
এলনিউজ২৪ডটকম : লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগরে চলছে কুঠিরশিল্প মেলার নামে চলছে অবৈধ লটারির রমরমা বাণিজ্য। মেলায় নাগরদোলা, মৃত্যুকূপ, সার্কাসসহ বিভিন্ন স্টলের পাশাপাশি বিক্রি করছে সোনালী লাকী কুপন (লটারি)। যা সম্পূর্ণ অবৈধ। এতে প্রতিদিন লোহাগাড়ার নিরীহ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। নৈতিক অবক্ষয় হচ্ছে যুব সমাজের। গত ৩ নভেম্বর এ মেলার শুরু হয়ে মাসব্যাপী চলবে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু মেলা প্রাঙ্গনে নয় এসব লটারি রিকশায় করে বিক্রি করা হচ্ছে লোহাগাড়ার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও প্রধান সড়ক গুলোতে। উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হয়েছে লাকি কূপন বুথ। এছাড়াও ৪০/৫০ জন মাঠ কর্মী রিকশা ও অটোরিকশা সিএনজিতে মাইক বেঁধে লটারি কূপন নিয়ে ছুটছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। প্রত্যেক কর্মী দৈনিক দশ থেকে পনের হাজার টাকার কুপন বিক্রি করে। প্রতিটি কুপনের মূল্য রাখা হয়েছে ২০ টাকা। তাছাড়া উপহার সামগ্রী হিসেবে নিুমানের পণ্য দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, স্কুল কলেজের সামনে লটারির টিকেট কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। রাতে মাইকিং এর কারণে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশুনার ব্যঘাত ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
হতদরিদ্র থেকে শুরু করে রিক্সাওয়ালা, দিনমজুর, ছাত্র-ছাত্রী, উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণী, গৃহিনী, ব্যবসায়ী এমনকি শিশুরাও কিনছে এই লটারি কুপন। এলাকার সহজ-সরল মানুষদের আকৃষ্ট করতে র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠান সরাসরি ক্যাবল অপারেটর সার্ভিসের মাধ্যমে টিভিতে প্রচার করা হচ্ছে।
সোনালী কূপন লটারির পরিচালক সুলতান জানিয়েছেন, লটারি বিক্রির জন্য কোন অনুমোদন তাদের কাছে নেই।
এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব আলম জানান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কুঠিরশিল্প মেলায় কুপন বিক্রির ব্যাপারে তিনি অবগত আছেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মেলার নামে সকল অবৈধ কর্মকান্ড বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা কুটিরশিল্প মেলার নামে অবৈধ লটারির রমরমা বাণিজ্য বন্ধের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner