ব্রেকিং নিউজ
Home | উন্মুক্ত পাতা | করোনার থাবা : প্রেক্ষিত সচেতনতা ও মানবিকতা

করোনার থাবা : প্রেক্ষিত সচেতনতা ও মানবিকতা

আবদুল খালেক : বিশ্বের সব ক’টি দেশ আজ করোনার হিংস্র থবায় ক্ষত বিক্ষত। কিছু কিছু রক্তক্ষরণ  দৃশ্যমান আবার কিছু কিছু রক্তক্ষরণ লোকচক্ষুর আড়ালে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ  আজ গলদঘর্ম, কি পরিকল্পনা পেশ করবে জাতীর সামনে; কোন পথইবা দেখাবেন জাতীকে বাঁচানোর জন্য। বিশ্বের নামীদামী  চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও সংস্থাগুলো কোন কূলকিনারা করতে পারেনি এই ভয়াবহ সংক্রামক করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য আজ অবধি। দিতে পারেননি সুনির্দিষ্ট  কোন প্রতিষেধক বা ঔষধের সন্ধান। এমতাবস্থায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। পৃথিবীর উন্নত দেশ সমুহের অবস্থা আরো নাজুক। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বনি আদম অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হচ্ছে করোনা নামক ঘাতক ভাইরাসের কাছে।

আমার প্রিয় জন্মভূমি সবুজ শ্যামল ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশও রেহাই পায়নি প্রানঘাতি ভাইরাস করোনার থাবা থেকে। অবস্থা তেমন ভয়াবহ না হলেও মোটেই  ঝুঁকিমুক্ত নয়। তাই সরকার ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। করোনার মারাত্মক সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা,অভিজ্ঞ চিকিৎসক প্রতিরোধকারী দেশ সমূহের অনুসৃত  পদক্ষেপ পদাংক অনুসরণ করত: আরো বেশী সতর্ক ও সচেতন হওয়া জরুরী। কিন্তু গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে আমাদের দেশের অধিকাংশ লোক এ’ ব্যাপারে চরম উদাসীন। অনেক লোক হীনমন্যতার পরিচয় দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য বাসাবাড়িতে মজুদ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। পক্ষান্তরে অধীক পণ্য কেনার সুযোগে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি করেছে। অথচ চাহিদামত পণ্যের যোগান, সরবরাহ ও আমদানী সবই ঠিক ছিল।     

দেশের মানুষ যখন করোনা থেকে রক্ষার জন্য আত্মরক্ষার জন্য আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করছে ঠিক সেই সময় মানবতার দুশমন কিছু ব্যবসায়ী মানুষের আতংক ও বিপদকে পুঁজি করে অনৈতিক ভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মানবতার এহেন মহাসংকট ও আপদকালীণ সময়ে স্ব স্ব অবস্থান থোকে সহানুভূতিশীল ও মানবিক হওয়ার কথা ছিল, সেখান এমন ঘৃনিত ও বিবেক বর্জিত কাজ কাম্য নয়। বরাবরের মত খুচরা বিক্রেতা পাইকারদের, পাইকাররা আড়তদার বা মিল মালিকদের  উপর দোষ চাপাতে সিদ্ধহস্ত। আমরা যে যে ধর্মেই বিশ্বাস করিনা কেন সব ধর্মেই কিন্ত মন্দ কাজের মন্দ ফলভোগের কথা বলা আছে। প্রশাসন দারা কতইবা তাদের পাহারা দেয়া সম্ভব? যদি তাঁদের বিবেক জাগ্রত না হয় বা পরকালে জবাবদিহির ভয় না থাকে। তাই সরকার থেকে বার বার সাবধান করা সত্বেও ব্যবসায়ীরা কোন রকম তোয়াক্কা করছেন না। অবশ্য পাবলিক বলছে পিঁয়াজ কেলেংকারীর জন্য দায়ীদের উপযুক্ত শাম্তি না হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট  আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এখনই তাঁদের লাগাম টেনে ধরার সঠিক সময়। অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতে জাতীর দু:সময়ে তাঁদের নিকট জনগণের অসহায় আত্মসমর্পণ করা ছাড়া কোন বিকল্প থাকবে না।           

করোনার ভয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আরেকটা  লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, ফার্মেসীতে লাইন ধরে বিপুল পরিমান ঔষধ ক্রয়। নিয়মিত সেবন করতে হয় এমন প্রেসক্রাইভড ঔষধের পাশাপাশি হাই এন্টিবায়োটিক ও এন্টিহিসটামিন ঔষধ কিনে বাসাবাড়ীতে মজুদ করছে। অনেকের ধারনা করোনায় আক্রান্ত হলে এসব ঔষধই সেবন করতে হবে। তখন চাহিদামত না পাওয়ার ভয়ে নাকি আগাম সতর্কতা। অথচ এই উচ্চ মাত্রার ঔষধ রেজিষ্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া সেবন ও প্রয়োগ অত্যন্ত ভয়ানক ও ঝুঁকিপূর্ণ। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আমাদের এ’ কথা ভুলে গেলে চলবেনা, কুনাইন জ্বর সরাবে, তবে কুনাইন সরাবে কে?   

করোনার সংক্রমণ থেকে  নিজ, পরিবার ও সমাজের লোকদের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত সহজ একটা ব্যবস্থার নাম কোয়ারেন্টাইন। যার অর্থ হল সংগনিরোধ। নিজের দ্বারা প্রিয়জন যাতে আক্রান্ত না হয় সেজন্য নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ রাখা। কিন্তু আমাদের সমাজে কিছু বিদেশ ফেরত ব্যক্তি এ’টাকে অপমান মনে করছে।পাছে লোকে কিছু বলে সেটা চিন্তা নাকরে সকলের উচিত রোগ গোপন না করে চিকিৎসা গ্রহন করা। চিকিৎসাহীন অবস্থায় যেখানে ধুঁকে ধুঁকে মরার সম্ভাবনা শতভাগ, সেখানে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও কিন্তু শতভাগ।       

biman-ad

আশার কথা হল জাতীর সংকটময় মুহূর্তে কিছু মহৎ ব্যক্তি,সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান  মানবিকতার হাত প্রসারিত করেছে। করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধের সহায়ক ও প্রয়োজনীয় সরন্জামাদি প্রস্তুত ও সরবরাহ করছে। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে জীবন রক্ষাকারী সরন্জামাদি যাতে দ্রুত জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছোনো যায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সরকারী ও ব্যক্তিগত  সাহায্য সহযোগিতার। বিত্তবানদের সর্বাগ্রে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা যাতে এ’কথা ভুলে না যাই-মানুষ মানুষের জন্য। সকল প্রকার সাবধানতা, সতর্কতা ও স্বাস্থ্য বিধি মানার ক্ষেত্রে কোন শৈথল্য প্রদর্শন জাতীর জন্য সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। সর্বোপরি আসুন মহান প্রভুর নিকট ধর্না দেই। সকল প্রকার পাপ ও অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থেকে দয়াময় আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তাঁর উপরই পূর্ণ ভরসা করি।  লেখক- অধ্যক্ষ, আধুনগর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!