Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | সাহেদের বিরুদ্ধে দুদিনে ১৪০ অভিযোগ

সাহেদের বিরুদ্ধে দুদিনে ১৪০ অভিযোগ

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : করোনা চিকিৎসার নামে নানা অনিয়মের দায়ে গ্রেফতার রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে বিপুল সংখ্যক অভিযোগ পাচ্ছে র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। সাহেদের প্রতারণার তথ্য জানতে চালু করা র‌্যাবের নির্ধারিত সেলে দুই দিনে মোট ১৪০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ফোন কলের মাধ্যমে র‌্যাবের কাছে ১২০টি অভিযোগ এসেছে। বাকি ২০টি অভিযোগ এসেছে মেইলের মাধ্যমে, যার সবকটিই আর্থিক প্রতারণা সংক্রান্ত। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সাহেদ করিম প্রায় ১০ কোটি টাকার প্রতারণা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। গতকাল রোববার র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

আশিক বিল্লাহ বলেন, আমরা গত ১৭ জুলাই একটি সেবা লাইন চালু করি। এর ফলশ্রুতিতে আমরা আজ গতকাল রোববার পর্যন্ত ১২০টি ফোন কল এবং ২০টি ইমেইলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। মূলত সেই অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সাহেদ চাকরি দেবেন বলে একটি বিশাল অঙ্কের টাকা অনেকের কাছ থেকে নিয়েছেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন বদলির জন্য সুপারিশ করবেন মর্মে টাকা নিয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় বালু ভরাটের কাজ, রড, সিমেন্ট, বিটুমিন সাপ্লাইয়ের কাজের কথা বলেও টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এর বাইরেও আরো বেশকিছু অভিযোগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালের দুই শাখা থেকে চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত ফি আদায় করা, চিকিৎসা ব্যায়ের অনেক বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেয়েছি। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। যেগুলো ব্যাংক থেকে ঋণ সংক্রান্ত অভিযোগ। এর পাশাপাশি রিক্সা ভ্যান, ভুয়া লাইসেন্স সংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য অভিযোগ পেয়েছি। তিনি বলেন, অভিযোগের অন্যতম একটি অংশ বিদেশ থেকে আমাদের কাছে ফোন কলে এসেছে। বিদেশে যারা বাংলাদেশি আছেন তারা অনেকে কোন না কোনভাবে সাহেদ করিমের দ্বারা প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন মর্মে আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন।

র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, একটি তথ্য আমরা পরিষ্কার করে জানাতে চাই, যে সব ফোন কল আমরা পেয়েছি সেসব ফোনকলের মূল বিষয়টি ছিলো অর্থাৎ আর্থিক লেনদেন। আপাতত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সাহেদ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আনুমানিক ১০ কোটি টাকার মতো প্রতারণা করেছেন, এই মর্মে অভিযোগ পেয়েছি। র‌্যাবের সেবামূলক হটলাইন আরো কিছুদিন চলমান থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাহেদ করিম বা রিজেন্ট হাসপাতাল সংক্রান্ত মামলার তদন্তভার নেওয়ার জন্য র‌্যাব ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আবেদন করেছে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি অনুমোদন স্বাপেক্ষে র‌্যাব মামলাটির তদন্ত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার : এদিকে সাহেদকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে কথা জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। গত শনিবার রাতে ওই অভিযানের পর বিতর্কিত এই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে নতুন দুটো মামলা করেছে পুলিশ। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন কুমার সাহা বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ সাহেদকে নিয়ে উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ মোড় এলাকায় ওই অভিযান চালায়। সাহেদের ব্যবহৃত একটি গাড়ি সেখানে পাওয়া যায়। ভেতরে পাওয়া যায় একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, ১০ বোতল ফেন্সিডিল ও পাঁচ বোতল বিদেশি মদ। পরে গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল গাফ্‌ফার সেদিন রাত আড়াইটার দিকে সাহেদের বিরুদ্ধে মামলা দুটি দায়ের করেন বলে জানান ওসি।

সাহেদের ভুয়া কোম্পানির পিপিইতে আক্রান্ত হন স্বাস্থ্যকর্মীরা : করোনা ভাইরাস সংকটের শুরুতে যখন মাস্ক ও পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইক্যুইপমেন্টের (পিপিই) সংকট ছিল তখনই প্রতারণার ফাঁদ পাতেন সাহেদ। ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে মাস্ক ও পিপিই সরবরাহ করার অনুমোদন বাগিয়ে নেন তিনি। ফেসবুকে ‘আলবার্ট গ্লোবাল গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি’ নামে পেজ খুলে করোনাকালীন পিপিই, মাস্ক ও ডেডবডি ক্যারিয়ার ব্যাগ সাপ্লাই দিয়েছেন। আদতে ‘আলবার্ট গ্লোবাল গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি’ নামে কোনো গার্মেন্টসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ডিবির কর্মকর্তারা জানান, অস্তিত্বহীন ভুয়া কোম্পানির নামে সাহেদ প্রায় ৫০ হাজার পিপিই, ১ লাখ মাস্ক ও ২০ হাজার বডি ক্যারিয়ার ব্যাগ সাপ্লাই দিয়েছেন। সাব কনট্রাক্টে ছোট গার্মেন্টস ও ফ্যাক্টরি থেকে নিম্নমানের কাপড় দিয়ে এসব সুরক্ষাসামগ্রী তৈরি করিয়ে সরবরাহ করছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার সাপ্লাই দেওয়া নিম্নমানের এসব সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করে প্রথম দিকে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অস্তিত্বহীন একটি প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে এসব সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হলো’ এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, কেন দিয়েছেন তারাই বলতে পারবেন। জিজ্ঞাসাবাদে সাহেদের কাছ থেকে নানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

সাহেদের তথ্য চেয়ে দুদকের চিঠি : এদিকে সাহেদ করিমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়ে আরও চার ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসঙ্গে সাহেদের নামে বিভিন্ন সময় দায়ের হওয়া মামলার তথ্য চেয়ে ছয় থানায় চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য এ তথ্য নিশ্চিত করেন। রিজেন্ট ও সাহেদ সংক্রান্ত দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও সংস্থার উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক ব্র্যাক ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়েছেন। এসব চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে সাহেদ ও তার প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট নথিপত্রগুলো দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। খবর বিডিনিউজ ও বাংলানিউজের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!