ব্রেকিং নিউজ
Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | লবন পানি, পিচ্ছিল মহাসড়কে মরণ ফাঁদ

লবন পানি, পিচ্ছিল মহাসড়কে মরণ ফাঁদ

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : পটিয়ায় ইন্দ্রপুল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে একাধিক লবণ কারখানা। প্রতিদিন এসব কারখানায় চকরিয়া, মহেষখালী, বাঁশখালী ও কুতুবদিয়াসহ উপকূলী বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে আনা হয় অপরিশোধিত লবণ। আর এসব লবণ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দাঁড়িয়ে আনলোড করা হয়। এতে লবণ পানিতে পিচ্ছিল হয়ে পটিয়ায় মহাসড়কের এক কিলোমিটার অংশ ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। এই এক কিলোমিটার অংশে প্রতিদিন ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে মহাসড়কে চলাচল করা যাত্রীদের।

গত একমাসে মহাসড়কের ইন্দ্রপুল এলাকায় ১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন মোটরসাইকেল আরোহী। পটিয়া ভাটিখাইন এলাকার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মোটর সাইকেল স্লো ভাবে চালানোর পরও লবণ পানিতে পিছলে পড়ে আমার তিনটি দাঁত ভেঙে গেছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে চন্দনাইশ গাছবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল আলিমের ছেলে এডভোকেট মফিজুল ইসলাম নগরীর কর্মস্থল থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পটিয়া ইন্দ্রপুল এলাকায় চট্টগ্রামমুখী একটি পিকনিকের বাস লবণ পানিতে পিছলে গিয়ে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। চলতি মাসের ৮ তারিখ রাতে অভিসেন ও সুজন মিত্র নামের দুই বন্ধু মোটরসাইকেল যোগে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। মাজার গেইট এলাকায় লবণ পানিতে পিচ্ছিল খেয়ে তাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে হারিয়ে অন্য আরেকটি গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলে অভি সেন মারা যান। অপর বন্ধু সুজন মিত্রও গুরুতর আহত হন।

এ বিষয়ে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন-নিচসার পটিয়া উপজেলা সভাপতি সপু বড়ুয়া জানান, মহাসকের ইন্দ্রপুল এলাকায় লবণ পানিতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের জরুরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। আর তারা পদক্ষেপ না নিলে নিপসার পক্ষ থেকে কর্মসূচি দেয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দিনের বেলায় কম থাকলেও সন্ধ্যার পর সারি সারি লবণের ট্রাক চলাচল করে মহাসড়কে। এ সময় লবণ পানিতে পিচ্ছিল হয়ে উঠে মহাসড়ক। এতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটছে।

দোহাজারী ও সড়ক জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ জানান, খোলা পরিবহনে লবণ আনা নেয়ার ফলে মহাসড়কে লবণ পানি পড়ছে। তাছাড়া মহাসড়কের পাশে লবণ লোড আনলোড করায় মহাসড়ক পিচ্ছিল হয়ে উঠছে। তিনি উপজেলার নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এসব রোধ করার প্রস্তাব জেলা প্রশাসনের সভায় তুলে ধরনেবর বলে জানান।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, পটিয়ায় মহাসড়কের ইন্দ্রপুল এলাকায় লবণ পানিতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটার কথা শুনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে লবণ মিল মালিকদের জানানো হয়েছে। শীঘ্রই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে পটিয়া লবণ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক আল্লাই বলেন, সড়কের উপর যারা পানিযুক্ত লবণ আনলোড করে তাদের সতর্ক করে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে লবণ আনলোড বন্ধ করতে বলা হয়েছে। আমরা পুনরায় ওইসব মিল মালিকদের আবারও সতর্ক করব। শর্ত না মানলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!