
অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা মাইনুউদ্দিন, আব্দুল লতিফ, হাবিব রহমান হাবি, হুমায়ন মোল্লা
নিউজ ডেক্স: নরসিংদীর চরাঞ্চলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের সদস্যরা। এ সময় সাদা পোশাকে থাকা ছয় পুলিশ সদস্যকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে কান ধরে উঠবস করে মাফ চাওয়ার পর তারা মুক্তি পান বলে জানা গেছে।
হামলার শিকার পুলিশ সদস্যরা সবাই নরসিংদী সদর মডেল থানায় কর্মরত। এছাড়া এ ঘটনার পর পুলিশ, র্যাব ও ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৮০ সদস্যের একটি দল অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন- আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর বীরগাঁও ও সাতপাড়া এলাকার তাহসি বেগম, খোরশেদ মিয়া, রহিম মিয়া ও সোহাগী।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাবিব রহমান হাবি, আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হুমায়ন মোল্লা, আওয়ামী লীগ নেতা মিটল, যুবলীগ নেতা মাইনুউদ্দিন, হুমায়ন, হিমেল, ইসমাইল হোসেন একরাম, ছাত্রলীগ নেতা সাজিদসহ ৫২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
পুলিশের দায়ের করা মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ২১ মে দুপুরে নরসিংদী সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) রামকৃষ্ণ দাস, উপ-পরিদর্শক (এস আই) কামরুজ্জামান খান, উপ-পরিদর্শক (এস আই) আল নোমান মুন্সি, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এ এস আই) নাজমুল হোসেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এ এস আই) সুমন মিয়া ও কনস্টেবল হাদিস মিয়া স্পিডবোটে আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর বীরগাঁও সাতপাড়া এলাকায় একটি মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেফতার করতে অভিযানে যায়। ওই সময় আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা হাবিব রহমান হাবি, হুমায়ন মোল্লা, মিটল, মাইনুউদ্দিন ,হুমায়ন, সাজিদসহ আওয়ামী লীগ আরও নেতারা পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দেয় এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুমতি না নিয়ে গ্রামে প্রবেশের কারণ জানতে চান। এই নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথাকাটাকাটিতে জড়ায় আওয়ামী লীগের নেতারা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হলে আওয়ামী লীগের নেতাদের নেতৃত্বে শতাধিক লোক দলবদ্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া দেয়।
পরে ব্যারিকেড দিয়ে ছয় পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ সদস্যদের মারধরসহ লাঞ্ছিত করা হয়। এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে প্রকাশ্যে ছয় পুলিশ সদস্যের কান ধরে উঠবস করান আওয়ামী লীগের নেতারা। পরে আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে মাফ চেয়ে সেখান থেকে মুক্তি পান পুলিশ সদস্যরা। ফেরার সময় পুলিশ সদস্যরা স্পিডবোট উঠে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারনের চেষ্টা করে। তখন আওয়ামী লীগ নেতারা পুনরায় পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত করেন। খবর পেয়ে বিকেলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা র্যাব, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৮০ সদস্যের একটি দল পুনরায় আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর বীরগাঁও ও সাতপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। ওই সময় দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় সদর থানার এএসআই মো. নাজমুল হোসেন সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাবিব রহমান হাবিকে প্রধান আসামি করে ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় মামলা করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, হঠাৎ হইহই শব্দ শুনে রাস্তায় বের হয়। সেখানে গিয়ে দেখি- হাবি, মাইনুদ্দিনের দলের লোকেরা ধর ধর বলে কয়েকজনকে ধাওয়া দিচ্ছে। পরে তাদের ধরে কিলঘুসি মেরেছে। সবশেষ এই ছয় পুলিশ সদস্যকে কান ধরে উঠবস করানো হয়। তারা স্পিডবোটে উঠে মোবাইলে ভিডিও করলে পুনরায় তাদের লাঞ্ছিত করেন তারা।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, একটি মামলার তদন্ত ও চারটি গরুর হাট পরিদর্শন করতে পুলিশ সদস্যরা আলোকবালীতে যায়। সেখানে যাওয়ার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা তাদের কাজে বাধা দেয়। পুলিশের ওপর হামলা, মারপিট ও কান ধরে উঠবসের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন বিষয় আমাদের কানে আসেনি।
পুলিশের ওপর হামলা বা কানে ধরে উঠবস করার বিষয়টি অস্বীকার করে নরসিংদী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। -জাগো নিউজ
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner