Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | অলির বক্তব্যে বিএনপিতে অস্বস্তি ক্রমাগত বাড়ছে!

অলির বক্তব্যে বিএনপিতে অস্বস্তি ক্রমাগত বাড়ছে!

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন নিয়ে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদের সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন বক্তব্যে বিএনপিতে অস্বস্তি ক্রমাগত বাড়ছে। তার রাজনৈতিক বক্তব্য ও তৎপরতা নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রকাশ্যে কোনো কথা না বললেও প্রকাশ করছেন সন্দেহ। এই সন্দেহ ক্রমেই হচ্ছে ঘনীভূত।

জোটের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেও জোটের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ ‘ইউটার্ন’ নিয়ে বিএনপির সংসদে যোগ দেয়ার কঠোর সমালোচনা করেন অলি আহমদ। তারপর তার স্বরে চড়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টবিরোধী বক্তব্য। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে বিএনপিকে নিয়ে এই ফ্রন্ট গঠন করেছিলেন গণফোরামের প্রধান ড. কামাল হোসেন।

বিএনপির সংসদে যোগ দেয়া থেকে শুরু করে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের তীব্র সমালোচনা করে অলি আহমদ এগুলোকে আত্মঘাতী পদক্ষেপ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি প্রয়োজনে নেতৃত্ব ছেড়ে দেয়ারও পরামর্শ দেন বিএনপিকে।

এরপর ঐক্যফ্রন্টের বিপরীতে দাঁড়াতে ২০ দলীয় জোটের কয়েকটি শরিক দলকে নিয়ে ‘জাতীয় মুক্তিমঞ্চ’ গঠন করে বিএনপিকে একধরনের চাপের মধ্যে রাখার কৌশল নেন অলি আহমদ।

যদিও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য, অলির ‘মুক্তিমঞ্চ’ কৌশলকে অকার্যকর করতে নানা উদ্যোগ নেয় বিএনপি। মুক্তিমঞ্চের শরিকদের চাপে ফেলে অলি আহমদকে প্রায় একা করে ফেলা হয়। অন্যদিকে তার দল এলডিপিতেও ভাঙন ধরে। আবদুল করিম আব্বাসী ও শাহাদাত হোসেন সেলিমের নেতৃত্বে আলাদা এলডিপি গঠিত হয়। অবশ্য আব্বাসী-সেলিমের নেতৃত্বাধীন এলডিপিতে তারা দুজন ছাড়া এখন আর উল্লেখযোগ্য কেউ নেই। অধিকাংশই মূলধারার এলডিপিতে ফিরে গেছেন।

‘মুক্তিমঞ্চ’ ঠিক কার্যকর কোনো প্লাটফর্ম হতে না পারায় সম্প্রতি কয়েকটি ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারে নানা ধরনের বক্তব্য দিতে থাকেন অলি আহমদ, যেখানে বিএনপির ব্যর্থতাকেন্দ্রিক সমালোচনা এবং ঐক্যফ্রন্টবিরোধিতাই বেশি। তার সব বক্তব্যের সারকথা, ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন ‘বিশেষ কোনো মহলের’ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়েছেন। পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই ড. কামাল এই কাজটি করেছেন। ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের মূল আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিএনপি প্রতারণার শিকার হয়েছে।

যদিও বিএনপির নেতৃত্বের একটি অংশসহ তৃণমূল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যাওয়াকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করে। সে কারণে অলি আহমদের সাম্প্রতিক সময়ের বক্তব্য ২০ দলীয় জোটের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

তবে অলি আহমদের এই ধরনের বক্তব্য সম্পর্কে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জাগো নিউজকে বলেন, হঠাৎ অলি আহমদের এসব বক্তব্য বিএনপি ও ২০ দলকে বিব্রত করেছে। তাছাড়া অলি আহমদের বক্তব্য কখনও হুবহু, কখনও আংশিক সম্পাদনা করে, আবার কখনও বিকৃত আকারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

বিএনপি নেতারা জানান, বিষয়টি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ইতোমধ্যে বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। এমনকি জোটের দুটি শরিক দলের প্রধানের সঙ্গেও কথা বলেছেন তারেক রহমান।

অলি আহমদের সাম্প্রতিককালের রাজনৈতিক বক্তব্য ও তৎপরতা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো কথা না বললেও বিএনপির ওই নেতারা বলছেন, তার বক্তব্যকে সহজভাবে নিচ্ছে না দলের হাইকমান্ড। তারা মনে করছেন, জিয়া পরিবার নিয়ে জনগণের আবেগ, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তারেক রহমানের পোক্ত অবস্থান না থাকা, মুক্তি দেয়ার ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়াকে সরকারের শর্তে ফেলে দেয়ার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে রাজনীতিতে নতুন কোনো বলয় সৃষ্টি করতেই অলি আহমদ এই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।

সূত্র মতে, তারেক রহমানসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ কোনো নেতার সঙ্গেই অলি আহমদের সম্পর্ক ভালো নয়। বিএনপির অনেকের মতে, অলি আহমদের মনোভাব এমন যে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চেয়েও বড় নেতা তিনি। ঘটনাচক্রে জিয়াউর রহমান বড় নেতা হয়েছেন— এমন কথা অলি আহমদ ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় প্রায়ই বলে থাকেন বলেও বিএনপির মধ্যে আলোচনা আছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে অলি আহমদের সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন বক্তব্য আরও ক্ষুব্ধ করেছে বিএনপির নেতাদের।

দলটির কয়েকজন নেতার মতে, যদিও বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনে অলি আহমদ ও তার দলকে জোটে নেয়া হয়েছে। তবে সাম্প্রতিককালে অলির তৎপরতা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে ‘নতুন ধরনের সন্দেহ’ ঘনীভূত হয়েছে। দলটির নেতাদের কাছে খবর এসেছে যে, জোটের পাশাপাশি বিএনপির কিছু নেতাকে ডেকেও অলি আহমদ তার সঙ্গে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছেন। ২০ দলীয় জোটের ভেতরে-বাইরে অনেক দলের সঙ্গে তিনি কথা বলছেন বলেও জানা যায়। সেজন্য অলির ব্যাপারে নড়েচড়ে বসেছে বিএনপির নেতৃত্ব।

অলি আহমদ এক ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারে জানান, খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খানকে ব্যবস্থা করতে বলেন। কিন্তু দেড় মাসেও নজরুল ইসলাম খান তাকে কোনো উত্তর দেননি।

অলি আহমদের সাম্প্রতিক সময়ের বক্তব্য প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি কিছুই বলবো না। উনি তো বলেছেন, উনি ২০ দলে আছেন। আমি তো কোনো সমস্যা খুঁজে পাচ্ছি না।’

খালেদা জিয়ার সঙ্গে অলি আহমদের দেখা করার বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিষয় হচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়ার শরীর খুব ভালো নয়। আমাদের সঙ্গেই তার দেখা হয় খুব কম। অলি সাহেব আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, এটা ঠিক। তিনি সাক্ষাৎ করতে চান। সাক্ষাতের সুযোগ হলে ভালো হয়, তিনি আগ্রহী। এখন কথা হলো ম্যাডামের শরীরের যে অবস্থা, সেই অবস্থায় আমরা তাকে ইনসিস্ট করতে পারছি না যে, তিনি দেখা করবেন। কাজেই ব্যাপারটি এমন কিছু নয়। তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। আমারই তো ম্যাডামের সঙ্গে দেখা হয় না। ভালো করে দেখা না হলে আমিই-বা কথা বলবো কী করে? এটা বলতেও তো একটা সময় দরকার, সুযোগ দরকার।’

২০ দলীয় জোটের এই সমন্বয়কারী আরও বলেন, ‘সময়-সুযোগ মতো আমি কথা বলবো তার সঙ্গে। কিন্তু আমরা নিজেরাই তো তার সঙ্গে দেখা করতে পারছি না, সুযোগ হচ্ছে না। তার শরীর ভালো নয়, এটা সবাই জানে।’ জাগো নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!