Home | সাহিত্য পাতা | ডাঃ ফরিদা ইয়াসমিন সুমি’র ৩টি কবিতা

ডাঃ ফরিদা ইয়াসমিন সুমি’র ৩টি কবিতা

image_printপ্রিন্ট করুন

565

কী করি আমি আমাকে নিয়ে

চারদিক বড় নিঝুম, চুপচাপ
হঠাৎ হঠাৎ রাতজাগা পাখির ডাক
এসময়ে আবারো সেই ভাব চেপে বসে
কী করবো আমি আমাকে নিয়ে!
যা চাই না তা-ই চাই
যা করবো না মনে করি, তা-ই করি
এখন কী করি আমি,
আবারো সেই ভাব জেগে ওঠে,
কী করবো আমি আমাকে নিয়ে!
ঝলমলে রোদ্দুরে ছায়ারা জন্মায়
শিকের গরাদে ঠেকে যায় মাথা
তবু বুঝি কিছু চাইবার থেকে যায়,
নীল আকাশটা তাকিয়ে আছে যেনো বা
মেঘদল, গাছের পাতা, জুঁইয়ের ঝাড়
সবকিছু কেমন জ্যান্ত জ্যান্ত মনে হয়!
আবারো সেই ভাব চেপে বসে,
এখন কী করি আমি,
কী করি আমি আমাকে নিয়ে!
ঘাস পাতা ফুল, কাঁটা সবকিছুর ওপর শিশির পড়ে
ইচ্ছে করে ঝনঝন শব্দে কিছু নিয়ম ভেঙে ফেলি
কিছু সাজিয়ে রাখি শোকেসের লোক -দেখানো তাকে!
আকাশ যখন ভালো করে নীল হয়ে উঠতে বাকি
বাড়ির দেয়ালগুলোও যখন ঘুম ঘুম ভাব করে থাকে
আবারো সেই ভাব জেগে ওঠে
কী করবো আমি আমাকে নিয়ে
কী করি আমি আমাকে নিয়ে!

মধ্যপ্রহর

পথ বলে দিক পথের ঠিকানা
অস্তিত্বের প্রগাঢ় অনুভব হোক দীপ্তিময়
ক্লান্ত হতে চাই না বিরামহীন সাঁতার থেকে
উত্তুঙ্গ ঢেউয়ের অনেক স্তরই ঘূর্ণায়মান ফেনা বোঝে
সৃষ্টির শব্দ শুনে শুনে পরিবর্তনের শব্দটুকু ভালোবাসি
চিৎ সাঁতার ডুব সাঁতারে ষ্ফীত সমুদ্রজলে স্বার্থক উদ্ভাস
মধ্যপ্রহরের কমলা-আগুন তাপ পুড়িয়ে দেয় সীমারেখা
অন্তর্গত স্রোতোধারায় সত্যের শক্তি ঘুরপাক খেয়ে চলে
আত্মাকে রমণের আনন্দে প্রাণে জাগে আত্মোপলব্ধি
প্রেমাবেশের সন্তরণে গোপন পরমাত্মায় ঈশ্বরকে খুঁজি
রুচিস্নিগ্ধ উদাস পায়ে শিথিল অথচ অনর্গল হেঁটে চলি
জীবনবোধের গভীরে কাল্পনিক পরিণতিটুকু নিয়ে!

অসমাপ্ত কাহিনী

অনির্বচনীয় রঙ -রূপ, গর্বের ঐশ্বর্য আর
কার্পণ্যহীন সুরভি – সম্ভার দিয়েছিলে উজাড় করে
কলমের নিবে ঝরে পড়া তারার মুক্তো,
মদির যৌবনে ভরপুর ছিলো তোমার খাতার পাতা।
প্রতিটি শব্দে চমকে উঠতে দেখেছি ধবধবে শাদা বিদ্যুৎ
স্ফুলিঙ্গ জেগেছে অকুণ্ঠ উচ্চারণের অকল্পনীয় আমেজে।
হৃদয়ভেদ করে যাওয়া দ্রুতগামী তীরের মতো মৃত্যুতে
অসমাপ্ত কাহিনীর মতো স্থায়ী বেদনায় স্থির রেখে গেলে।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!