Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | মুখ খুলছেন নির্যাতিতরা, একের পর এক মামলা : কেন এত বেপরোয়া পুলিশ

মুখ খুলছেন নির্যাতিতরা, একের পর এক মামলা : কেন এত বেপরোয়া পুলিশ

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : জনগণের কাছে নিজেদের মানবিক পুলিশ হিসেবে উপস্থাপন করার মধ্য দিয়ে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টা চলছে যখন, ঠিক তখনই চট্টগ্রাম তথা দেশের বিভিন্ন থানার ওসিদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে।

ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেমের ক্ষমতার অপব্যবহার দেখেছে এদেশের মানুষ। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা হলে সেই মামলায় তিনি এখন কারাগারে আছেন। বর্তমানে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের ক্ষমতার অপব্যবহার ও ক্রসফায়ারের বিষয়টি সম্প্রতি আলোচনার ঝড় তুলেছে। এতদিন যারা পুলিশের নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহার মুখ বুজে সইতে বাধ্য হয়েছেন; তারা একে একে মুখ খুলছেন। শুধু তাই নয়; ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় আদালতের দ্বারস্থও হচ্ছেন অনেকে। অধিকাংশ মামলায় বাদী পক্ষ অভিযোগ করছেন, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তাদের থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে। কোথাও আবার দাবিকৃত অর্থ না পেয়ে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল ২৬ আগস্ট টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে চট্টগ্রাম আদালতে।

বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান এ প্রসঙ্গে বলেন, এতদিন মানুষ মামলা করার সাহস পাচ্ছিল না। মাদক নির্মূলসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনের জন্য ক্রসফায়ার দেয়ার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল পুলিশকে। পুলিশ তার মিসইউজ করতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের কন্ঠ স্তব্ধ করে দেয়ার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। সিনহা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিতে সারাদেশ নড়েচড়ে উঠে। সরকারও বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের লক্ষ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ কারণে এতদিন যারা মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করেছিলেন, তাদের মধ্যে জাগরণ তৈরি হয়েছে।

পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়টিকে ভালো লক্ষ্মণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ভালো পুলিশের সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে, শান্তি রক্ষা মিশনে, সাম্প্রতিক করোনাকালে পুলিশের উজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার কারণে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে, যা কারো কাম্য নয়। পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার এই সাহসিকতা মানবাধিকার আন্দোলনকে বেগবান করবে বলে তিনি মনে করেন। চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশে এসআই থাকাকালীন সময়ে এক ব্যবসায়ীকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। সেখানে ২০১৪ সালে দাউদকান্দি থানায় দায়িত্বরত দুই এসআইকেও আসামি করা হয়েছে। ৬ বছর পর ২৬ আগস্ট বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে মামলাটি করেন জসিমউদ্দিন নামে একজন ব্যবসায়ী। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট কক্সবাজারের উখিয়া থানার ওসি মর্জিনা আক্তারসহ ৪ পুলিশের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে। মহেশখালী কালারমার ছড়া ইউনিয়নের নয়াপাড়ার নুরুচ্ছবির কন্যা ও কক্সবাজার হাভার্ড কলেজের ছাত্রী রিয়াদ সুলতানা নুরী বাদী হয়ে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম, এএসআই মো. শামীম ও কনস্টেবল মো. সুমন।

রাউজান থানার সাবেক ওসি কেফায়েত উল্লাহ ও সাবেক এসআই সাইমুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে আড়াই লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে এক বছর পর আদালতে মামলা করেছেন কাঞ্চন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি। গত ২৪ আগস্ট সোমবার চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল্লাহ কায়সারের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

দুই লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ক্রসফায়ারের হুমকি এবং পরবর্তী সময়ে ইয়াবা সংক্রান্ত মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার আট পুলিশ সদস্যসহ নয় জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের একটি আদালতে মামলা মো. আব্দুল ওয়াহেদ নামে এক ব্যবসায়ী। আদালত মামলা গ্রহণ করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর জোনের উপকমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। গত ১৯ আগস্ট বুধবার চট্টগ্রামের অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

পাঁচ লাখ টাকা আদায় করে আরো পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ না দেয়ায় বন্দুকযুদ্ধের নামে টেকনাফের হ্নীলার সাদ্দাম হোসেন নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগে টেকনাফ মডেল থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গত ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার একটি মামলা দায়ের হয়েছে। নিহত সাদ্দাম হোসেনের মা গুল চেহের এ মামলা দায়ের করেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ হেলাল উদ্দীন তা তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী এড. ইনসাফুর রহমান সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

চাঁদা দিতে না পারায় ইয়াবা ব্যবসায়ী সাজিয়ে পটিয়া থেকে ওমান ফেরত এক প্রবাসীকে তুলে কক্সবাজারে নিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে নিহত মোহাম্মদ জাফরের মামা আহমদ নবী বাদী হয়ে পটিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বেশ্বর সিংহের আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন গত ১৬ আগস্ট রোববার। মামলায় চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ও হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। আদালত সিআইডিকে তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বাদীর আইনজীবী নুর মিয়া জানিয়েছেন। দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!