Home | অন্যান্য সংবাদ | বিশ্বনবির ভালোবাসাই ঈমানের পূর্বশর্ত

বিশ্বনবির ভালোবাসাই ঈমানের পূর্বশর্ত

image_printপ্রিন্ট করুন

file-28

মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ : আল্লাহ তাআলা বিশ্বজাহানের জন্য প্রভু। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্বজাহানের জন্য রহমত। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, ‘এবং আপনাকে বিশ্বজাহানের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।’

হিজরি সনের তৃতীয় মাস ‘রবিউল আউয়াল’ আসলেই মুসলিম উম্মাহর মাঝে আলাদা অনুভূতি ও অনুপ্রেরণা জাগ্রত হয়। কারণ এ মাসেই শাফায়াতের কাণ্ডারি বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ পৃথিবীতে শুভাগমন করেছেন। আবার এ মাসেই তিনি ইন্তিকাল করেছেন। এটা আশেকে রাসুলদের অন্যতম গুণ।

বিশ্বনবির শুভাগমন ও ইন্তিকালের মাসে মুসলিম উম্মাহকে তাঁরই আদর্শের যথাযথ অনুসরণ ও অনুকরণ করতে হবে। শিরক এবং বিদায়াতমুক্ত কুরআন সুন্নাহভিত্তিক সুন্দর সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশ্বনবির ভালোবাসা তথা তাঁর সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণকে ঈমানের পূর্বশর্ত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন, ‘রাসুল তোমাদের জন্য যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করো; আর যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা বর্জন কর।’

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘সুতরাং যাহারা তাঁর প্রতি ঈমান আনে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং তাঁর সঙ্গে যে নূর (কুরআন) অবতীর্ণ হয়েছে উহার অনুসরণ (গ্রহণ) করে; তারাই সফলকাম।’ (সুরা আ’রাফ : আয়াত ১৫৭) উল্লেখিত আয়াতে কারিমা থেকে বুঝা যায় যে, বিশ্বনবির প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর ওপর নাজিলকৃত কুরআনের অনুসরণ অনুকরণ করা ঈমানের অন্যতম শর্ত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ প্রসঙ্গে হাদিসে উল্লেখ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার হতে পারবে না; যতক্ষণ না পর্যন্ত আমার প্রতি তোমাদের ভালোবাসা তোমাদের নিজেদের, তোমাদের সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা ও সমগ্র মানবজাতি অপেক্ষা বেশি না হবে। (বুখারি ও মুসলিম)

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসার উজ্জ্বল প্রতীক হলেন সাহাবায়ে কেরাম। যারা তাঁর জন্য জীবন দিয়েছেন এবং জীবন দিতে সব সময় প্রস্তুত থাকতেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে গিয়ে শিরক এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকাও ঈমানের দাবি। তাছাড়া বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শুভাগমন এবং ইন্তিকাল নিয়ে বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াছাড়ি করাও ঠিক নয়। যে বাড়াবাড়ি কারণে আল্লাহ তাআলা ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদে ওপর আজাব ও গজব নাজিল করেছেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন-সুন্নাহর বিধান অনুসরণ ও অনুকরণ করে বিশ্বনবির প্রকৃত ভালোবাসা অর্জন করার তাওফিক দান করুন।

কেননা বিশ্বনবির আদর্শ অনুসরণ করে তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনই ঈমানের পর্বশর্ত এবং আল্লাহর ভালোবাসা লাভের একমাত্র উপায়। আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুহাম্মাদিকে বিশ্বনবির আদর্শ বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!