Home | সাহিত্য পাতা | ডাঃ ফরিদা ইয়াসমিন সুমি’র ৩টি কবিতা

ডাঃ ফরিদা ইয়াসমিন সুমি’র ৩টি কবিতা

583

বেশি কিছু তো চাইনি

তুমিই ভুল বুঝেছিলে,
বেশি কিছু তো চাইনি তোমার কাছে,
চেয়েছিলাম শুধু ঘুমহীন রাত্রির পর
একটি রাঙা ভোর!
চেয়েছিলাম ভোরের নরম বিছানায়
গায়ে টানা পাতলা চাদর!
শিয়রের জানালায় নাম -না -জানা
পাখিদের ভৈরবী কলতান!

বেশি কিছু তো চাইনি তোমার কাছে
চেয়েছিলাম নিকোনো উঠোনে
আলতা পায়ে নূপুরের নিক্কন!
কুয়োর মুখে ফিরে আসা
আমারই নামের প্রতিধ্বনি!
কুহেলিতে মুখ ডুবিয়ে আর্দ্র হওয়া
গোলাপি বিকেল!

বেশি কিছু তো চাইনি তোমার কাছে
চেয়েছিলাম অচেনা পথের চেনা ঠিকানায়
হাঁটতে গিয়ে পথ হারাতে!
চেয়েছিলাম তোমার পুরোটা বর্ষা
বসন্তে ভরে দিতে!
নদীর বুকে রাতভর জেগে থাকা
রূপোলী চর হতে!

বেশি কিছু তো চাইনি তোমার কাছে
চেয়েছিলাম পাখির কোমল পালকে
নিরাভরণ দেহ ঢাকতে!
বুনো ঝর্ণার চঞ্চলতায় আকন্ঠ ডুবে
সুখের পায়রা হতে!
চন্দ্রগ্রস্ত বেলাভূমিতে আছড়ে পড়া
একজোড়া ঢেউ হতে!

অথচ কী ভীষণ ভুল বুঝলে তুমি আমায়
আমি তো বেশি কিছু চাইনি তোমার কাছে!!

 

দারুণ মায়ায় তোমার ছায়ায়

তোমার তো নেই টিকোলো নাক কিংবা দীঘলজোড়া ভ্রু
নেইকো গৌরবর্ণ কিংবা ঘনকালো চুল,
লম্বা একহারা পেটানো গড়ন ও নেই তোমার!
তবুও কী নিবিড় আকর্ষণে প্রতিনিয়ত কাছে টানো তুমি
অধরা এক অমোঘ নিয়তির মতোন!!
তুমি তো দাওনি জলমহল কিংবা হাওয়ামহল
দাওনি দাসীবাদী সহ স্ফটিক ফোয়ারায় স্নানের সুযোগ
বাগিচায় দাওনি সাজিয়ে মার্বেলপাথরে গড়া আবক্ষ মূর্তি!
তবুও কী পরম মমতায় কাছে টানো তুমি
কিছুতেই পারিনা ফেরাতে বাড়িয়ে দেয়া শুণ্য দু ‘হাত!
তুমি তো দাওনি চুনি -হীরা -পান্না খচিত মাথার মুকুট
সোনার খাঁচায় রূপোর দাঁড়ে দাওনি কোনো হীরামন তোতা,
তবু ও কী দারুণ মায়ায় তোমার ছায়ায় জড়াও তুমি
কিছুতেই ডিঙোতে পারিনা সর্বনেশে আকর্ষণের চৌকাঠ
ছাড়িয়ে যেতে পারিনা চৌম্বকপরিধির সীমানা!
বারবার বাঁধা পড়ে যাই তোমার সহজাত আকর্ষণী বাঁধনে।

লজ্জাবতী

রাত্রির আদিম নীরবতায়
লজ্জাবতীরা শিশিরে নেয়ে ওঠে
কোকিলের মিঠে গলার ডাকে
তন্বী হয়ে ওঠে লাল কৃষ্ণচূড়া
খোলস পাল্টানো নাগ
গন্ধ খোঁজে নাগিনীদেহের।
ফুলের সম্ভাবনার কুঁড়ি ধরেছে গাছে গাছে
নীড়ের নিবিড়তায় মিষ্টি ছন্দের নূপুর
বসন্তের প্রশ্রয়ে আগুন জ্বলে কুমারী ঠোঁটে
নিকোনো দাওয়ায় বাঁধভাঙা নদীর ঢেউ
মেঘের রুমালে চোখ বেধে
জোনাকি -জোনাকি খেলা খেলি
হৃদয়-সমুদ্রে জোয়ার আছে বলেই
সমুদ্দুরজল থেকে বেশি নুন ধরি
কেয়াফুলের গন্ধের মতো নেশা ধরানো শঙ্খচূড়ে
বুজানো লজ্জাবতীর পাতা খুলে যায়।।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*