Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চন্দনাইশে কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ২০

চন্দনাইশে কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ২০

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : চন্দনাইশ পৌরসভা নির্বাচন চলাকালে কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দেয়ার ঘটনায় বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ককটেল বিষ্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে।

এসব ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পৌরসভার পূর্ব জোয়ারা এলাকার ফরিদ উদ্দীনের পুত্র ফোরকান উদ্দিন (২৮), মৃত নুরুল আমিনের পুত্র মেজবাহ উদ্দীন (৩৮), আবদুর রহিমের পুত্র মোহাম্মদ অভি (২১), উত্তর জোয়ারা এলাকার মৃত রস মোহন চৌধুরীর পুত্র দুলাল চৌধুরী (৭০), দক্ষিণ গাছবাড়িয়া এলাকার আবদুস ছোবহানের স্ত্রী আনজুমান খাতুন (৭০) এবং পূর্ব গাছবাড়িয়া এলাকার লেদ মিয়ার পুত্র মো. হাবিব (২০) এর নাম পাওয়া গেছে।

আহতদের চন্দনাইশ হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসার পর মেজবাহ উদ্দীন, মো. হাবিব ও দুলাল চৌধুরীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) চন্দনাইশ পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে এসব ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ৪র্থ ধাপে অনুষ্ঠিত চন্দনাইশ পৌরসভা নির্বাচনে আজ রবিবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শুরু থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলে কিন্তু দুপুর সোয়া ১২টার সময় ৩নং ওয়ার্ড দক্ষিণ পূর্ব জোয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর মো. হেলাল উদ্দীন চৌধুরী (পাঞ্জাবি) ও মো. আনোয়ার হোসেনের (উটপাখি) সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এসময় দু’পক্ষের সমর্থকরা হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০ জনের অধিক আহত হয়। ঘটনার পরপর আইনশৃংখলা বাহিনী এগিয়ে আসলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজোয়ানা আফরিন, পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দক্ষিণ আফরুজুল হক টুটুল, র‌্যাব-৭ এর এএসপি রকিবুল হাসান, ওসি নাসির উদ্দিন সরকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

তাদের সাথে বিপুল সংখ্যক আনসার, পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় ঐ কেন্দ্রে অন্তত ২০ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। পরে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জহিরুল হক জানান, কেন্দ্রের বাইরে কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হলেও ভোট কেন্দ্রে কোনো ধরনের বিশৃংখলার ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

এদিকে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৮নং ওয়ার্ড দক্ষিণ গাছবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও কাউন্সিলর প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর মো. আবু তৈয়ব (ডালিম) ও মো. আবদুর রহিম (উটপাখি) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

দুপুর ১২টার দিকে ঐ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা ভোটার মুক্তিযোদ্ধা কবির আহমদ জানান, হঠাৎ ১০/১২ জন যুবক এসে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটায়। এতে সুমন (২৮), হাবিব (২৪) ও অজ্ঞাত এক নারীসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এসময় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এছাড়া ৯নং ওয়ার্ড গাছবাড়িয়া এন,জে, উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরেও কাউন্সিলর প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর মো. খোরশেদ আলম সবুজ (ব্ল্যাকবোর্ড) ও মো. লোকমান হাকিম (গাজর) সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এদিকে, ১নং ওয়ার্ডে দুপুর ১টার দিকে কাউন্সিলর প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর অজয় দত্ত (ব্ল্যাকবোর্ড) ও সুজন সরকার (পানির বোতল) সমর্থকদের মধ্যে কেন্দ্র দখল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে জানায় স্থানীয় সাধারণ ভোটাররা।

এছাড়া দুপুর আড়াইটার দিকে কেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে ৭নং ওয়ার্ডের চন্দনাইশ আইডিয়াল স্কুল কেন্দ্রের বাইরেও বর্তমান কাউন্সিলর মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী (টেবিল ল্যাম্প) ও মো. শওকত হোসেনের (ডালিম) সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে ঘটনার পর বিকেল ৩টার দিকে এ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ হওয়ার পর আর ভোট গ্রহণ করা হয়নি।

উক্ত কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জহির উদ্দীন জানান, ভোট কেন্দ্রের বাইরে ২ কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে মহিলা ভোটারদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শেষ সময়ে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়।

৫নং ওয়ার্ড দক্ষিণ হারলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও দুপুরে ২ কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মৃদু উত্তেজনা দেখা দেয়। এসময় আইনশৃংখলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সকাল সাড়ে ৯টায় গাছবাড়িয়া এন.জে. উ্চ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে কথা হয় নৌকার মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মুহাম্মদ মাহাবুবুল আলম খোকার সাথে। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত আইনশৃংখলা বাহিনী ভোটগ্রহণে সহায়তা করছেন। পৌরসভার ভোটাররা সুন্দর পরিবেশে তাদের ভোট প্রদান করে বাড়ি ফিরছেন। কোনো ধরনের বিশৃংখলা নেই। জনগণ আমাদের সাথে আছে এবং বিজয় নৌকারই হবে।”

দুপুরে চন্দনাইশ সদরে ইসলামী ফ্রন্টের মেয়র প্রার্থী মুহাম্মদ ফারুক বাহাদুর সাংবাদিকদের বলেন, “এখানে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। আমরা তারপরও নির্বাচন বর্জন করছি না। সর্বশেষ পরিস্থিতি আমরা দেখতে চাই।”

তিনি বলেন, “প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে আমাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। নৌকা মার্কার সিল মারা ব্যালট দেয়া হচ্ছে কয়েকটি কেন্দ্রে। নির্বাচনের নামে তামাশা হচ্ছে, নির্বাচন ব্যবস্থাকে কলংকিত করা হচ্ছে।”

বিকেল ৩টার দিকে চন্দনাইশ আইডিয়াল স্কুল কেন্দ্রে কথা হয় বিএনপি প্রার্থী মাহাবুবুল আলম চৌধুরীর সাথে। তিনি এ নির্বাচনকে একটি প্রহসন উল্লেখ করে বলেন, “চন্দনাইশের জনগণের সাথে নির্বাচন কমিশন তামাশা করছে। ভোট শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রতিটি কেন্দ্র দখল করে নৌকা মার্কায় সিল মারা হয়েছে। কোনো ভোটারই মেয়র প্রার্থীর প্রতীকে ভোট দিতে পারেননি।”

নির্বাচনে অনিয়মের কথা উল্লেখ করে বিকেলেই বিএনপি প্রার্থী মাহাবুবুল আলম চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে, সকাল থেকে কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয় বিশেষ করে নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল বেশি।

সকালে গাছবাড়িয়া এন.জে. উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় নুরুল আলম সিকদার (৮০) নামে এক বৃদ্ধ ভোটার কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই লাইনে দাঁড়িয়ে তার ভোট প্রদান করতে পেরেছেন জানিয়ে বলেন, “সুন্দর পরিবেশে ভোট হচ্ছে।”
একই কেন্দ্রে আমিরুন্নেসা (৬৫) নামে অপর এক নারী ভোটারও ভোট দিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। আজাদী অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!