্যেক মাহেন্দ্র থেকে প্রতি ট্রিপে ২০ টাকা করে নেওয়া হয়। এভাবে আসা যাওয়া ১০ ট্রিপ হলে দুইশ টাকা নেওয়া হয়। জানে আলম, জাহেদ, বাবুল নামের কয়েকজন এসবের সাথে জড়িত। তারাই পুলিশকে ম্যানেজ করে বলে জানান তিনি।

এদিকে এই সড়কের যাত্রীদের অভিযোগ মাহেন্দ্রগুলো বেপরোয়াভাবে চলে। মো. হাবিব নামের এক যাত্রী বলেন, মাহেন্দ্রগুলো কখনো লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। আবার একসাথে প্রতিযোগিতা দিয়ে যাত্রী নেয়। অনেক সময় পেছনের বাম্পারে দুজন যাত্রী নেয়া হয়। তারা দাঁড়িয়ে থাকে। কেউ প্রতিবাদ করলে গন্তব্য শেষ হলে চালকরা যাত্রীদের নাজেহাল করে। বিশেষ করে নতুন ব্রিজের যাত্রীরা কোনো কথাই বলতে পারে না।

নগর ট্রাফিকের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ট্রাফিক বিভাগের অভিযান প্রতিনিয়ত চলে। অবৈধ গাড়ি চলাচলরোধে মামলা দেওয়া হয়, টো করা হয়। নতুন ব্রিজেও এ ধরনের অভিযান চলে। তাছাড়া কোনো ট্রাফিক সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!