Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | করোনায় থমকে রয়েছে নিষ্পত্তি, ৮ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩৫ হাজার মামলার স্তূপ

করোনায় থমকে রয়েছে নিষ্পত্তি, ৮ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩৫ হাজার মামলার স্তূপ

image_printপ্রিন্ট করুন

নিউজ ডেক্স : ৩৫ হাজার ১৫৯টি মামলা নিষ্পত্তির ভার ৮ মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কাঁধে। করোনাকাল শুরু হওয়ার পর গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত থেকে প্রাপ্ত তথ্যে মিলেছে এ পরিসংখ্যান।

এরপর গত চারমাস ধরে আদালতে মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তি বন্ধ থাকায় বিশাল এ মামলার স্তূপ নিয়ে হিমশিম অবস্থা ৮ মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের। ৮ আদালতের মধ্যে দায়িত্ব পালন করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন ৭ জন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর মামলাগুলো নিষ্পত্তি করাই বড় চ্যালেঞ্জ -বলছেন আইনজীবীরা।

সিএমএম আদালতের নেজারত শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত মার্চ মাস শুরু হয়েছিল ৩৪ হাজার ৩৩টি মামলা দিয়ে। এরপর মামলা দায়ের হয় ২ হাজার ৩৭১টি। অন্যভাবে পাওয়া গিয়েছিল ৬৫২টি মামলা। সবমিলে মার্চ মাসে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৩৭ হাজার ৫৭টি। এর মধ্যে সিএমএম মোহাম্মদ ওসমান গনির নেতৃত্বাধীন মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে দোতরফাসূত্রে ১৯০টি এবং অন্যভাবে ১ হাজার ৭০৭টি মামলা। মার্চ মাস শেষে বিচারাধীন থেকে যায় ৩৫ হাজার ১৫৯ মামলা।

এরই মধ্যে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করা হয় জরুরি জামিন শুনানির কথা মাথায় রেখে। সম্প্রতি আইনজীবীদের দাবির মুখে মহানগর ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ সংশ্লিষ্ট আদালতগুলোতে সিআর মামলা দায়ের ও আত্মসমর্পণের বিষয়গুলো আগের অ্যাকচুয়াল পদ্ধতিতে চালু হওয়ায় মামলার সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক কার্যক্রম এখনো শুরু না হওয়ায় মামলা নিস্পত্তি হচ্ছে না।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট আবিদ হোসেন জানান, মুখ্য মহানগর হাকিমের নেতৃত্বে মেট্রো ম্যাজিস্ট্রেসির ৮টি আদালতে মামলা নিসপত্তি সংক্রান্ত বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মামলা নিস্পত্তিও থমকে আছে। করোনা পরিস্থিতিতে আদালতিক কার্যক্রম থমকে যাওয়ার কারণে গত মার্চে মামলার যে পরিসংখ্যান ছিল তা থেকে কমেনি।

তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেসির ৮টি আদালতের মধ্যে সিএমএম হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ওসমান গণি। তাঁর নেতৃত্বে রয়েছেন অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম (এসিএমএম) মহিউদ্দিন মুরাদ, মহানগর হাকিম আবু ছালেম মোহাম্মদ নোমান, খায়রুল আমিন, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, সারোয়ার জাহান ও মেহনাজ রহমান।

এ ব্যাপারে মহানগর হাকিম আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্ব পালনকারী এপিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ওসমান উদ্দিন জানান, মহানগরে অপরাধের মাত্রা একটু বেশি হওয়ায় এসব আদালতে মামলার সংখ্যাও বেশি।

তবে গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে আদালত থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্কুল কলেজ বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে আদালতে আর মামলার বিচারিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে মামলার স্তূপ হয়ে থাকে। দৈনিক আজাদী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!