ব্রেকিং নিউজ
Home | সাহিত্য পাতা | চুরির ঘটনা মনে পড়ে

চুরির ঘটনা মনে পড়ে

22448348_10214616937645873_2638985512566505493_n

শুভ্রা নীলাঞ্জন : পুজা আসলেই আমার জিবনের বিখ্যাত চুরির ঘটনা মনে পড়ে। ধুম টু দেখার পর আমার মেয়ে এতই ইন্সপাআর হইছিল তখন ও ক্লাস সিক্স এ পড়ে আবেগে আপ্লুত হইয়া বলে ফেললো ,মা আমি বড় হয়ে ঋত্বিক রোশন হব। আমি বললাম মানে কি? ও বলে বিখ্যাত চোর হব। কিন্তু আসলে তানা। পরে আমি আবিস্কার করলাম যে আমার জিন আমার মেয়ের শরীরে প্রবাহিত তাই ধুম টু দেখাড়পর পরই রক্তটা চনমন কইরা উঠছে চোর হওয়ার জন্য।

সামনে পূজা নূতন জামা কাপড়ের ঢল নামছে শপিং মল গুলোতে। আমার তিনি আমাদের যথা সময়ই টাকা দিয়ে দিয়েছেন শপিং এর জন্য । আমাদেরও সবাইর জন্য কেনাকাটা শেষ। কিন্তু বিপত্তিটা ঘটলো শেষ মুহূর্তে । রাইফেল স্কয়ার এ ঘুরতে গেছি কিন্তু হঠাৎ করেই মা মেয়ের দুজনেরই মাথা খারাপ হয়ে গেল ড্রেস দেখে। বাবু তো ঘেণ ঘেণ করে মাথা খেয়ে ফেললো , মা এই ড্রেস টা বানাইতে না পাড়লে রাতের বেলা স্বপ্ন দেখবো। এইটা কিনে দেও তাইলেই শেষ । সামনের পূজা না আসা পর্যন্ত আর কিছুই চাইব না। আমি জানি কেমন মা ছেলে মেয়ের কোন আবদারই না করতে পারি না। না করলে ওদের চেয়ে আমারই বেশী কষ্ট হয়। ঝুঁকি নিয়া বুকিং দিয়ে আসলাম।

বাসায় এসে দেখি আমার তহবিল শূন্যের কোঠায় । এখন ঊপায়? আমি কখনো কিছু নিয়ে টেনশন করিনা। বাবু কে বললাম এক টাকাও নাই ।ড্রেসগুলি কি করে আনব? তিনির কাছে চাইব সে সাহসও নাই। এক ঝাড়ি দিয়ে বাসা থেকে বের করে দিবে। অগত্যা কি করা পকেট মারিং ছাড়া ঊপায় দেখতেছিনা। ভগবানের নাম নিয়া আমার তিনির ঈমারজেন্সি লিখা প্যাকেট টা পুরুটাই গায়েব করে দিলাম। বাবারে এখন তো আমার ইমারজেন্সি ,এক বার তো কাজে লাগানো উচিৎ না কি?

এরপর আসল কাহিনী ,আমার তিনি আমাকে ডাকলেন এইদিকে আস । তহবিল তছরুপের কথা তখন আমার আর মনে নাই। আমি তো নাইচ্যা নাইচ্যা গেলাম। দেখি দরজা লাগাইতেচে রুমের। আমি তো অবাক! কি ব্যাপার রুমানটিক হইয়া গেল নাকি আবার ! আমি তো আরও অবাক আস্তে করে বলে তুমি কি টাকার প্যাকেট নিছ? আমি প্রথমে হকচকিয়ে গেলাম ,তারপর বিদ্যুৎ গতিতে বললাম কি বল আমি পুরু প্যাকেট ধরে নিয়ে যাব বিশ্বাস হয়?

চোরের মার বড় গলা সেইদিনই আক্ষরিক অর্থে প্রমান পেলাম । ও এতো ভালো আস্তে কথা বলে দরজা লাগিয়ে যাতে বাসার অন্য কেউ আমার অপকর্মের কথা না জানতে পারে। ও বলে আমার কি ভুল হইছে নাকি বুঝতে পারতেছিনা। আমার আবার একটু মায়াও লাগে।

আমি দরজা খুলে দিলাম। বাবু তো বুঝতে পারছে ও এসে বলে কি হইছে? আমি আর একটু পাকাপুক্ত হওয়ার জন্য বললাম ,মা কালি আমি যদি নেই, তাহলে ঘুম থেকে উঠে দেখবা আমি মরে গেছি। এই কথা শুনার পর বাবু আমাকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে আসল ,বলে মা এখনও সময় আছে পাপাকে সব বলে দেও।পাপা কিছু বলবেনা। আমি বললাম না এখন আর বলা যাবে না। তারপর তো যথারীতি ঘুমাইতে গেলাম ।

ভোর বেলা দরজা টুকার শব্দ শুনা যায়, আমি দরজা খুলে দেখি আমার মেয়ে দাঁড়াইয়া আছে ।আমি বললাম কি হইছে বাবু? বলে মা তুমি এখনও বেঁচে আছো? মা কালির দোহাই দিছিলাম তাই বাবু ভয় পাইছে। আমি সারারাত ভয়ে ঘুমাইতে পারি নাই । আমি তো হাসতে হাসতে বাবুরে জড়াইয়া ধরে বললাম ,ভগবানের তো কাজ নাই বড় বড় চোর না মাইরা ছিঁচকা চোরকে মাইরা হাত নষ্ট করবে।ভগবাণ তো হাজার চেষ্টা করে রাডার দিয়েও ধরতে পারবে না আমাকে।

বাবু শুনো বিয়ের সময় একটা মন্ত্র পড়তে হয় ।যদি দং হৃদয়ং তব তদস্ত হৃদয়ং মম। মানে তোমার হৃদয় আমার হোক আমার হৃদয় তোমার হোক। তাই তোমার পাপার টাকা আমার টাকা , আমার টাকা তোমার পাপার না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*