Home | ব্রেকিং নিউজ | লবনবাহী ট্রাকের নিঃসৃত পানিতে পিচ্ছিল হচ্ছে সড়ক, ঘটছে দূর্ঘটনা

লবনবাহী ট্রাকের নিঃসৃত পানিতে পিচ্ছিল হচ্ছে সড়ক, ঘটছে দূর্ঘটনা

image_printপ্রিন্ট করুন

এলনিউজ২৪ডটকম : লবনবাহী ট্রাক থেকে নিঃসৃত পানিতে পিচ্ছিল হচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। ফলে প্রতিদিন বিপদজনক এ মহাসড়কে ঘটছে দূর্ঘটনা। লবনবাহী ট্রাকে জিইওট্যাক্স (মোটা তেরপাল) ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও তা সঠিকভাবে মানছেন না।

জানা যায়, এ মৌসুমে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, মহেশখালী, উখিয়া, কুতুবদিয়া, চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় লবন উৎপাদিত হয়। নৌপথ ও স্থল পথে এসব লবন দেশের বিভিন্নস্থানে প্রেরণ করা হয়। চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট ও পটিয়া ইন্দ্রপুল এলাকায় লবন পরিশোধনাগার রয়েছে। এসব স্থান ছাড়াও ঢাকা, নোয়াখালী, ঝালকাটি, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে লবন পরিশোধনাগার রয়েছে। নৌপথে পরিবহণ খরচ বেশী হওয়ায় মূলত: সড়ক পথে ট্রাকে করেই এসবস্থানে লবন পরিবহন করা হয়। নিয়মানুযায়ী লবনবাহী ট্রাকে জিইওট্যাক্স ব্যবহার না করার ফলে পুরো রাস্তায় পানি চুয়ে পড়ে। এছাড়া মহাসড়ক হয়ে বিভিন্ন স্থানে পরিবহণের সময় কাঁচা মাটি পড়ে আস্তরণ সৃষ্টি হয়। রাতে কুয়াশার স্পর্শে লবন নিঃসৃত পানি ও কাঁচা মাটি রাস্তায় আঠাল আস্তরণ সৃষ্টি করে। ফলে চলমান গাড়ি ব্রেক কষলেই আঠাল আস্তরণের স্পর্শে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে দূর্ঘটনার সৃষ্টি হয়। প্রতিদিন মহাসড়কের কোথাও না কোথাও সড়ক দূর্ঘটনা ঘটছে। হচ্ছে প্রাণহানী। আবার অনেকে আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করছেন। গত আড়াই মাসে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মাহসড়কের লোহাগাড়া সীমানায় ছোট-বড় প্রায় ৩০টি সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ জন। আহত হয়েছেন অনেকে। এছাড়া ২০২০ সালে মহাসড়কের লোহাগাড়া সীমানায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৬ জন। তারমধ্যে ২২ মার্চ চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় যাত্রীবাহী পিকআপ ও লবনবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় জানে আলম জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দিন দিন গাড়ি চলাচল বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বড় হয়নি সড়ক। এদিকে গাড়ি চালকদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা তো রয়েছে। কে কার আগে যাবে। ফলে পিচ্ছিল সড়কে ওভারটেক করতে গিয়ে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হচ্ছে। নতুবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাচ্ছে। দূর্ঘটনা রোধে চালকদের পাশাপাশি সড়কে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

মোটরসাইকেল আরোহী ফয়েজ আহমদ জানান, প্রতিদিন লবনবাহী ট্রাক থেকে নিঃসৃত পানি মহাসড়ক পিচ্ছিল হয়ে যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত মহাসড়ক ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। আবার দিনে সূর্যের আলোতে পিচ্ছিল রাস্তা শুকিয়ে গেলেও অনেক জায়গায় গাছপালার কারণে সূর্যের আলো ভেদ করতে না পারায় পিচ্ছিলই থেকে যায়। তাই মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালানোর সময় সমান্য ব্রেক কষলেই দূর্ঘটনা ঘটে। আবার অনেক সময় রাস্তা এতো পিচ্ছিল থাকে ব্রেক না কষলেও দূর্ঘটনা ঘটে।

লবন নিঃসৃত পানি ও কাঁচা মাটি মহাসড়কে আঠাল আস্তরণ সৃষ্টির ফলে গাড়ি চালাতে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে একাধিক চালক জানিয়েছেন। যার কারণে অনেক সময় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দূর্ঘটনা ঘটছে।

নিরাপদ সড়ক চাই লোহাগাড়া শাখার আহবায়ক মোজাহিদ হোসাইন সাগর জানান, লবনবাহী ট্রাক থেকে নিঃসৃত পানি ও পরিবহণের সময় কাঁচা মাটি রাস্তায় পড়ে একটি আস্তরণ সৃষ্টি হচ্ছে। ওই আস্তরণে কুয়াশার স্পর্শে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কে প্রতিনিয়ত সড়ক দূর্ঘটনা ঘটছে। এদিকে, এই মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকবাহী গাড়ি কক্সবাজার যান। পূর্ব থেকে এই সড়ক সম্পর্কে চালকদের ধারণা না থাকায় প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনায় পতিত হচ্ছেন। তাই লবনবাহী ট্রাক থেকে যাতে পানি নিঃসৃত না হয় ও পরিবহণের সময় কাঁচা মাটি রাস্তায় না পড়ে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত না হওয়া ও অসংখ্য বাঁকও সড়ক দূর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রব জানান, লবনবাহী ট্রাকে উপরে-নিচে মোটা তেরপাল ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যাতে লবন নিঃসৃত পানি মহাসড়কে না পড়ে। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!