Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল দস্যুমুক্ত হওয়ার পথে

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল দস্যুমুক্ত হওয়ার পথে

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : দেশের দক্ষিণ সীমানায় বিস্তৃত বঙ্গোপসাগরকে ঘিরেই এ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা। বিশাল এ উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর উপার্জনের অন্যতম আশ্রয়স্থলে বড় বাধা অস্ত্রধারী জলদস্যু।

ইতোমধ্যে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সক্রিয় ভূমিকায় সুন্দরবন অঞ্চলের জলদস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে আত্মসমর্পণ করেছে। এর ফলে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত ঘোষণা করেন। যার ধারাবাহিকতায় এবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলও দস্যুমুক্ত হওয়ার পথে।

র‌্যাব জানায়, র‌্যাবের কঠোর পদক্ষেপের ফলে ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর মহেশখালীতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলের ৪৩ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে। এরপর থেকে এ অঞ্চলে জলদস্যুতার ঘটনা কমে গেছে।  

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) চট্টগ্রামের বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে বিভিন্ন দুর্ধর্ষ বাহিনীর ৩৪ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় দেশি-বিদেশি ৯০টি অস্ত্র ও ২ হাজার ৫৬ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ জমা দেন তারা।  

র‌্যাব জানায়, সর্বশেষ আত্মসমর্পণকারী ৩৪ জলদস্যু সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বাঁশখালী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার অন্যতম দুর্ধর্ষ ও সক্রিয় জলদস্যু বাহিনীর সদস্য। আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এদিকে, যারা এখনো আত্মসমর্পণ করেননি তাদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাবের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চল জলদস্যুমুক্ত হবার পথে অনেকদূর এগিয়ে যাবে এবং এ অঞ্চলের সাগর কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাঁশখালী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার হাজার হাজার উপকূলবর্তী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যুদের কাছে জিম্মি হয়েছিলেন। অনেকে জলদস্যুদের দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করতেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।  

নেছার মাঝি নামে এক জেলে বলেন, ২০১৫ সালে মাছ ধরতে গেলে জলদস্যুরা আমাদের আক্রমণ করে। দস্যুর গুলিতে আমার বাম চোখ নষ্ট হয়ে যায়। যে ক্ষতচিহ্ন আমি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছি। দস্যুদের হাতে হাজার-হাজার মানুষ নির্যাতিত হয়েছে। আজ বিভিন্ন বাহিনীর ৩৪ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করছে। এজন্য আমরা খুবই খুশি। র‌্যাব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।  

বাঁশখালী এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম জানান, আগে প্রায়ই জলদস্যুর কথা শোনা যেত, এখন কমে আসছে। তবে এখন জেলেরা অন্যভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন। যেসব জেলেরা মাছ ধরে আনেন, তাদের নির্ধারিত সিন্ডিকেটের কাছে মাছ ধরতে বাধ্য করা হয়। জেলেরা বেশিরভাগ সময়ই এ সিন্ডিকেটের বাইরে মাছ বিক্রি করতে পারেন না।  

র‌্যাব সংশ্লিষ্টরা জানান, এ জলদস্যুদের দেশি অবৈধ অস্ত্রের বড় একটি অংশ সরবরাহ করছে স্থানীয় অস্ত্র কারিগররা। চট্টগ্রাম কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুদের দমন, দেশি অস্ত্র তৈরির কারিগর ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র‌্যাব প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।  

র‌্যাব সূত্র জানায়, ২০০৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাঁশখালী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ২৪৮ জন জলদস্যু এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি ৭৯৭টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রসহ ৮ হাজার ৮৪২ রাউন্ড গুলি-কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া, ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর ৪৩ জন জলদস্যু র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।  

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারওয়ার বলেন, ২০১৮ সালে ৪৩ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণের ফলে বর্তমানে বাঁশখালী, মহেশখালী, কুতুবদিয়ার বিভিন্ন জলদস্যু বাহিনীর অপতৎপরতা অনেকাংশে কমে এসেছে। এর ধারাবাহিকতায় আরও ৩৪ জলদস্যু আত্মসমর্পণ করলেন। আমরা দস্যুদের ওপর ক্রমাগত আভিযানিক চাপ সৃষ্টি করছি, পক্ষান্তরে একটি জানালাও খোলা রাখছি। যাতে তারা চাইলে আজকের মতো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। আমরা আশা করছি উপকূলের পুরো অঞ্চল একসময় দস্যুমুক্ত হয়ে যাবে। চট্টগ্রামের উপকূলে জলদস্যুদের গ্রেফতার করতে র‌্যাব-৭ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে।  বাংলানিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!