ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিতে ২ লাখ রোহিঙ্গা

বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিতে ২ লাখ রোহিঙ্গা

K H Manik Ukhiya Pic 31-03-2018

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া : মাস দুয়েক পরেই শুরু হবে বর্ষা মৌসুম। তবে বর্ষা এই মৌসুমে মারাত্মকভাবে সমস্যার সম্মুখীন হবে পাহাড়ে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা। বৃষ্টিতে ঘটতে পারে পাহাড় ধ্বসের মত ঘটনা। পাহাড়ের নরম মাটির সাথে ধ্বসে পড়বে রোহিঙ্গাদের ঘর বাড়ি। প্লাবিত হতে পারে নিচু এলাকা। সংকট দেখা যেতে পারে খাবার পানি ও খাদ্যের। এছাড়া ঘটতে পারে হতাহতের মত ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে চরম ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও রাখাইনদের নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে উখিয়া-টেকনাফের পাহাড় ও তার পাদদেশে।

গত ২৫ আগষ্টের আগ পর্যন্ত উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের লেদা নামে দুইটি রেজিষ্ট্রেট রোহিঙ্গা ক্যাম্প থাকলেও বর্তমানে ১২ ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা অবস্থান করছে। এসব রোহিঙ্গা ক্যাম্প তৈরী করা হয়েছে পাহাড় কেটে। তারা নিজেরাই প্রতিনিয়ত পাহাড় কেটে তৈরী করছে ঘরবাড়ি। ফলে সৃষ্টি হয়েছে ঝুকিপূর্ণ অবস্থা। এছাড়া তারা উজাড় করছে বনভূমি। দখল করেছে পশু-পাখির আবাসস্থল। এই অবস্থায় বৃষ্টির পানি পড়ার সাথে গড়িয়ে পড়বে নরম মাঠির পাহাড়ের উপরের ঘরগুলো। ইতি মধ্যেই গত ২০ দিন আগে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধ্বসে ৩টি ঘর পড়ে গেছে বলে জানান, ওই ক্যাম্পের মাঝি নুরুল ইসলাম। আসন্ন ঝুকিকে সামনে রেখে দূর্যোগ মোকাবেলার উপযোগী ঘর তৈরির প্রশিক্ষন দিচ্ছে আইএমও সহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশী এনজিও সংস্থা। এদিকে যতই দিন গড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা ততই আতংকিত হয়ে পড়ছে আর নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে।

উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সেনুয়ারা বেগম নামে এক রোহিঙ্গা নারী জানান, তিনি পাহাড়ে কখনও বসবাস করেনি। বাধ্য হয়ে তাকে পাহাড়ের ঢালুতে ঘর করতে হয়েছে। তার প্রতিরাতে ভয় লাগে যদি ঘরটা ভেঙ্গে পাহাড়ের নীচে পড়ে যায়। একই ভাবে লিয়াকত মিয়া নামে আরেক রোহিঙ্গা জানান, বৃষ্টি পড়লে তারা কোন অবস্থায় পড়ে তা বুঝতে পারছেনা। তার ধারনা পাহাড়ে থাকা নড়বড়ে সব ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়বে। কারন পাহাড়ের মাটিগুলো নরম। এছাড়া টয়লেট আর নলকূপগুলো অকেজো হয়ে পড়ছে। এতে দূষিত হবে পরিবেশ। আর মারাত্বক সমস্যায় পড়বে রোহিঙ্গারা।

কবির আহম্মদ নামে আরেক রোহিঙ্গা জানান, তিনি দূর্যোগ মোকাবেলার উপরে আইওএম থেকে প্রশিক্ষন নিচ্ছে। এরপরও তার মধ্যে অজানা আতংক কাজ করছে।

এ ব্যাপারে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে ঝুকির মধ্যে থাকা ২ লাখ রোহিঙ্গাকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া সহ সচেতনতামূলক কাজ চলছে। আগামী এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। বৃষ্টির আগেই ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলা না হলে হতাহত সহ বহুমুখি সমস্যার সৃষ্টি হবে। আর এর প্রভাব পড়বে কক্সবাজার সহ পুরো দেশে। আর এই সমস্যা সমাধানে দেশি-বিদেশী এনজিও সহ সকলে যেন যথাযথভাবে দ্রুত কাজ করে এমনই প্রত্যাশা করছে সচেতন মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*