Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | অবৈধ ইটভাটা বিলীন করছে পাহাড়

অবৈধ ইটভাটা বিলীন করছে পাহাড়

image_printপ্রিন্ট করুন

1-59-800x471

নিউজ ডেক্স : সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বান্দরবানের লামায় গড়ে উঠেছে ৩৪টি অবৈধ ইটভাটা। এসব ইটভাটায় অনেক শিশু শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেছে।

লামার ফাইতং ও ফাঁসিয়াখালী এলাকাবাসী জানান, ইটভাটার মাটি সংগ্রহ করতে গিয়ে ইতিমধ্যে উপজেলার ৩ শতাধিক ছোট-বড় পাহাড় বিলীন হয়ে গেছে এবং বিশাল পরিমাণের জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে বৃক্ষশূণ্য হয়ে পড়েছে পাহাড়ি এলাকা। বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান জেলায় অনুমোদনপ্রাপ্ত কোন ইটভাটা নাই। উপজেলা প্রশাসন হতে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এবছর লামা উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় নতুন পুরাতন মিলে গড়ে উঠেছে ৩৪টি ইটভাটা। এরমধ্যে ফাইতং ইউনিয়নে ২৪টি, ফাঁসিয়াখালীতে ৬টি, গজালিয়ায় ২টি, সরইয়ে ১টি ও লামা পৌরসভায় ১টি ভাটা রয়েছে। কোনটির নেই সরকারি অনুমোদন। ফাইতং এলাকার ইটভাটাগুলো হচ্ছে এসমিএম, এফবিএম, এবিএম, এমবিএম, এবিসি, এবিসি (২), টিএইচবি, ইউবিএম, এসকেবি, এসএবি, এফএসি, এসবিডব্লিউ, পিবিসি, এমবিএম, ইবিএম, বিবিসি, এইচবিএম, এএমবি, থ্রিবিএম, ফাইতং (মানিকপুর অংশে) ফোরবিএম, এনাম ব্রিকস, গিয়াস উদ্দিন ব্রিকস, নাছির ব্রিকস, আব্দুর রহমান/জসিম ব্রিকস, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে এমএসবি, এএইচবি, কেবিসি, এমএইচবি, বিএনবি, পিবিএম, গজালিয়া ইউনিয়নে কেএমবি, এসবিএম, সরই ইউনিয়নে আরএনবি ও লামা পৌরসভায় এসবিএম।

লামার ফাইতং এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ২৪টি ইটভাটার ইট-মাটি পরিবহন ও জ্বালানি লাকড়ি সংগ্রহ কাজে ব্যবহৃত ভারী ট্রাকের কারণে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ভেঙ্গে চরম বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে গ্রামীণ অবকাঠামো। এসব এলাকার অধিবাসীরা জানান, ইটভাটার অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে বান্দরবান জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেও কোন প্রতিকার পায়নি তারা। বনজ সম্পদ ব্যবহারের সহজলভ্যতা ও দুর্বল প্রশাসনিক তদারকির কারণে ফাইতং ইউনিয়নে অবৈধ ইটভাটা স্থাপনের নিরাপদ জোনে পরিণত হয়েছে। দিনে দিনে ইটভাটার সংখ্যা বাড়ছে। একনাগাড়ে ভাটায় ইট পোড়ানোর কারণে স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে শ্বাসকষ্ট প্রদাহ জনিত রোগ, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যেকটি ইটভাটা বনের ভিতরে ও পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে। যাতে করে চরম হুমকির মুখে পড়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ। জানা গেছে, পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে ফাইতং-এ ২০১৫ সালে পাহাড়ধসে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। কিন্তু তাতেও টনক নড়েনি কারো। ইটভাটাকে নিরুৎসাহিত করতে ভূমিকা নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয়রা বলেন, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের এবছর নতুন করে আরো ৩টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। সবমিলে এবার ইটভাটার সংখ্যা ৬টি। নতুন ইটভাটা করতে গিয়ে নতুন নতুন পাহাড় কেটে ফেলা হচ্ছে এবং শেষ হচ্ছে বনাঞ্চল। প্রশাসনকে বলেও প্রতিকার মিলছে না। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালালেও তারা চলে গেলে আবারো পুরোদমে ইটভাটা শুরু হয়। দিনের পর দিন বদলে যাচ্ছে পাহাড়ি এলাকার চেহারা। উঁচু উঁচু পাহাড়গুলো সমতল হচ্ছে। বৃক্ষ উজাড় হতে হতে মরুময় হয়ে গেছে পুরো এলাকা। ভরাট হয়ে গেছে ছোট ছোট পাহাড়ি ছড়া ও খাল। ফাইতং ইউপি চেয়ারম্যান মো. জালাল আহমদ জানিয়েছেন, স্থানীয় ভূমি মালিকদের কাছ থেকে জমি লিজ বা ক্রয় করে ফাইতং ইউনিয়নে ২৪টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। লামা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শফিউর রহমান মজুমদার জানিয়েছেন, পরিবেশের এই বিরূপ প্রভাব রোধ করা না হলে স্থানীয় জনসাধারণ আরও জটিল রোগে আক্রান্ত হবে। লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহমদ জানান, বায়ু দূষণের কারণে বিভিন্ন ফলদ বাগানের ফলন কমে যাবে। বনজ বাগান লাল হয়ে চারা/গাছ মারা যাবে এবং উল্লেখযোগ্য হারে বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হবে। লামার দায়িত্বরত পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার অঞ্চলের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ইটভাটা স্থাপনের জন্য কোন ছাড়পত্র প্রদান করা হয় নাই। আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি বলেন, আলীকদমে কোন ইটভাটার লাইসেন্স নেই। শীঘ্রই অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সূত্র : দৈনিক পূর্বকোণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!