
এলনিউজ২৪ডটকম: লোহাগাড়ায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে উপজেলা সদরের এক রেস্টুরেন্টের হল রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লোহাগাড়ার পুটিবিলা গৌড়স্থান নয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী ফারজানা আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার শাশুড়ি রাবিয়া খাতুন, দেবরের স্ত্রী আরজু আক্তার, জিয়াবুল হোসেন ও আব্দুল মজিদ।

ফারজানা আক্তার লিখিতে বক্তব্যে বলেন, গত ১৮ জুলাই তারা পারিবারিক দাওয়াতে আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ওই সুযোগে পরদিন ১৯ জুলাই সকাল ১১টার দিকে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ প্রতিবেশী দলিলুর রহমানের ছেলে ওমর আলীর নেতৃত্বে অন্তত ৭ জন স্থানীয় এবং আরও ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী তাদের ঘরে তালা ভেঙে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ঘরের সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং হার্ডডিস্ক খুলে নেয়। পরে নতুন তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চলে যায়।
তিনি আরো জানান, বিষয়টি জানার পর তারা বাড়িতে ফিরতে চাইলে স্থানীয়ভাবে হুমকি দেওয়া হয়, বাড়িতে গেলে মেরে ফেলা হবে। পরে ভয়ে সেদিনই লোহাগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। ওই রাতেই আবারও হামলা চালিয়ে ঘরের মূল্যবান মালামাল, স্বর্ণালংকার, কাগজপত্র, মোটরসাইকেল, লোহার বান্ডেল লুট করে এবং ঘরের আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে। এমনকি বৈদ্যুতিক বাল্ব, পানির ট্যাংক, মিটার, লাইন সব ধ্বংস করে আগুন পর্যন্ত লাগানো হয়। পরদিন (রবিবার) সেনাবাহিনী ক্যাম্পে বিষয়টি জানালে সেনা সদস্যদের সহায়তায় তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়। তবে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে জানান তিনি।
ফরজানা আক্তার বলেন, ২০২২ সালে ঘর নির্মাণের সময়ও এ সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছিল। আমার প্রবাসী স্বামী নাজিম উদ্দিনের ওপর প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল, যা স্থানীয়রা ঠেকিয়েছিলেন। ২০২৩ সালেও একই ধরণের হামলা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযুক্ত ওমর আলীর বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে কোনো ভাবেই জড়িত নই। উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আমাকে ও আমার পরিবারকে হয়রানি করার চেষ্টা চলছে।
লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফুর রহমান বলেন, হামলা ও ভাংচুর এবং লুঠপাটের একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Lohagaranews24 Your Trusted News Partner