ব্রেকিং নিউজ
Home | সাহিত্য পাতা | ডাঃ ফরিদা ইয়াসমিন সুমি’র ২টি কবিতা

ডাঃ ফরিদা ইয়াসমিন সুমি’র ২টি কবিতা

502

উদ্দেশ্যহীন

একটা জায়গা তবু থেকে যায় জীবনে
শোকের জায়গা, বেদনার জায়গা, নিঃস্ব হবার জায়গা
অস্তিত্বের মতো চিরকাল থেকে যায় জীবনে,
আর সেই থাকাটা চারদিকে ঘিরে থাকা প্রকাণ্ড দেয়ালের মতো!
শুকনো ফুলের পাপড়ি ঝরে পড়ে বইয়ের পাতার ভাঁজ থেকে
এতো অজস্রভাবে ছড়িয়ে থেকে যায় মায়াময় সব স্মৃতি!
গোটা অতীতটা জীবন্ত হয়ে একসঙ্গে সামনে ভেসে ওঠে
ইতস্তত হেঁটে চলে ভবিষ্যৎ এসে মিলিয়ে যায় বর্তমানে
তবু, প্রতিটি সময়ের কিছু না কিছু নিজস্ব গুণ থাকে
প্রতিটি জায়গার কিছু না কিছু একান্ত নিজস্বতা থাকে!
একজন বন্ধুর প্রয়োজনীয়তা তবু থেকে যায় জীবনে
মনের সবটুকু নিয়ে কাছাকাছি থাকা যায় এমন একজন
মুখোমুখি বসা কিছুটা সময়, নিজের কথা বলা, তার কথা শোনা
দিনান্তে হোক, সপ্তাহান্তে হোক, নিদেনপক্ষে যদি মাসান্তেও হয়
নিজের মতো হতে, একজন বন্ধু -মানুষের হাহাকার ফুরোয়না জীবনে
কাহাতক আর অন্য কেউ হয়ে জীবন কাটানো যায়,
সর্বক্ষণ অন্য কেউ হয়ে থাকাটা বড্ড বেশি মুশকিল!
সবকিছু থেকেও কিছুই থাকেনা যার, একাকীত্ব আগলে রাখে তাকে
শুধু নিঃসঙ্গতাই নয়, উদ্দেশ্যহীনতাও বেশ জাঁকিয়ে ধরে রাখে
সবারই সব থাকে -বিষাদ থাকে, গভীরতা থাকে, নিঃসঙ্গতা থাকে
মন জুড়ে থাকে আবছা রাস্তা, রঙ-ওঠা ল্যাম্পপোস্ট আর অচেনা পথচারী
কিম্বা হয়তো তারো অনেক পেছনে, যেখানে প্রেম-ভালোবাসা ক্রমেই ঝাপসা হয়ে আসে!
জীবন তবু ঘুরে ঘুরে আসে, ছক ধরে, বাঁক খেয়ে, ধীর অথচ সজীব স্রোতের মতো
আলগা নরম মাটিতে জিয়ল গাছের ডালও শেকড় ছড়িয়ে গাছ হয়!


নিরবতা

প্রগাঢ় নিস্তব্ধতা পেয়ে বসেছে আজকাল
একঘেয়ে সুরে বেজে চলেছে কলের গান
চাপ চাপ অন্ধকারে নিমজ্জিত প্রতিনিয়ত
বেহালা, তানপুরাতে পোকামাকড়ের বসতি।
মুখরিত দিনে অভিযোগ ছিলো নিরবতায়
নিরবতার প্রেমে পড়েছি আজ বেলাশেষে
সারারাত ক্ষণে ক্ষণে উতল হাওয়ার দোলে
আঙুলে আঙুল জড়িয়ে ভোরের সূর্য দেখি চলো….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*