
নিউজ ডেক্স: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী ঘরমুখো মানুষের চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপকে পুঁজি করে পরিবহন শ্রমিক ও অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে শাহ আমানত সেতু এলাকায় অপেক্ষমাণ হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়– সব মিলিয়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকা, বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, অক্সিজেন ও একে খান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ চট্টগ্রামমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। বাসে ওঠাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। অনেক যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত যানবাহনে উঠতে পারছেন না।
এই সুযোগে একশ্রেণির পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও হেলপার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন রুটে চলছে ভাড়ার নৈরাজ্য। যাত্রীদের অভিযোগ, সাধারণ সময়ে ৫০ টাকার ভাড়া আদায় করা হলেও এখন নেওয়া হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। আবার ১০০ টাকার ভাড়ার স্থানে গুনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি না হলে অনেক যাত্রীকে গাড়িতে তুলছেন না হেলপাররা।
আনোয়ারাগামী রিদুয়ান নামের এক যাত্রী বলেন, ‘যাত্রীর চাপ বাড়লেই এই সড়কে গাড়ি কমে যায়। বেশি ভাড়া পাওয়ার আশায় অনেক গাড়ি অন্য রুটে চলে যায়। ফলে সিএনজির ৫০ টাকার ভাড়া এখন ১০০ টাকা দিয়ে যেতে হচ্ছে।’
সাতকানিয়াগামী ফরিদ নামের অপর এক যাত্রী বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদের আগে ভোগান্তি হয়, কিন্তু এবার সীমা ছাড়িয়েছে। পরিবার নিয়ে বাড়ি যেতে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দিতে হচ্ছে।’
বাঁশখালীগামী আরেক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাসে উঠতে পারিনি। পরে বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে সিএনজিতে যেতে হচ্ছে।’
ঢাকা থেকে আসা বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা সোহেল, যিনি কক্সবাজারে যাচ্ছিলেন, অভিযোগ করে বলেন, ‘একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে পরিবার নিয়ে ভোগান্তি। বাসগুলো অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছে। সড়কে পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় পরিবহন সংশ্লিষ্টরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন।’ তিনি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি জানান।
এদিকে ভাড়া নৈরাজ্য ও ট্রাফিক দুর্ভোগের বিষয়ে বাকলিয়া থানার ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক তুহিন আহমেদকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক উথোয়াইনু চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এখন শাহ আমানত সেতুর প্রবেশপথে অবস্থান করছি। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। যাত্রীরা যেন নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, সে বিষয়ে সরেজমিনে তদারকি করা হচ্ছে।’