
এলনিউজ২৪ডটকম: লোহাগাড়ায় মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে আবু বক্কর (২২) নামে এক যুবক গুরতর আহত হয়েছেন। তিনি বাঁশখালী উপজেলা সদরের সরল এলাকার মো. ইউনুছের পুত্র ও মাদরাসার বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের রাজঘাটা হোসাইনিয়া আজিজুল উলুম মাদ্রাসায় এই ঘটনায় ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, মাদরাসা পড়–য়া ছাত্রী দীর্ঘদিন যাবত মানসিক সমস্যা ভুগছে। মাদ্রাসার শিক্ষকের শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে এমনটি হয়েছে বলে ধারণা করেছেন তার অভিভাবকরা। ঘটনারদিন দুপুর আড়াইটার দিকে ছাত্রীর স্বজনের নেতৃত্বে একদল যুবক মাদ্রাসায় গিয়ে নূরানী বিভাগের এক শিক্ষককে চড়-থাপ্পর মারে। এরপর অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এসে ছাত্রীর তাদেরকে সান্তনা দেয় এবং এই ব্যাপারে রাতে মাদ্রাসায় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। রাত ৮টার দিকে ছাত্রীর স্বজনের নেতৃত্ব তারা পুণরায় মাদরাসায় গিয়ে অশ্লীল ভাষায় কথাবার্তা বলেন। পরে মাদ্রাসার দায়িত্বশীলরা এসে তাদেরকে মুহতামিমের রুমে বসতে বলেন। কিছুক্ষণ পর রুম থেকে বের হয়ে মাদরাসা নিয়ে হাকাবকা করলে পুণরায় তাদেরকে রুমের ভেতর ঢুকিয়ে বাইরে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর তারা মুঠোফোনে বিষয়টি তাদের বন্ধুদের বলেন। পরক্ষণে একদল যুবক মাদ্রাসা গিয়ে গেটের সামনে আবু বক্করকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এ সময় ওয়ারিসুল মোস্তফা (১৭) নামে আরেক ছাত্রও আহত হয়েছেন। এ সময় মাদ্রাসার আবসিক ছাত্ররা উত্তেজিত হয়ে বহিরাগতদের উপর হামলার চেষ্টা করেন। মাদ্রাসার দায়িত্বশীল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উত্তেজিত ছাত্রদের শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মাদরাসার শিক্ষক বেলাল উদ্দিন জানান, কোনো শিক্ষক অপরাধ করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার হবে। এভাবে মাদ্রাসায় এসে কোনো শিক্ষককে মারধর ও হাকাবকা করা কোনোভাবে কাম্য নয়। ছুরিকাঘাতে আহত আবু বক্করকে আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। মাদরাসায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যাওয়া ৮ যুবককে আটক করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। উভয় পক্ষের সিদ্ধান্ত মতে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner