Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | ‘আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত’

‘আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত’

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : ‘আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত’। নিজের বসার চেয়ারের পেছনের দেয়ালের কাগজে লেখা। জরুরি কাজে যারা দেখা করতে কিংবা পুলিশি সেবা নিতে আসেন তারা এটা দেখে সাহস পান। শুধু সেখানেই নয়, কার্যালয়ের মূল ফটকেও একই স্লোগান।  

এমন ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের রাঙ্গুনিয়া সার্কেল কার্যালয়কে দুর্নীতিমুক্ত ঘোষণা করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম।
 
তিনি বলেন, এ দফতরের কোনো কাজে ঘুষ নেওয়া হয় না। গত বছরের আগস্ট থেকে কার্যালয়ের মূল ফটকে ‘আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত’ ঘোষণাপত্র লাগিয়ে দিয়েছি।  

জানা যায়, আগস্ট মাসের শুরুতে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের দায়িত্বভার নেন এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম। তারপর থেকেই অনিয়ম দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর ভূমিকা নেন। তার অধীন রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানার সর্বস্তরের পুলিশ সদস্যদের দেওয়া হয় কঠোর বার্তা। শুধু কথা বলেই তিনি দায়িত্ব শেষ করেননি, নিজেই তৈরি করেছেন উদাহরণ।  

পুলিশের বিরুদ্ধে অনেক পুরনো অভিযোগ ভেরিফিকেশনে গিয়ে ঘুষ গ্রহণের বদলে উল্টো তিনি উপহার দিয়ে এসেছেন ফুল এবং মিষ্টি। সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সংক্রান্ত হয়রানি দূর করার জন্য তিনি নিজ খরচে থানায় সরবরাহ করেছেন বিনামূল্যে জিডি করার ফরম।

এরপরও যদি সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা ভোগান্তির শিকার হতে হয় তবে সরাসরি এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়ে রেখেছেন তিনি।  

দুর্নীতি ও জনভোগান্তি প্রতিরোধে সার্কেল এএসপি’র এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এবং অফিসে এমন ঘোষণাপত্র ঝুলিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষও।  

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা বাচাশাহ এলাকার বাসিন্দা ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ইমরান হোসেন জানান, যোগদানের পর অল্প সময়ের মধ্যেই এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম একজন সৎ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিজের পরিচয় তুলে ধরেছেন। সব জায়গায় তার মতো অফিসার থাকলে পুলিশ জনগণের প্রকৃত আস্থা ও বিশ্বাসের ঠিকানায় পরিণত হবে।  

এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, রাঙ্গুনিয়া সার্কেলে যোগদানের পর থেকে আমার দফতরকে দুর্নীতিমুক্ত ঘোষণা করে এ ঘোষণাপত্র লাগানো হয়েছে। পরবর্তীতে সার্কেলের সব অফিসে দুর্নীতিমুক্ত ঘোষণাপত্র লাগানো হবে। এরপরও যদি কেউ দুর্নীতির শিকার হন বা কারও কাছ থেকে ঘুষ ও অবৈধ সুবিধা কেউ দাবি করে সেক্ষেত্রে হটলাইন (৯৯৯) অথবা আমার নম্বরে বা সরকারি নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

সময়ের পরিক্রমায় এরকম আরো জনবান্ধব উদ্যোগ নেবেন জানিয়ে তিনি জানান, পুলিশে পরিবর্তনের ধারা সূচিত করার লক্ষ্য নিয়েই এই পুলিশ সার্ভিসে এসেছি। আমি স্বপ্ন দেখি, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশ পুলিশও একদিন দেশবাসীর কাছে সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা ও সম্মান পাওয়ার যোগ্য হবে। বাংলানিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!