Home | দেশ-বিদেশের সংবাদ | অনুমোদন ছাড়াই পাথর উত্তোলনের হিড়িক

অনুমোদন ছাড়াই পাথর উত্তোলনের হিড়িক

image_printপ্রিন্ট করুন

65318_stone

নিউজ ডেক্স : পার্বত্য এলাকায় পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধে সরকারের উচ্চ মহলের সিদ্ধান্ত থাকা স্বত্ত্বেও চলছে পাথর উত্তোলন। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়িতে ডিসির অনুমোদন ছাড়াই বেশ কিছুদিন ধরে পাথর উত্তোলন চলছে।

এসব পাথর বিক্রি হচ্ছে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সড়কসহ বিভিন্ন ব্রিজের কাজে। প্রতি ঘনফুট পাথর বিক্রি হচ্ছে ১৬০টাকা মূল্যে। প্রকাশ্যেই চলছে বেআইনীভাবে পাথর উত্তোলনের রমরমা ব্যবসা।

সোনাইছড়ির স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জনৈক বশির আহমদে মূলত এই কাজের সাথে জড়িত। তার নিয়োগকৃত শ্রমিকরা চেরার খালের শাখা প্রশাখা ও পাহাড় খোদাই করে বিপুল পরিমাণ পাহাড়ী পাথর তুলে বটতলী-চুইল্লাপাড়ার মধ্যবর্তী স্থানে মজুদ করেছে।

তার বাড়িতেও মজুদ রয়েছে বিপুল পরিমাণ পাথর। অবৈধ এ পাথর উত্তোলন কাজের ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে রয়েছেন সোনাইছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি বাহান মারমা। তাঁর নিয়ন্ত্রণে পাথর উত্তোলন চলছে হরিণমারা, ক্যংদং ও মহেশকুম ঝিরি থেকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য জানান, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় প্রশাসন চুপ রয়েছে। এমন অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।

সোনাইছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান বাহান মার্মা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হওয়ায় বশির আহমদের সাথে অনেকটা নিরাপদেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বশির আহমদ জানান, পাথর উত্তোলনের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদনের করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার প্রতিবেদন দিয়েছেন। অনুমতি না পেলেও কিছু পাথর তুলেছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

অপরদিকে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বাহান মারমা পাথর উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘অনুমোদনের জন্য আমিসহ আরো তিনজন প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি। সার্ভেয়ার প্রতিবেদন দিয়েছেন। তবে এখনো অনুমোদন পাইনি’।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাথর উত্তোলনের আবেদন করলেই যেন বৈধতা পান পাথর খেকোরা। অনুমোদন পাওয়ার আগেই তারা হাজার হাজার ঘনফুট পাথর তুলে নেন। প্রশাসনের অনুমোদনের কোন তোয়াক্কা করেন না তারা। তাদের মতে, অনুমোদন প্রক্রিয়ার এ বিষয়টির উপর গুরুত্ব না দিলে আগামীতে নিয়ন্ত্রিণহীন হয়ে পড়বে পাহাড় আর পাথর রক্ষা।

এই প্রসঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস.এম সারওয়ার কামাল বলেন, “উপজেলায় পাথর উত্তোলনের জন্য কাউকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি”।

পাথর উত্তোলন প্রসঙ্গে বান্দরবান জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহরাব হোসেন জানান, পাহাড় ও ঝিরি ঝর্ণার পাথর এবং পাহাড়ের ভেতরে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বোল্ডার পাথর একমাত্র পানির উৎসের ক্ষেত্র। তাই এসব ক্ষেত্র রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!