Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের টয়লেট-নলকূপ যেনো বিষফোঁড়া

উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের টয়লেট-নলকূপ যেনো বিষফোঁড়া

image_printপ্রিন্ট করুন

K H Manik Pic Ukhiya 18-11-2017 (2)

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া : কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা কয়েক হাজার কাঁচা টয়লেট ও গভীর নলকূপ এখন বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের সুবিধার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এসব টয়লেট আর নলকূপ করা হলেও তা হয়ে উঠেছে স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রধান কারণ। বেশিরভাগ নলকূপ, টয়লেটের খুব কাছে তৈরি করায় খাবার পানিতে মিশে যাচ্ছে জীবাণু। তবে প্রশাসন বলছে, আর কোন অপরিকল্পিত টয়লেট বা নলকূপ স্থাপন করতে দেয়া হবে না। মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার ঢল শুরু হওয়ার পর উখিয়ার বালুখালী-কুতুপালং এলাকায় তড়িঘড়ি করে, হাজার হাজার কাঁচা টয়লেট আর নলকূপ স্থাপন করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও বেসরকারি সংস্থা। যার বেশিরভাগই অপরিকল্পিত। নিয়ম অনুযায়ী, অন্তত ত্রিশ ফুট দূরত্ব রেখে নলকূপ ও টয়লেট স্থাপন করতে হয়। না হলে টয়লেট থেকে ব্যাকটেরিয়া মিশে যেতে পারে নলকূপের পানিতে। অথচ এখানে বেশিরভাগ টয়লেট ও নলকূপের দূরত্ব মাত্র কয়েক ফুট। রোহিঙ্গারা বলেন, ‘নলকূপের পানি দিয়ে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। বাচ্চারা পানি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বসত ঘরের পাশেই বাথরুম, নলকূপ পানি খেতে খুব কষ্ট হচ্ছে।’ এভাবে পাশাপাশি অগভীর নলকূপ আর টয়লেট স্থাপনে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করছেন গণস্বাস্থ্য মেডিকেল টিম মেডিকেল অফিসার ডা. পারভীন আক্তার। তিনি বলেন, ‘টয়লেট থেকে নলকূপ অনন্ত ১৫-২০ হাত দূরে হতে হয়। এখানে পরিকল্পনা মত কিছু হচ্ছে না।’ তবে এসব নলকূপ অপসারণের উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি আর কোন অপরিকল্পিত টয়লেট বা নলকূপ স্থাপন করতে দেয়া হবে না বলে জানালেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘এরকম অপরিকল্পিত কাজ আর করতে দেওয়া হবে না। এখন যা কাজ হচ্ছে তার সবটাতে সরকারের মনিটরিং থাকবে।’ প্রশাসনের দেয়া তথ্য মতে, উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে নতুন পাঁচ হাজার পাকা টয়লেট ও তিন হাজার নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!