Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানি বন্ধের পরিকল্পনায় উদ্বেগ

রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানি বন্ধের পরিকল্পনায় উদ্বেগ

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : সরকার কয়েক বছরের মধ্যে বিদেশ থেকে ব্যবহৃত গাড়ি বা রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানি বন্ধ করে দেয়ার যে পরিকল্পনা করছে, তাতে উদ্বেগ জানিয়েছে ব্যবহৃত গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডা। গতকাল রোববার শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে বারভিডার নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, দেশীয় গাড়ির শিল্প কারখানা গড়ে উঠুক, তারা এটি চান। পাশাপাশি ক্রেতাদের চয়েসের স্বাধীনতাও রাখা উচিত।

তবে সরকার বলছে, কিছু ব্যবসায়ী এতে আপত্তি করলেও দেশের স্বার্থে এটা করা জরুরি। সরকার ‘অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট পলিসি-২০২০’ খসড়া তৈরি করেছে। সেখানে প্রস্তাব করা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে সংযোজিত গাড়ির বাজার তৈরি করার লক্ষ্যে ব্যবহৃত গাড়ির আমদানি আস্তে আস্তে কমিয়ে দেয়া হবে। এভাবে ছয় বছরের মধ্যে সব ধরনের রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানি বন্ধ করে দেয়া হবে।

বর্তমানের পাঁচ বছর পর্যন্ত পুরনো গাড়ি আমদানি করা যায়। ওই প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বছর থেকে তিন বছরের বেশি পুরনো গাড়ি আমদানি বন্ধ করে দেয়া হবে। তৃতীয় বছর থেকে তিন বছরের বেশি পুরনো গাড়ি আমদানি বন্ধ, চতুর্থ বছর থেকে দুই বছরের বেশি পুরনো এবং পঞ্চম বছর থেকে এক বছরের বেশি পুরনো গাড়ি আমদানি বন্ধ করে দেয়া হবে। ষষ্ঠ বছর থেকে পুরোপুরি রিকন্ডিশনড গাড়ি আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশি সংযোজিত গাড়ির বাজার উৎসাহিত করতে পুরনো গাড়ির ওপর ১০ শতাংশের বেশি অবচয় হিসাব করা যাবে না। দেশে সংযোজিত গাড়ি কিনতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নানা প্রকল্পে সহায়তা করবে সরকার। বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারিভাবে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ জাপানি কোম্পানি মিতৎসুবিসির নকশায় গাড়ি সংযোজন করে। এছাড়া পিএইচপি মোটরস নামের চট্টগ্রামভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ার প্রোটন গাড়ি সংযোজন করছে। বাংলাদেশে গাড়ি সংযোজন কারখানা গড়ে তোলার আগ্রহ দেখিয়েছে ভারতীয় টাটা এবং মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা কোম্পানিও।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ডড ভেহিকেল ইমপোর্টারস অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) বলছে, দেশে গাড়ি উৎপাদন বা সংযোজনের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানাচ্ছেন। কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা বা পছন্দের অধিকারও যেন অক্ষুণ্ন থাকে। গতকাল মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তারা সেই বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

বারভিডার হিসাবে, বাংলাদেশে প্রতি বছর যাত্রীবাহী ১৫ হাজার গাড়ির চাহিদা রয়েছে। সেই চাহিদার ৮৫ শতাংশই রিকন্ডিশনড গাড়ি পূরণ করে।

দেশে মূলত জাপান থেকে ব্যবহৃত গাড়ি আমদানি করা হয়। এসব গাড়িতে ৫ বছর পর্যন্ত অবচয় সুবিধা পাওয়া যায়। জাপানের মানে তৈরি হওয়া এসব গাড়ি টেকসই হওয়ায় মানুষের কাছে পুরনো বা ব্যবহৃত হলেও এসব গাড়ির জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই খাতে বিশ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আর ৩০ হাজার মানুষ কর্মরত রয়েছেন বলে বারভিডা জানিয়েছে।

শিল্প মন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, কোনো একটি জায়গা থেকে তো আমাদের শুরু করতে হবে। যখন কিছু শুরু হয় তখন অনেক আপত্তি আসে। আমাদের গাড়ির বাজার যথেষ্ট বড় হয়ে গেছে। অনেক কিছুতে আমরা সক্ষমতা অর্জন করেছি। এখন নিজেরা করা উচিত। মানুষের গাড়ি বেছে নেয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চয়েস কেন সীমিত হবে? নতুন গাড়ি আসবে, পুরনো গাড়ি কেনার চেয়ে মানুষ নতুন গাড়ি কিনবে। খবর বিবিসি বাংলার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!