Home | ব্রেকিং নিউজ | চুনতি অভয়ারণ্যের বুকচিরে যাচ্ছে রেলপথ, কাটা পড়বে শতবর্ষী গর্জনসহ লক্ষাধিক গাছ

চুনতি অভয়ারণ্যের বুকচিরে যাচ্ছে রেলপথ, কাটা পড়বে শতবর্ষী গর্জনসহ লক্ষাধিক গাছ

image_printপ্রিন্ট করুন

546

নিউজ ডেক্স : এশিয়ান হাতির অন্যতম আবাসস্থল এবং হাতির প্রাকৃতিক প্রজনন কেন্দ্র চুনতি অভয়ারণ্য ২০১২ সালে বন ও পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় জাতিসংঘের ‘ইকুয়েটর পুরস্কার’ লাভ করে। এ অভয়ারণ্যের বুকচিরে (কোর জোন) যাচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ। এতে কাটা পড়বে বনটির শতবর্ষী ৫০টি গর্জন গাছসহ লক্ষাধিক গাছ।

পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন ও বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা, এতগুলো গাছ কেটে রেলপথ তৈরি করতে গিয়ে এ অভয়ারণ্যের সুদূরপ্রসারী ক্ষতি হবে। হুমকিতে পড়বে এ অভয়ারণ্যের বিশাল জীববৈচিত্র্য। বৃক্ষনিধন, শব্দদূষণ ও ভীতির কারণে হারিয়ে যেতে পারে শতবর্ষী গাছে বাস করা বিলুপ্তপ্রায় বহু পাখিসহ নানা বন্যপ্রাণী। অথচ এ অভয়ারণ্যকে রেহাই দিয়ে চুনতি বাজার থেকে হারবাং পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্বদিকে রেলপথ তৈরি হলে এ বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা পেত।

বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চকরিয়া ও বাঁশখালী এলাকায় ১৯ হাজার ১৭৭ একর জমি নিয়ে চুনতি সংরক্ষিত অভয়ারণ্য এলাকা। অভয়ারণ্য ঘোষণার পর এ বনে ধীরে ধীরে ফিরে আসছিল জীববৈচিত্র্য। সংরক্ষিত এ বনে বর্তমানে ১৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৫৩ প্রজাতির পাখি, সাত প্রজাতির সরীসৃপ এবং ১০৭ প্রজাতির গাছপালা রয়েছে। মূলত বৃক্ষ এবং বৃক্ষের ফলের ওপর নির্ভরশীল এ প্রাণীর জীবন চক্র।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চুনতি অভয়ারণ্য শতবর্ষী মা গর্জন গাছসমৃদ্ধ বিশাল বনাঞ্চল। বনের ভেতর রোহিঙ্গাসহ স্থানীয়দের অবৈধ বসতিসহ কাঠ ব্যবসায়ীরা মূলত এ বনাঞ্চল ধ্বংসের অন্যতম কারণ। এখন আবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ যাওয়ার কারণে কাটা পড়বে শতবর্ষী অন্তত পঞ্চাশটি মা গর্জন গাছসহ অর্ধলক্ষাধিক গাছ। নষ্ট হবে জলাধারসহ বিভিন্ন ছড়া।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ রেলপথ চুনতি অভয়ারণ্যের ভেতর প্রায় ১০ কিলোমিটার যাবে। ওই রেললাইনের ২১টি স্থানে রয়েছে হাতির বসতি ও চলাচলের পথ।

চুনতি অভয়ারণ্যের রেঞ্জ কর্মকর্তা মঞ্জু আলম জানান, রেলপথ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্বপাশে দক্ষিণ বন বিভাগ দিয়ে গেলে হয়তো অভয়ারণ্যের ক্ষতি কম হতো। সুরক্ষিত থাকত এ বনের বিশাল জীববৈচিত্র্য।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, এ রেলপথ তৈরি করতে গিয়ে অভয়ারণ্যের কিছু ক্ষতি হচ্ছে। তবে বনের পরিবেশ নিয়ে সচেতন রয়েছি। যতগুলো গাছ কাটা যাবে, তার তিন গুণ গাছ আমরা লাগিয়ে দেব। হাতির চলাচলের জন্য পরিবেশবান্ধব ওভারপাস এবং বন্যপ্রাণীর জন্য কিছু জলাধার তৈরি করা হবে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাসের মো. ইয়াছিন বলেন, রেললাইন নির্মাণের ফলে জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্ষতি হবেই।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

চুনতি অভয়ারণ্য নিয়ে ১৯৯০ সাল থেকে কাজ করা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা ফিরোজ বলেন, একটা অভয়ারণ্যের কোর জোনের (প্রধান অংশ) ভেতর দিয়ে যেখানে মানুষের প্রবেশ নিষেধ, সেখানে রেলপথ নিয়ে যাওয়া কোনোমতেই উচিত নয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক আকতার হোসেন বলেন, কাটাপড়া গাছের মধ্যে যদি কোনো বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী কিংবা বিপন্ন উদ্ভিদ থাকে, তাহলে ওই প্রজাতিটির সংশ্লিষ্ট অঞ্চল থেকে বিলুপ্তির সম্ভাবনা তৈরি হবে।

পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন, তবে তা বন ও পরিবেশ ধ্বংস করে অবশ্যই নয়।

সূত্র : দেশ রূপান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!