Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | সৌহার্দ্যের মধ্যে শুরু প্রচারণা

সৌহার্দ্যের মধ্যে শুরু প্রচারণা

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৬ মেয়র ও ২১৭ জন কাউন্সিলর প্রার্থী পেলেন নিজেদের পছন্দের প্রতীক। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ৬ জন মেয়র, ৫৬ জন সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর এবং ১৬১জন সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান।

প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরপরই প্রার্থীরা বিশেষ করে প্রধান দুই দলের মেয়র প্রার্থী সৌহার্দ্যময় পরিবেশে প্রচারণা শুরু করেছেন। প্রথম দিনেই হয়রত আমানত শাহ’র (রঃ) মাজার জেয়ারত করে প্রচারণার সূচনা করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রাথী রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনসহ অন্যান্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন থেকে গতকাল দুপুরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রথমে আমানত শাহ’র মাজার জেয়ারতে যান বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জেয়ারত শেষে বেরিয়ে আসার সময় মাজারে প্রবেশ করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। এসময় দুই দলের মেয়র প্রার্থী একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরেন এবং কুশল বিনিময় করেন। নৌকার সমর্থক ও ধানের শীষের সমর্থকরা এসময় স্লোগান-পাল্টা স্লোগান দেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জেল রোড এলাকা। দুই প্রধান দলের নেতাকর্মীরা অনেক দিন পর একই সঙ্গে স্লোগান পাল্টা স্লোগান দিলেও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। উভয় দলের নেতাকর্মীরা প্রথমদিনের প্রচার-প্রচারণায় সৌহার্দ্যের পরিচয় দিয়েছেন। এই সম্প্রীতি দেখে আশপাশের লোকজন এটাকে বেশ ভালো ভাবেই নিয়েছেন।

আমানত শাহ’র মাজার জেয়ারত শেষে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী গণসংযোগ করেছেন নগরীর উত্তর পাহাড়তলী, বাগমনিরাম ও লালখান বাজার এলাকায়। এসময় নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন বাচ্চু, উপদেষ্টা শফর আলী, যুগ্ম সম্পাদক এম এ রশিদ, অর্থ সম্পাদক সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুচ ছালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, নোমান আলম মাহমুদ, শেখ মোহাম্মদ ইসহান, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুল হায়দার রোটনসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। – আজাদী

গণসংযোগ শুরুর আগে রেজাউল করিম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা নির্বাচনে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ চাই। সেইভাবেই আমরা প্রচারণা চালাবো। আমরা ঘরে ঘরে যাব। চট্টগ্রামের বড় বড় মেগা প্রকল্পগুলোর চিত্র আমরা মানুষের কাছে তুলে ধরবো। পরিকল্পিত চট্টগ্রাম গড়ে তেলার যে স্বপ্ন তা জনগনের কাছে তুলে ধরবো। জনগনই বিবেচনা্‌ করবে। বিজয়ী হলে আমার প্রধান কাজ হবে নান্দনিক-সুন্দর এবং সন্ত্রাস-মাদক ও জঞ্জালমুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা।

প্রতীক বরাদ্দের পর আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে প্রথমে গুরুত্বসহকারে চট্টগ্রামে প্রধান প্রধান সমস্যা গুলোর উপর জোর দেবো। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা। এই সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করবো। এছাড়াও রাস্তাঘাট, বর্জ্য অপসারণের সমস্যাগুলো নিরসনেই কাজ করবো। জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মেগা প্রকল্প গুলোর কাজ শেষ হলে সুফল পাওয়া যাবে। প্রচারণায় করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রেজাউল বলেন, সর্তকতা অবলম্বন করা হবে। জনগণকে বলব সচেতন থাকার জন্য।

এর আগে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রতীক বরাদ্দ শুরু হলে প্রথমে মেয়র প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী নৌকা প্রতীক এবং জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক। বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের এম এ মতিন পেয়েছেন মোমবাতি প্রতীক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবুল মনজুর পেয়েছেন আম প্রতীক, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ওয়াহেদ মুরাদ পেয়েছেন চেয়ার প্রতীক, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের জান্নাতুল ইসলাম পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!